ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান রোনেন বারকে বহিস্কার করা নিয়ে দখলদার ইসরায়েল প্রশাসনের শীর্ষস্তরে চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার ( ২০ মার্চ) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শিন বেতের প্রধানকে মন্ত্রীসভার মাধ্যমে বহিষ্কার করেন। তবে ইসরায়েলের হাইকোর্ট আগামী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করে। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু জোরপূর্বক এটি কার্যকরের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এমন সময় ইসরায়েলের শ্রমিক ইউনিয়ন হিসতাদ্রুতের প্রধান আরমোন বার-ডেভিড হুমকি দেন, যদি নেতানিয়াহুর সরকার আদালতের আদেশ অমান্য করে এটি কার্যকর করে তাহলে তিনি ‘বসে’ থাকবেন না।
ইসরায়েলজুড়ে ধর্মঘটের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ইসরায়েলি সরকার আদালতের প্রত্যেকটি নির্দেশ মানবে। যেমনটা সরকার তার নাগরিকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে। হিসতাদ্রুত, অন্যান্য সংগঠন এবং ইসরায়েল দেশের আইন মেনে চলে। সরকার আইনের উর্ধ্বে নয়।‘
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নৈরাজ্যে পতিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে আছি। আমি ইসরায়েলি সমাজ ধ্বংস হতে দেব না। বর্তমান ইসরায়েলি সরকার আদালতের নির্দেশ মানতে চায় না, এটি অগ্রহণযোগ্য।‘ নেতানিয়াহুর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের এ নেতা বলেন, সরকার যেন সীমা অতিক্রম না করে।
এর আগে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহারন বারাক বলেন, ‘শিন বেতের প্রধান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে বহিস্কারের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ ডেকে আনছেন।‘
তার এ মন্তব্যের পর নেতানিয়াহু শুক্রবার (২১ মার্চ) একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘কোনো গৃহযুদ্ধ বাধবে না। ইসরায়েল হলো আইন ও শাসনের দেশ। আর ইসরায়েলি সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় শিন বেতের প্রধান কে হবেন।‘
এদিকে শিন বেতের প্রধানকে বহিস্কার করা নিয়ে সাধারণ ইসরায়েলিরা ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। তাদের মতে, নেতানিয়াহু স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছেন। এ কারণে বিরোধী মতের রোনেন বারকে তিনি বহিস্কার করেন। যেন কেউ তার কাজে বাধা না দিতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
দিনা/