স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়াতে থাকা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা চলছে। বাশারকে ক্ষমতায় রাখতে রাশিয়া যাদের ওপর নির্বিচার বোমা হামলা চালিয়েছে তারাই আজ ক্ষমতায়। তাই এ নিয়ে আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সিরিয়াতে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী রাশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হলো তারতুস নেভাল বেইস ও হেমিম বিমান ঘাঁটি। এ দুটি ঘাঁটি সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রবেশ পথ। হেমিম বিমান ঘাঁটি থেকেই আসাদ বিমান নিয়ে পালিয়ে রাশিয়া চলে যান।
সিরিয়াতে নতুন সরকার আসার পর কিছুদিন পার হতেই মস্কো আবার নতুন করে ফন্দি আঁটছে কীভাবে সিরিয়াতে তার ঘাঁটিগুলো রাখতে পারে। নতুন সরকারকে কূটনীতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে রাশিয়া সিরিয়াতে তার উপস্থিতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। যদিও নতুন সরকারের ওপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিয়েছে। তথাপি তা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করার মতো যথেষ্ট নয়। তাই সিরিয়ার নতুন সরকারও চাচ্ছে ভালো কিছুর বিনিময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে। সিরিয়াতে থাকা রাশিয়ার ঘাঁটিগুলো অস্ত্র, জ্বালানি ও গম সরবরাহের জন্য জরুরি।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক আন্না বলেন, মস্কোর হাতে এখনো এমন কিছু আছে সিরিয়াকে প্রস্তাব দেওয়ার মতো, যা খুবই কার্যকরী হতে পারে সিরিয়ার জন্য।
দুই সপ্তাহ আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় আল শারা রাশিয়ার দীর্ঘ হামলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। তিনি এটাকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি আসাদ সরকারের সিরিয়া থেকে পাচার করে যে অর্থ মস্কোতে ডিপোজিট রেখেছেন তা ফেরত চেয়েছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ বলেছেন, ‘আমরা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে অগ্রসর হচ্ছি।’
এদিকে ইসরায়েল চাচ্ছে সিরিয়াতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি থাকুক। সিরিয়াতে তুরস্কের প্রভাবে মোকাবিলায় ইসরায়েল রাশিয়াকে পাশে চায়। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তদবিরও করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় আপত্তি নেই। সূত্র: রয়টার্স।