যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ সুদানের পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তিকে আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের সময়মতো গ্রহণ করেনি আফ্রিকার এ দেশটি।
গত শনিবার এক বিবৃতিতে রুবিও দক্ষিণ সুদানের কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের সময়মতো গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটির অস্থায়ী সরকার।
তিনি আরও লেখেন, দক্ষিণ সুদানের অস্থায়ী সরকারের জন্য এখনই সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুবিধা আদায় বন্ধ করার। প্রতিটি দেশকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো নাগরিকদের সময়মতো গ্রহণ করতে হবে।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘গণনির্বাসন’ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অন্য দেশের সব অবৈধ নাগরিককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ সুদানের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যখন দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। গত ৮ মার্চ জরুরি কাজে নিয়োজিত ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দক্ষিণ সুদান ত্যাগ করার নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হলেও তা ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। এর আগে দক্ষিণ সুদানিদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছিল। এই সময়সীমা চলতি বছরের মে মাসের ৩ তারিখ শেষ হওয়ার কথা।
২০১১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করা আফ্রিকার এ দেশটি জন্মের পর থেকেই অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাচারের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কয়েকবার গৃহযুদ্ধে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এ যুদ্ধে। ২০১৮ সালে শান্তিচুক্তি হলেও সংঘর্ষ থেমে নেই। সূত্র: বিবিসি।