হলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও পরিবেশবাদী অ্যাক্টিভিস্ট রবার্ট রেডফোর্ড আর নেই। তার জনসংযোগ কর্মকর্তা সিন্ডি বার্গার এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় ১৬ সেপ্টেম্বর উটাহ অঙ্গরাজ্যের সানড্যান্সে নিজের বাসভবনে প্রিয়জনদের ঘিরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রেডফোর্ড। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বার্তায় বলা হয়, ‘রবার্ট রেডফোর্ড চলে গেছেন, তাকে ভীষণভাবে মিস করা হবে। পরিবার শোকের এই সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কামনা করছি আমরা।’
রবার্ট রেডফোর্ড ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ও নির্মাতা। ‘বুচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সানড্যান্স কিড’ এবং ‘দ্য স্টিং’–এ তার অভিনয় বিশ্বজুড়ে তারকা খ্যাতি এনে দেয়। ‘আউট অব আফ্রিকা’ সিনেমার নায়ক হয়ে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রেডফোর্ড। তার হাত ধরেই গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী স্বাধীন চলচ্চিত্র উৎসব ‘সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’।
১৯৮০ সালে ‘অর্ডিনারি পিপল’ পরিচালনার জন্য একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জেতেন তিনি। ২০১৮ সালে অভিনয় থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দেন রেডফোর্ড।
উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট স্যান্টা মনিকার এক অবস্থাপন্ন ঘরে জন্ম নিলেও চার্লস রবার্ট রেডফোর্ড জুনিয়রের শিশু বয়সে তাকে সংগ্রাম করে জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে। মায়ের অসুস্থতা, বাবার সঙ্গে মানসিকভাবে দূরত্ব তৈরি হওয়া কিংবা কখনও স্কুল থেকে বিতাড়িত হওয়া যৌবনেও তার চলার পথ হয়েছিল কঠিন। নিজের চূড়ান্ত লক্ষ্যকে খুঁজে পাওয়ার আগে ইউরোপে শিল্পকলা নিয়ে পড়া রেডফোর্ডকে অর্থ আয়ের জন্য করতে হয়েছিল অনেক ছোটখাটো কাজ, ধরেছিলেন ছবি আঁকাও। পঞ্চাশের দশকে অভিনয়ে তার যাত্রা, তারপরই ১৯৬৯ এ পল নিউম্যানের সঙ্গে জুটি বেঁধে এলো তার বিখ্যাত সিনেমা- বাচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সানড্যান্স কিড। ১৯৮০ সালে তিনি ‘অর্ডিনারি পিপল’ নামে একটি সিনেমা পরিচালনা করেন। পরিচালক হিসেবে প্রথম চেষ্টাতেই এই প্যামিলি ড্রামা তাকে অস্কারে তাকে এনে দেয় শ্রেষ্ঠ পরিচালকের স্বীকৃতি, এর সঙ্গে তার এটি শ্রেষ্ঠ চলচিত্রের পুরস্কারও জিতেছিল। এরপর একে একে আসে এ রিভার রানস থ্রু ইট (১৯৯২), কুইজ শো (১৯৯৪), দ্য হর্স হুইসপারার (১৯৯৮) সিনেমাগুলো। ১৯৮১ সালে সানড্যান্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
এই কিংবদন্তির মৃত্যুতে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
/এস লুপিন


.jpg)