তালেবানকে নিষিদ্ধ ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’-এর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল)দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওলেগ নেফেদভ এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন।
রাশিয়ার পার্লামেন্টে চার মাস আগে নতুন একটি আইন পাশ হয়। এই আইন অনুযায়ী, কোন সংগঠন ‘সন্ত্রাসবাদী’ কি না, তা নির্ধারণ করবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৪ সালের মে মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তালেবানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখে।
চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় সুপ্রিম কোর্টে সেই প্রস্তাব জমা দেয়। সেই প্রস্তাব মেনেই ‘সন্ত্রাসবাদী’ তালিকা থেকে তালেবানকে বাদ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানায়, দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তালেবানকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসাবে মনোনীত করে আসা রাশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত অবশেষে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে।
ধারণা করা হচ্ছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
৯০-এর দশকের আফগান-সোভিয়েত গৃহযুদ্ধের পর এই প্রথম দুই পক্ষের সম্পর্ক একটি স্বাভাবিক গতিপথের মুখ দেখতে যাচ্ছে। ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলে আফগানিস্তানে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তালেবান।
যেখানে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ এবং এর পরবর্তীকালের পরিণতিই হচ্ছে তালেবানের উত্থান এবং আফগানিস্তানে চলমান অস্থিতিশীলতা সেখানে সম্প্রতি আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইসহ নিরাপত্তা স্বার্থের বিষয়টি মস্কো ও তালেবানকে একটি সহাবস্থানের পথে টেনে নেয়।
এর আগে গত বছরই পুতিন সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের প্রচেষ্টায় একটি 'মিত্র' শক্তি হিসাবে বর্ণনা করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গ্যাস রপ্তানির জন্য আফগানিস্তানকে একটি ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে মস্কো। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত অক্টোবরে বলেন, ‘কাবুলের সঙ্গে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে মস্কো তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।’
এদিকে শুধু রাশিয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য বেশ কিছু এশীয় দেশও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নেয়। যদিও গোষ্ঠিটির বিভিন্ন বিতর্কিত এবং রক্ষণশীল কাজের জন্য এখন পর্যন্ত জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের তালেবানকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া একটি নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমনকি চীন, ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইরান কাবুলে দূতাবাস স্থাপন করেছে। এসব দেশের মধ্যে তালেবান ক্ষমতায় বসার পর ২০২৩ সালে প্রথম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় চীন। সূত্র: আল-জাজিরা
দিনা