হাঙ্গেরির সদ্য নোবেলজয়ী লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই বাংলাদেশে একেবারে অপরিচিত ছিলেন না। কিন্তু তার পরিচিতি নির্দিষ্ট কিছু পাঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কেউ কেউ তার গল্প অনুবাদও করেছেন। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম, ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। বৃহত্তর পাঠক পরিসরে তিনি সেইভাবে পঠিত হননি। না হোন পঠিত, কিন্তু উল্লেখযোগ্য একজন লেখক হিসেবে তার নাম জানেন ইউরো-মার্কিন লেখক, সমালোচক ও পাঠকবৃন্দ। গত দু-তিন বছর ধরে নোবেল পাওয়ার দৌড়ে তিনি এগিয়ে ছিলেন, এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা গেছে। ওই অঞ্চলের পত্র-পত্রিকাগুলো এ রকম খবর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে প্রকাশও করেছে। এবার তো তিনি সমকালীন বিশ্বসাহিত্যের রথী-মহারথীদের অনেককে ছাড়িয়ে পুরস্কারটা জয় করে নিলেন।
তার এই জয়ে বাংলাদেশের পাঠক এবং কোনো কোনো লেখক আবারও চমকে উঠেছেন। তাদের প্রতিক্রিয়াটা এমন, নাহ্, চিনতে তো পারছি না। কেউ কেউ কটাক্ষ করে বললেন, নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হওয়ার পর-পর বাংলাদেশের অনেককে দেখা যায়, যেন আগে থেকেই তার সম্পর্কে জানতেন। এই কটাক্ষ থেকে বোঝা যায়, তারা যাকে পুরস্কার পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন, তিনি পাননি। তাদের পঠন-পাঠনের কথা বাদই দিলাম, জানাশোনার পরিধিও যে কম, সেটা বোঝা যায়। এ যুগে অন্তর্জালের সূত্রে কে পুরস্কার পেতে পারেন, সেটা জানা খুব কঠিন নয়। একটু অনুসন্ধান করলেই জানা যায়। কিন্তু না, এই পরিশ্রমটুকু কেউ করেন না। শুধু নিজে যাকে ভাবছেন পেতে পারেন তার বাইরে অন্য কিছু ভাবতে পারেন না। কিন্তু সাহিত্য তো নির্দিষ্ট কোনো দেশের নির্দিষ্টসংখ্যক পাঠকের ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্ব পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে যায়। সেদিক থেকে ক্রাসনাহোরকাই যে এবার পুরস্কার পেলেন, সেটা আকস্মিক ছিল না। এটা ঠিক, কখনো কখনো সুইডিস অ্যাকাডেমি এমন কাউকে পুরস্কার দিয়ে দেন, যার পরিচিতি বা বিশ্বজুড়ে পাঠকের সংখ্যা, খুবই কম। কিন্তু এবার তা ঘটেনি। পুরস্কার ঘোষণার আগে বেশ জোরেশোরেই বলা হচ্ছিল ক্রাসনাহোরকাইয়ের ভাগ্যের শিকে ছিঁড়তে পারে। যা-ই হোক, এবার এই লেখক সম্পর্কে কিছু কথা বলি।
লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ে প্রথম উপন্যাস সাতানট্যাঙ্গো। ১৯৮৫ সালে হাঙ্গেরীয় ভাষায় প্রকাশিত উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে কবি জর্জ সির্তেসের ২০১২ সালে নিউ ডাইরেক্টশনস্ প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশ করেন। ক্রাসনাহোরকাইয়ের ইংরেজিতে অনূদিত অন্য চারটি উপন্যাস হচ্ছে ‘মেলানকলি অব রেজিট্যান্স’, ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’, ‘সেইয়োবো দেয়ার বিলো’ এবং ‘ব্যারন হেনখেইমস্ হোমকামিং’।
সাতানট্যাঙ্গোর গল্পটা এ রকম। একটি মৃতপ্রায় গ্রাম বা এস্টেট। কয়েক দিন ধরে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে। স্থানীয় একটা কারখানা পরিত্যক্ত জমির ওপর স্থাপিত, সেখানে কোনো কাজ হচ্ছে না। পশুরা ঘর ও বস্তাবন্দি। এখানকার মানুষ ভ্রষ্টতা, প্রতারণা, যৌন যথেচ্ছাচারে লিপ্ত। মাতলামি আর যৌনবৃত্তি হচ্ছে সময় কাটানোর উপায়। তবু তারা কোনো কিছুর অপেক্ষা করে; হয়তো সেই অপেক্ষার অবসান হবে, নয় তো হবে শুরু। প্রথম বাক্যের অনবদ্য গদ্যে উন্মোচন ঘটে এ কাহিনির। সেই সঙ্গে চরিত্রগুলোর ভবিষ্যতের অন্ধকার অনুভূতির সঙ্গে লড়াই করবার ইশারাও পাওয়া যায়: ‘অক্টোবরের শেষের এক সকালে, জমিটার পশ্চিম দিকের ফাটল এবং এর লবণাক্ত মাটিতে নির্মমভাবে দীর্ঘ শরতের বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা পড়তে শুরু করার কিছুক্ষণ আগে ঘণ্টাধ্বনি শুনে ফুটাকি ঘুম থেকে জেগে ওঠে।’ এই ঘণ্টাধ্বনি ইরিমিয়াস নামের একটা চরিত্রের পুনরুত্থানের লক্ষণ, যিনি প্রায় আঠার মাস আগে এই বিশাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন তাকে মৃত মনে করা হতো।
এবার সে ফিরে আসছে। এভাবেই শুরু। বোঝাই যায়, গল্পটি হয় খুব সহজ অথবা খুব জটিল। পাঠক কীভাবে পড়বেন, তার অনুভব করবার ক্ষমতার ওপর সেটা নির্ভর করবে। এই বর্ণনা রূপকধর্মী, প্রতীকের অস্পষ্ট ব্যবহার, অন্ধকার ও আলো, পরিত্রাণ ও অভিশাপের বিপ্রতীপ অনুষঙ্গ গল্পটিতে বুনে দিয়েছেন ক্রাসনাহোরকাই। একটা অধ্যায়ের শিরোনাম এ রকম: ‘স্বর্গীয় সৃষ্টি? না কি হ্যালুসিনেশন?’ বৃষ্টির পাশাপাশি ধাতব রাস্তাটি এই উপন্যাসের সবচেয়ে অস্পষ্ট রূপক। সভ্যতার সঙ্গে গল্পের যেন কোনো সংযোগ নেই। প্রায় প্রতিটি চরিত্র এলাকাটি ত্যাগ করতে চায় বলে রাস্তার কথা বলে। এই সংযুক্তির মধ্য দিয়ে তারা সময়, স্থান ও ধ্বংসকে পরিমাপ করে। ধাতব রাস্তাটি কখনো ভাঙা জমির সবচেয়ে স্থিতিশীল কাঠামো হিসেবে দেখা যায় আবার কখনো কেবল হারিয়ে যাওয়া জায়গা বলে মনে হয়। একটি দৃশ্যে, মাতাল ডাক্তার, মদ খাওয়ার জন্য শুঁড়িখানায় যাচ্ছিলেন। পথে আরেক চরিত্র তরুণ এস্টি হরগোসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সে অল্প সময়ের জন্য তাকে আঁকড়ে ধরে। তার বাড়িতে মানুষ নেই। মানুষের সংস্পর্শ পায় না। এ কারণেই এভাবে আঁকড়ে ধরার এতটা আকুতি। এর পর সে পালিয়ে যায়: ‘সে ধাতব রাস্তায় পা রেখে অন্ধকারে চিৎকার করে বলে, এস্টি! আমি তোমার ক্ষতি করব না! তুমি কী পাগল হয়ে গেছো!
এখনি এখানে ফিরে এসো।’ কিন্তু কোনো উত্তর মেলে না। ‘ডাক্তার পেছনে ফিরে যান এবং দেখে অবাক হন যে তিনি শুঁড়িখানা থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। এবার তিনি শুঁড়িখানার দিকে আসতে শুরু করেন; কিন্তু কয়েক ধাপ পরেই পুরো পৃথিবী এক মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারে তলিয়ে যায়। তিনি অনুভব করেন, তার পা কাদায় পিছলে যাচ্ছে।’ উল্লিখিত উদ্বৃতির মতো এই উপন্যাসে ‘অন্ধকার’ শব্দটি ৭৬ বার ব্যবহৃত হয়েছে। পুরো উপন্যাসজুড়ে এই রূপকটি ছড়ানো।
ক্রাসনাহোরকাই উপন্যাসের কাহিনি ও বর্ণনায় সর্পিল রীতি অনুসরণ করেছেন। এর কাহিনি তাই সরলভাবে এগোয় না।
একবার মানবিক বিচ্ছিন্নতা বোধ থেকে সমষ্টিগত পরিচয়, আরেকবার সমষ্টি থেকে ব্যক্তিক পরিচয়ের মাধ্যমে আবর্তিত হতে থাকে। একবার আবদ্ধ আরেক বার সর্পিল হয়ে ওঠে। বিশৃঙ্খল সময়ের মধ্যে এবং বাইরে, উন্মাদ এবং সম্পূর্ণরূপে ক্লান্ত, এভাবে এগোতে এগোতে এক জায়গায় এসে স্থির হয়। এই যে অগ্রসর হওয়া এবং পিছিয়ে পড়া, ক্রাসনাহোরকাই এভাবে ব্যক্তিক ও সমষ্টিগত মনোবিজ্ঞানের কথা মনে করিয়ে দেন। জাক লাকাঁ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এই সর্পিল ঘূর্ণায়মান রীতিটি দেখিয়ে দেয় সম্পর্কের বিষয়টি কীভাবে আন্তব্যক্তিক ও আন্তমানসিক; অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকতার সঙ্গে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলে। এভাবেই ক্রাসনাহোরকাইয়ের প্রথম উপন্যাসটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটা একটা উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এই উচ্চাভিলাষী অন্বেষণ ঘটেছে পুনরুত্থিত চরিত্র ইরিমিয়াসের মাধ্যমে; যে ত্রাণকর্তা ও শয়তান। সে এমন একটা ভাষণ দেয় যা পুরো সম্প্রদায়কে আশার আলো দেখিয়ে একত্রিত করে। উপন্যাসের এই অংশে আবার ফ্রয়েডীয় দলগত মনস্তত্ত্বের প্রকাশ দেখি আমরা: ‘পরিস্থিতি অনুসারে, একটি গোষ্ঠী যে আবেগগুলি মেনে চলে তা উদার বা নিষ্ঠুর হতে পারে, কিন্তু সেগুলো সর্বদাই এতটা কর্তৃত্বপূর্ণ থাকে যে, তাতে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ, এমনকি আত্ম-সংরক্ষণের স্বার্থও কেউ অনুভব করতে পারেন না।’
এই উপন্যাসে এস্তি চরিত্রের মৃত্যু এবং ইরিমিয়াসের বক্তৃতা বাসিন্দাদের একত্রিত করেছে এবং বিশেষ ধরনের গোষ্ঠী-মনস্তত্ত্ব এতে স্থান করে নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ‘ছোট্ট শিশু’, যে ইরিমিয়াস এবং তার সহকর্মী পেত্রিনার সঙ্গে যোগ দেয়, সেও বুঝতে পারে তাকে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে ব্যক্তিগত পরিচয় ত্যাগ করতে হবে এবং ‘প্রভু’কে অনুকরণ করতে হবে: ‘এটা তার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল যে, তার নিজের সেরা বিকল্প ছিল প্রতিটি ছোট ছোট বিষয়ে ইরিমিয়াসকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে অনুকরণ করা। কারণ এভাবে চললে সে নিশ্চিত ছিল, কোনো খারাপ চমকের মুখোমুখি তাকে হতে হবে না।’
উপন্যাসের পরিসরে দেখা যায়, শুঁড়িখানায় কখনো মাকড়সা জাল বিস্তার করেনি। বিষয়টি এমন যে, শুঁড়িখানার ওয়েটার মাকড়সাদের দিকে তাকিয়ে আছে আর মাকড়সারা তাই দেখা দিচ্ছে না, অপেক্ষায় থাকবে। এই উপন্যাসের সমস্ত চরিত্র ফুটাকি থেকে সুন্দরী ও অবিশ্বস্ত মিসেস স্মিট, ড্রাইভার থেকে অতি ধর্মপ্রাণ মিসেস হ্যালিক্স সবাই অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষা একটা কিছু ঘটার। তাদের সবাইকে সে যেমন ধ্বংস করছে, তেমনি সে ত্রাণকর্তা। কিন্তু ক্রাসনাহোরকাই যেভাবে গল্প বলেন সেই গদ্যের ভঙ্গিটা সাধারণ নয়, সর্পিলভাবে অগ্রসর হয়।
এই উপন্যাসে একটা মাতাল নৃত্য আছে। সেটি হলো ট্যাঙ্গো, ক্রাসনাহোরকাই যাকে শয়তানি নাচ বলে আখ্যায়িত করেছেন। উপন্যাসটি লিখেছেনও এই নামে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, এই নাচটি উপন্যাসের গদ্যের বর্ণনাকে বিশেষ কাঠামো দিয়েছে। এর গদ্যে যে সর্পিলতা বা ঘূর্ণয়মান ভঙ্গি দেখা যায়, তা এই নৃত্যের আবহে প্রভাবিত। এই নৃত্যের জায়গাতেই সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়, এস্তির মৃত্যু আর ইরিমিয়াসের প্রত্যাবর্তনের ট্রমা অনুভব করার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। এই আখ্যানের দ্বিতীয়ার্ধে অগ্র-পশ্চাৎ সর্পিলতার সঙ্গে ব্যক্তিক বিচ্ছিন্নতা এবং বিচ্ছিন্নতার পূর্ববর্তী অবস্থায় বেশ কিছু চরিত্রকে ফিরে যেতে দেখি। নৃত্যটি অন্ধকারের কৌতুক এবং পঙ্গু উদ্বেগের অনুভূতির বিমিশ্রণকে মূর্ত। একই সঙ্গে তা উদযাপন ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, আশাবাদ ও হতাশাকে তুলে ধরেছে। নাচটি আসলে একটা বিন্দু, যার আগে ছটি পর্ব এবং সেই পর্বগুলো আবার পুনরাবৃত্ত হয় পরবর্তী ছয় পর্বে। এর মধ্য দিয়েই বন্যতা, বিচার এবং মানবজাতির পরিণামটি লক্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ইরিমিয়াস মানবিক এই সংকটের জন্য সবাইকে অভিযুক্ত করে আবার করেও না: ‘আমি নির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তিকে কোনো কিছুর জন্য দোষারোপ করছি না এবং তবুও... আমি আপনাদের এই প্রশ্নটি করতে চাই: আমরা সবাই কী দোষী নই? এই পর্বেই সম্মিলিতভাবে মানুষের দায়ী থাকার কথা উচ্চারিত হলো অথবা অস্বীকৃত হলো। এখানে এসেই উপন্যাসটি ন্যারেটিভের এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পরিস্থিতিকে বেকেটীয় অথবা কাফকায়েস্ক বলে মনে হতে পারে। উপন্যাসের ভাষা ও শব্দকে ক্রাসনাহোরকাই গলিয়ে দিয়ে একটা শব্দের সঙ্গে আরেকটা শব্দকে মিশিয়ে দিয়েছেন এভাবে: ‘এটাসকালছিলনাসন্ধ্যাছিলনাকেবলবহনকরাহয়েছিলগোধূলিরআলোএরকম
কিছু...’
শব্দগুলোকে বিচ্ছিন্ন করলে কথাগুলো দাঁড়ায় এ রকম: ‘এটা সকাল ছিল না, সন্ধ্যা ছিল না, কেবল বহন করা হয়েছিল গোধূলির আলো- এ রকম কিছু...’
সম্প্রদায়গত আত্মসংরক্ষণের বিষয়টি এই উপন্যাসে খোলামেলা নগ্ন ইচ্ছার কারণে গুরুত্বহীন হয়ে গেছে। এর প্রায় প্রতিটি চরিত্রই স্বার্থপর ও লোভী। গোষ্ঠীর সম্মিলিত বোধ আর নিঃসঙ্গতার টানাপোড়েন এখানে স্পষ্ট। তবে ব্যক্তিমানুষ এখানে যেন নরকবাস করে। সমাজতন্ত্রের শিকলে তারা এক অর্থে বন্দি। কিন্তু সমাধান কী? এ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মুক্তি পেয়েছে ভাবা যেতে পারে, আবার নাও পেতে পারে। আখ্যানের এই অস্পষ্টতা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে দেয় না। উপন্যাসটির সুনির্দিষ্ট অর্থপূর্ণ পাঠ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পাঠক শেষে পৌঁছান হতবুদ্ধিকর এক অবস্থায়
।
ক্রাসনাহোরকাইয়ের ভাষা ও শৈলীর কথাটা এখানে বিশেষভাবে বলা দরকার। তিনি দীর্ঘ বাক্য লেখেন। কমা বা সেমিকোলন ব্যবহার করে এই দীর্ঘ বাক্য রচনা করেন তিনি। তিনি মনে করেন, উপন্যাসে ব্যবহৃত ভাষা হওয়া উচিত মুখের ভাষা। আর মুখের সহজাত ভাষাভঙ্গিতে পূর্ণ যতি থাকে না। লেখাতেও তাই, বিশেষ করে উপন্যাসের বাক্য পূর্ণযতিহীন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি লেখেনও সেইভাবে। আমি তার কয়েকটি বইয়ের বাক্যগুলো পড়ে দেখেছি। সেই বাক্যগুলো পড়ার জন্য নয়, বলার জন্য। কথিত ভাষা বলে তিনি অনেক দীর্ঘ বাক্য লেখেন। এক-একটা বাক্য প্রায় এক পৃষ্ঠাজুড়ে লিখেছেন ক্রাসনাহোরকাই। এই ভাষা বোধের দিক থেকে দুর্বোধ্য নয়, তবে অভিনব নিঃসন্দেহ। তবে আখ্যান অনির্দেশ্য থাকে, ফলে অনেকটা ছোটগল্পের মতো নানা অর্থ করা যায়। তার অন্য উপন্যাসগুলো পড়লে অবশ্য তার ভাষারীতি ও আখ্যান প্রকাশের ভঙ্গিটা বোঝা যাবে। ততদিন পর্যন্ত পাঠক হিসেবে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।