জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো দল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় পুরোটা সময় জাপানের শাসনক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।
এবারের নির্বাচনে তাদের শরিক দল কোমেইতোসহ এলডিপি মোট আসন জিতেছে ২১৫টি। যেটি শেষ ১০ বছরে তাদের সবচেয়ে বাজে ফলাফল।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধীদল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব জাপান (সিপিডিজে) পেয়েছে ১৪৮ আসন। আর সরকার গঠনের জন্য মোট প্রয়োজন ২৩৩ আসন। যেটি নিশ্চিত করতে পারেনি কেউই।
তাই দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দলগুলো জোট গঠন করে সরকার গঠনের জন্য ৩০ দিন সময় পাবে।
এবারের নির্বাচনে প্রত্যাশিতভাবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট শিগেরু ইশিবার দল এলডিপিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তহবিলজনিত কেলেঙ্কারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই বেকায়দায় ছিল দলটি। নির্বাচনে তারই প্রতিফলন দেখা গেল।
গত নির্বাচনে এলডিপি জোট আসন জিতেছিল ২৭৯টি। অন্যদিকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিরোধীদল সিপিডিজে। গত নির্বাচনে মাত্র ৯৮ আসনে জয় পাওয়া দলটি এবার নিশ্চিত করেছে ১৪৮ আসন।
এদিকে অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মূল্য সর্বশেষ তিন মাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কারণ বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপান ফোরসাইটের প্রতিষ্ঠাতা তোবিয়াস হ্যারিস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা আজ এলডিপি নেতা হিসেবে পদত্যাগ করুন বা না করুন, নতুন সরকারে তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকা সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে। তবে তিনি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকতে পারেন।’
অন্যদিকে সিডিপিজের নেতা ইয়োশিকো নোডা জানিয়েছেন, বিদায়ীদের উৎখাত করার চেষ্টা করতে তিনি অন্য দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি