মায়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের বিরোধী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) শান্তিচুক্তিতে আগ্রহী নয় বলে আক্ষেপ করেছেন সরকার প্রধান মিন অং হ্লাইং।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মায়ানমারের বার্তাসংস্থা দ্য ইরাবতী।
এর আগে ২৮ ডিসেম্বর দেশটির ৫০তম জাতীয় আখা দিবসের শুভেচ্ছা বক্তব্যে জান্তাপ্রধান বলেন, ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের রাজনৈতিক সমাধানই চাইছি।’
তবে তার বক্তব্যের পরদিনই আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের গোয়া শহরের দখল নেয়।
গত এক বছরে জান্তাবিরোধী অভ্যুত্থানে আরাকান আর্মি মোট ১৪ টি অঞ্চলের দখল নিয়েছে।
পুরো রাখাইন রাজ্যে তাদের আধিপত্য কায়েম করতে মাত্র তিনটি শহরের দখল নেওয়া বাকি।
এ পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মির সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহ প্রকাশ করছে জান্তা সরকার।
তবে মজার বিষয় হলো, অতীতে আরাকান আর্মির সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখান করে খোদ সরকারই।
সংগঠনটি শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ২০২৩ সালের বড়দিন ও ২০২৪ সালের নববর্ষের দিন বিমান হামলা চালায় জান্তা। এসব ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এ ছাড়া জান্তার আক্রমণে গেল বছর ৫৪০ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। এর মধ্যে ১০৯ জন শিশুও ছিল।
দেশটির বিদ্যুৎ খাতেও চরম অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। জান্তা সরকার মায়ানমারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী উৎপাদন কমিশন গঠন করার পর দেশটিতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। শুরুতে শুধু দিনের কিছুটা সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও বর্তমানে সারাদিনে গড়ে মাত্র ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে রাজধানী ইয়াংগুনে।
এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধান বিদ্যুৎচালিত জাহাজ তৈরিতে গবেষণা কার্যক্রম ঘোষণা পর জনমনে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে চীনে কর্মরত মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত টিন মং সোয়েকে ‘২০২৪ সালের সেরা ব্যক্তিত্বের’ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে চীনা সংবাদমাধ্যম।
এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের প্রতি চীনের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
বেশ কিছু অবকাঠামোগত স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে চীন-মায়ানমার জোট যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
এক্ষেত্রে মায়ানমারে চীনের সেনা মোতায়েন করার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: দ্য ইরাবতী
নাইমুর/