বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর বিশ্ববাজারে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা সেভাবে আমলে নিচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গোটা বিষয়টিকে ‘ওষুধ’ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু তাই বলে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক পরিমাণে শেয়ার বিক্রি থামাননি।
গত রবিবার এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো কিছুরই দরপতন চাই না আমি। কিন্তু কখনো কখনো আপনার কোনো কিছুকে ঠিক করতে ওষুধের দরকার পড়বে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘অন্যান্য দেশের কাছে আমরা এত বাজেভাবে ব্যবহৃত হয়েছি, কারণ আমাদের গবেট নেতৃত্ব এটি হতে দিয়েছে। তারা আমাদের ব্যবসা, অর্থ, চাকরি নিয়ে গেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশ ভারসাম্য তৈরি না করলে তিনি শুল্ক আরোপ করা থেকে সরে আসবেন না বলেও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, অনেক বিদেশি নেতার সঙ্গেই তার শনিবার কথা হয়েছে। তারা চুক্তি করার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বলেছি যে আপনাদের দেশের সঙ্গে আমরা ঘাটতি রাখব না। আমরা তা করব না, কারণ আমার কাছে ঘাটতি হলো ক্ষতি। আমরা হয় উদ্বৃত্ত রাখব, আর না হয় সমান-সমান থাকবে।’
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন একটি সময়ে এল, যখন বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত। এশিয়ার শেয়ারবাজারও দরপতন ঠেকাতে পারছে না। বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। লন্ডনে এফটিএসই ১০০ সূচকে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে।
সোমবার (৭ এপ্রিল) হংকংয়ের হাঙ সেঙ সূচকে দরপতন হয়েছে ১৩ শতাংশের চেয়ে বেশি। প্রায় তিন দশকের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। তাইওয়ানের তাইয়েক্সে দরপতন হয়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশটির শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এর আগে এত দরপতন হয়নি। অন্যদিকে জাপানের নিক্কেই ২২৫-এ দরপতন হয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সিঙ্গাপুরেও একই চিত্র। সেখানে স্ট্রেইটস টাইমস সূচকে ৭ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপিতে দরপতন হয়েছে ৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০-তে দরপতন হতে দেখা গেছে ৪ শতাংশের বেশি।
ট্রাম্প শুধু প্রকাশ্যে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের নীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, শুল্ক যখন প্রতি সপ্তাহে শত শত কোটি ডলার নিয়ে আসছে, তখন তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি কমেছে।
ট্রাম্পের আরোপিত এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী ও মিত্র– দুই পক্ষের ওপরই আঘাত হানবে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা