ভারতের কাশ্মীরের পাহালগামে বন্দুকধারীদের হামলাকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়াল ভারত ও পাকিস্তান।
গত মঙ্গলবার (৬ মে) দিনগত রাত ১টা ৫ মিনিটে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের ওই সামরিক অভিযানে মাত্র ২৫ মিনিটে পাকিস্তানের ৯টি স্থানে ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভারত। তবে পাকিস্তান জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে দেশটি। পাকিস্তানের হামলায় ভারতের কাশ্মীরে অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে শেহবাজ শরিফ বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে বলেছেন, তার দেশের সেনাবাহিনী ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ভারতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে পাকিস্তানের কামানের গোলা হামলায় ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪৩ জন আহত হয়েছেন। কাশ্মীরের পুঞ্চ ও তাংধরের বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাতিসংঘ এই হামলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় সামরিক বাহিনীকে ‘সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ’ গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি)। দেশটির এই কমিটি বলেছে, ভারতের হামলার জবাবে সময় অনুযায়ী যথাযথ স্থানে পছন্দমতো পাকিস্তান প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এনএসসির বৈঠকে পাল্টা হামলার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর ফলে এখন সর্বাত্মক যুদ্ধের পথে এগোচ্ছে ভারত-পাকিস্তান।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটি সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টারের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেমোক্রেসির পরিচালক নিতাশা কাউল বলেছেন, ‘এসব হামলা খুবই উদ্বেগজনক। এসব হামলা কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের ওপর চরম দুঃখ-কষ্ট বয়ে আনবে।’
হামলা হয়েছে ৯ স্থানে
ভারতের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানে ভারতীয় সেনারা ৯টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। সেগুলো হলো পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, শিয়ালকোট ও কোটলি এবং কাশ্মীরের মুজফ্ফারাবাদ, গুলপুর, ভিমবের, চাক আমরু ও বাগ। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগিয়ে ওই ৯টি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এই জায়গাগুলো ঠিক করে দিয়েছিল।
মোদির পাশে কংগ্রেস ও তৃণমূল
পাকিস্তানে হামলাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশে এসে দাঁড়ালেন ভারতের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের নেতা। পাকিস্তানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেছেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। গতকাল সকালে এক এক্স পোস্টে রাহুল লেখেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গর্বিত। জয় হিন্দ।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর তিনি বলেন, বিভেদ ভুলে এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সময়।
জবাব দেওয়ার অনুমতি পেল পাক সশস্ত্র বাহিনী
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীকে হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের আওতায় তাদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। দেশটি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক প্রাণহানির প্রতিশোধ নিতে ‘নিজস্ব সময়, স্থান ও পদ্ধতি’তে ভারতের হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার তারা রাখে।
পাকিস্তানের বিবৃতির বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পূর্ণ অনুমোদন’ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে পাকিস্তানের এনএসসির বৈঠকের পর এ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
যেসব অস্ত্র ব্যবহার করল ভারত
ভারত পাকিস্তানে হামলায় যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে তার মধ্যে রয়েছে, স্কাল্প ক্রুজ মিসাইল, হেমার স্মার্ট বোমা ও লোটারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোন। স্কাল্প মিসাইল ২৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, হেমার বোমা ৫০-৭০ কিলোমিটার দূরের শক্ত ঘাঁটি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় এবং লোটারিং মিউনিশন শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করে আত্মঘাতী হামলা চালায়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলাগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অপারেশন সেন্টারে চালানো হয়েছে, কোনো সামরিক স্থাপনায় নয়। তবে এর পাল্টা জবাবে গত মঙ্গলবার রাতেই পাকিস্তান হামলা চালায় ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। এতে ১৫ জন নিহত ও ৪৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
যা বললেন পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা
সামরিক হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রী এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে ভারতের তরফে এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘প্রতিশোধ নেওয়ার সব অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে।’ তিনি ভারতের এই হামলাকে ‘অ্যাক্ট অব ওয়ার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের পুরো জনগণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দেশের মনোবল একেবারে মজবুত রয়েছে।’ পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি পাকিস্তানের ভূখণ্ড এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ভারতের কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।’ তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ তুলেছেন, ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ‘সন্ত্রাসী শিবির নয়, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে’।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের ব্রিফিং
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারত হামলার অধিকার প্রয়োগ করেছে। গতকাল সকাল ১০টায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, পাহালগামের হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্তপার থেকে আরও সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী কাঠামো ধ্বংস করাই ছিল হামলার উদ্দেশ্য।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘ভারত যে হামলা চালিয়েছে তা পরিমিত, সমানুপাতিক, দায়িত্বশীল এবং যা ছড়িয়ে পড়বে না, এমন। ভারতের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদীদের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া, যাতে সন্ত্রাসীদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাঠানো ঠেকানো যায়।’ বিক্রম মিশ্রি আরও বলেন, ‘পাহালগামে হামলায় জড়িতদের শাস্তি ও বিচারের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত ২৫ এপ্রিল যে বিবৃতি দিয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।’
যা বললেন ভারতের সেনা মুখপাত্র
বুধবার ব্রিফিংয়ের সময় পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনীর দুই নারী কর্মকর্তা কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তারা বলেন, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে শুরু করে রাত দেড়টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপাশে মোট ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে ভারতীয় বাহিনী হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে।’
ব্রিফিংয়ে পাকিস্তান অংশে ধ্বংস করা ঘাঁটির ছবিও দেখান তারা। ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, অপারেশন সিঁদুর কোনো পাকিস্তানি সেনাঘাঁটির ওপর আক্রমণ করেনি। সাধারণ মানুষকেও নিশানা করা হয়নি। বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।’
সোফিয়া ও ব্যোমিকা দাবি করেন, ‘হামলার প্রথম লক্ষ্য ছিল ভাওয়ালপুরের মারকাজ ‘সুবহান আল্লাহ্’। এখানে রয়েছে জইশ-এ-মহম্মদের জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির। বিলাল মসজিদে ছিল লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কোটলিতে যেখানে হামলা হয়েছে, তা লস্করের ঘাঁটি।
ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও হামলা চালিয়েছে জানিয়ে সোফিয়া ও ব্যোমিকা আরও দাবি করেন, শিয়ালকোটের যে সার্জাল ক্যাম্পে হামলা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ছয় কিলোমিটার ভেতরে। এ ছাড়া হামলা চালানো হয় মেহমুনা জোয়া ক্যাম্পে। এই শিবিরে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরাই পাহালগামে হামলা চালিয়েছিল।’
কতটা ক্ষয়ক্ষতি হলো পাকিস্তানের
পাকিস্তানের ৯টি জায়গায় ভারতের হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৬ জন। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাহাওয়ালপুরের আহমেদপুর ইস্ট শহরে হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুটি তিন বছরের শিশু, সাতজন নারী ও চারজন পুরুষ। এ ছাড়া ৩৭ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী।
মুজাফফরাবাদে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিতে গিয়ে আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেন, সেখানকার বিলাল মসজিদকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক কিশোর ও এক কিশোরী আহত হয়েছে।
কোটলিতে আব্বাস মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওই হামলায় ১৬ ও ১৮ বছর বয়সী দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় এক নারী ও তার মেয়ে আহত হয়েছেন।
আহমেদ শরিফ বলেন, পাঞ্জাবের মুরিদকেতে উমালকুরা মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। আরও দুই ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। হামলায় স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
শিয়ালকোট ও শাকারগড়ে হামলার ঘটনায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান আহমেদ শরিফ। তিনি বলেন, সেখানকার একটি দোকানে সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এ মুখপাত্র আরও বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছোড়া গুলিতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
আজহারের পরিবারের ১০ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরের ‘সুবহান আল্লাহ’ মসজিদে ভারতের হামলায় মাওলানা মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ সদস্য ও ৪ ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানভিত্তিক জয়শ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) পক্ষ থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে এ খবর দেওয়া হয়। মাওলানা মাসুদ আজহার সংগঠনটির প্রধান। জাতিসংঘ মাসুদ আজহারকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তার (মাসুদ আজহারের) বড় বোন, বড় বোনের স্বামী, ভাতিজা, ভাতিজার স্ত্রী, ভাতিজি এবং পরিবারের পাঁচ শিশুও রয়েছেন। এ বিষয়ে ভারত বা পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। জেইএমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামলায় মাসুদ আজহারের তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের একজনের মা নিহত হয়েছেন।
পাঁচ যুদ্ধবিমান ‘ভূপাতিত’
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ফ্রান্সের তৈরি রাফাল, একটি রাশিয়ার তৈরি সু-৩০ ও অন্যটি মিগ-২৯। সু-৩০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সোভিয়েত আমলে তৈরি। পাকিস্তানের এ দাবির বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে স্থানীয় সরকারের চারটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের কাশ্মীরে গতকাল তিনটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।
পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাসপাতালসহ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ গতকাল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ভারতের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত হয়তো এটা শুরু করেছে, কিন্তু আমরা এটা শেষ করব।’ খবর: রয়টার্স/ডন/আল-জাজিরা/বিবিসি।