ইরানের পারমাণবিক তৎপরতা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব টিকিতে রাখতে তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশংকা করছেন মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জেক সালিভান এ বিষয়ে আসন্ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।
২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হলেও ক্ষমতা পাওয়ার আগেই নীতিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই ধারাবাহিকতায় ইরানের পারমাণিক মজুদাগারে বিমান হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সিরিয়ায় সাম্প্রতিক আসাদ সরকারের পতনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নেতৃত্ব নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে সালিভান বলেন, ‘তেহরানের বিষয়ে সব ধরণের সতর্কতা নিচ্ছি আমরা। এ বিষয়ে আসন্ন ট্রাম্প-প্রশাসনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিস্তারিত জানাচ্ছি।’
বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা ইরানকে পারমাণবিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার মোক্ষম সময়, মত তার।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চাপের পরিবর্তে তেহরানে সামরিক আক্রমণ করলে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপি নৈরাজ্যের আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক অবস্থান নিয়ে নেতানিয়াহুর কাছে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলকে ইরানের পারমাণবিক মজুদাগারে আক্রমণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেখেছেন বিশ্লেষকরা।
জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারিতেও ইরানের পারমাণবিক সক্রিয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের মতে, বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক বোমা না থাকলেও পারমাণবিকভাবে সক্রিয় দেশগুলোর চেয়ে তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুদাগার কোনো অংশে কম না।
সম্প্রতি ইয়েমেনে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র সংগঠন হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত অভিযানের কারণে দুইপক্ষের বিদ্বেষ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জবাবে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে হুথির ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
নাইমুর/