যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দেশটির অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। ট্রাম্প একবার বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে দেশের ভেতরের শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা। আইনজীবী, ডেমোক্র্যাট ও অন্যদের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি।
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদে কী দেখা যাবে? তিনি কী কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন? প্রতিশোধপরায়ণ একটি প্রশাসন গড়ে তুলবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের কথা আক্ষরিকভাবে ধরলে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে দেখা যাবে তাকে।
ট্রাম্প বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ বক্তব্য দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। ২০২৪ সালে এসেও তা একটুও কমেনি। তিনি অভিবাসী, ডেমোক্র্যাট, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারক কাউকেই ছেড়ে কথা বলেননি। যেই তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন তাকেই বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসির থিংকট্যাংক নিসকানেন সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জিওফ্রে কাবাসেরভাইস বলেছেন, সমর্থকরা এবার আশা করছেন যে ট্রাম্প প্রথম মেয়াদের কর্মকাণ্ডকেও ছাড়িয়ে যাবেন। তিনি যা বলেছেন তা করবেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, এর অর্থ দাঁড়াতে পারে লাখো অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাবেন ট্রাম্প, বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন তিনি এবং প্রচুর সরকারি কর্মকর্তা চাকরি হারাতে পারেন আগামীতে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের চিত্র কেমন হবে, সেটির ওপরও ট্রাম্পের প্রশাসনের কাজের ধরন নির্ভর করবে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক এরিকা ফ্রান্টজ বলেন, যদি রিপাবলিকানরা নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুটোরই নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তাহলে ট্রাম্প যেকোনো নীতি তৈরি করতে পারবেন। এতে অনেকটা কর্তৃত্ববাদীর দিকে চলে যাওয়ার দিকে সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং আমি এটি মোটেও হালকাভাবে বলছি না।
তবে রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যে সিনেটের (উচ্চকক্ষ) নিয়ন্ত্রণ পেলেও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ কার কাছে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। ফ্রান্টজের মতে, কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন দেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে অনুগতদের বিদায় দেওয়া, আদালতে হস্তক্ষেপ করা এবং গণমাধ্যমের খবর প্রকাশে নাক গলানো।
রিপাবলিকান পার্টি এরই মধ্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে বলেও মনে করছেন ফ্রান্টজ। ফলে ট্রাম্প যে নিজ দলের কাছ থেকে কোনো বিরোধিতার সম্মুখীন হবেন এমন আশঙ্কা নেই। ক্রমশই রিপাবলিকান ও ট্রাম্প সমার্থক শব্দ হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের এক সময়ের সমালোচকরা হয় দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বা তাকে সমর্থন দেওয়া শুরু করেছেন।
ফ্রান্টজ বলেন, নীতির বদলে ব্যক্তিকে সমর্থন দেওয়া এ ধরনের দুর্বল ও সংকীর্ণ পক্ষের ভিত্তিতে নেতারা ক্ষমতায় এলে আপনি অনেক কিছুই ঘটতে দেখবেন। যখন এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন এ ধরনের নেতাদের জন্য ক্ষমতা কুক্ষিগত করাটা সহজ হয়।
ট্রাম্পের আমল কেমন হবে, তা এখন সত্যিকার অর্থেই অনেকাংশে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের চিত্র কী দাঁড়ায়, তার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা