আরেকবার তোমার বর্ষাস্নাত রূপ দেখতে চাই।
খুব শাশ্বত খুব আদিম, সনকা তুমি
নদীর ঘাটে ঈশ্বরী পাটনির চোখে যে রূপে, যে স্নেহে আবির্ভূতা,
তোমার কদম, তমাল, হিজল বৃক্ষসকল বর্ষায় স্নাত হোক।
তুমি: শীত, হেমন্ত, বসন্তে নও, বড় বেশি মনোহরা, চটুল ফুল্লরা।
গ্রীষ্মে নও। বৈশাখে তীব্র রুদ্রাণী।
মাগো, শুধু বর্ষণে, অঝোর স্নেহে সিক্ত ভালোবাসায় বাংলা-জননী তুমি।
তোমার জরায়ুতে আরেকবার ভ্রূণরূপে অন্ধকারে চিনে নিই নিজের স্বরূপ
চর্যাপদের সান্ধ্য আলোয় উদ্ভাসিতা ডম্বিনী শবরী
মনসার গীতে সনকা, বেহুলার অনন্ত বিলাপে, আদিম ধীবরা সত্যবতী হয়ে
আমাকে আরেকবার জন্ম দাও নির্জন দ্বীপের শয্যায়।
কুমারী মাতৃকার সকল সন্তাপে আমাকে ভাসাও প্রবাহমান ধারায়,
স্তন্য দাও জননী কৃত্বিকা।
প্রস্তরযুগে অরণ্যবাসিনী গোত্রমাতা তুমি।
মকরবাহিনী গঙ্গা, মেঘনা, মধুমতী জন্ম জন্মান্তরে জন্মভূমি তুমি।
আরেকবার আমাকে জন্ম দাও আলাওল রূপে
রক্তপিপাসু আরাকানে কঠিন প্রস্তরে রাজকূটচালে ক্লান্ত-ধ্বস্ত মাতৃকণ্ঠ পিপাসিত কবি।
জন্ম দাও হে জননী বরষার নিবিড় প্রান্তরে
জন্ম দাও রত্নগর্ভা, শশাংক, গোপালরূপে,
সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা বিনয় বাদল হয়ে
ঈষাণী মেঘের শক্তিধারী বীরশ্রেষ্ঠ, বীরোত্তম মুক্তিযোদ্ধা করে।
জন্ম দাও শ্যামলী জননী পুঞ্জীভূত বজ্রকরে
বাংলার আদিম বরষা হে জননী
আমাকে তোমার তীব্র প্লাবনে ভাসাও
আরেকবার সিক্ত করো অঝোর বর্ষণে।