কাশ্মীরের পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন দলের জেষ্ঠ্য নেতা খাজা আসিফ কাশ্মীরের এই হামলাকে ‘সাজানো’ ঘটনা বলে দাবি করেন।
তার ভাষায়, ‘আমরা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে সন্দেহ করি, এটি একটি ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন—অর্থাৎ নিজেরাই ঘটিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা’। যদিও এই দাবির পক্ষে যথাযত কোনও প্রমাণ সামনে আনেনি দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটি।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) এই তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পর্যটক হত্যাকাণ্ড ছিল ‘পরিকল্পিত একটি ঘটনা’।
খাজা আসিফ আরও বলেন, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সক্রিয় কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও ধরনের সংযোগ নেই। তিনি বলেন, 'কাশ্মীরে যা ঘটছে বা কাশ্মীরের কোনও আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা একেবারেই কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত নই।‘
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত সরকারের দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ভারত সরকার যে অভিযোগ করছে, আমি তা জোরালোভাবে নাকচ করছি।‘
এর আগে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার দেশটি একটি বেসরকারি চ্যানেলে বলেন, ‘ভারতের নেওয়া পদক্ষেপগুলো শিশুসুলভ এবং এতে গুরুত্বের অভাব রয়েছে।‘
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত প্রতিটি ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং অতীতের মতো এবারও পাকিস্তানকে দোষারোপ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা বৈঠকে ভারতকে যোগ্য জবাব দেব, এই জবাব কম হবে না।‘
এছাড়া পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জম্মু ও কাশ্মীরে সহিংসতার জন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ‘বিপ্লব’ এবং ‘দেশীয়’ বাহিনীকে দায়ী করেন।
বুধবার (২৩ এপ্রিল ) রাতে পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যম লাইভ ৯২-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। আসিফের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার ( ২২ এপ্রিল ) কাশ্মীরের পাহালগামের কাছে বৈসরান তৃণভূমিতে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসীদের গুলি চালানোর ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং অনেকে আহত হন। এই হামলার ফলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সৌদি আরবের দুই দিনের সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে বাধ্য হন। সূত: আল-জাজিরা এবং দ্য ইকোনোমিক টাইমস
দিনা