অনেক উত্তেজনা শেষে টানা চারদিনের সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এরপর আনন্দমিছিল শুরু হয়েছে পাকিস্তানে।
রবিবার (১১ মে) সকালে রাজধানী ইসলামাবাদ, লাহোর, করাচি, মুলতান, হায়দারাবাদসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার পাকিস্তানি নাগরিক।
অন্যদিকে ভারতের চিত্র পুরো বিপরীত। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পরই কাশ্মীরে ড্রোন হামলা ও বিস্ফোরণের পেছনে পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছে ভারত। এছাড়া এদিন পাঞ্জাব এবং অমৃতসরে ব্ল্যাকআউট করে রেড এলার্ট জারি করা হয়।
ভারতের দাবি,যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও রাতভর সংঘর্ষ চালায় পাকিস্তান।
এমন প্রেক্ষাপটে রবিবার (১১ মে) সকাল ১১টায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বৈঠকে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাবে বলে নোটিশ দেয়। যদিও এই প্রতিবেদন যখন লেখা হয় ততোক্ষণেও এই সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে বিস্তারিত কোন খবর জানা যায়নি।
ভারতীয় সেনাবাহিনী্র দাবি, শনিবার (১০ মে) বিকেল ৫টায় সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার মাত্র ৩ ঘণ্টা পরই তা লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। এসময় জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তে অন্তত ১১ জায়গায় তারা গুলিবর্ষণ করে। পাশাপাশি ড্রোন হামলারও চেষ্টা করা হয়।
শনিবার সন্ধে সাড়ে ৭টার কিছু পরই জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, জম্মু-শ্রীনগর সহ একাধিক এলাকায় ড্রোন হামলার আশঙ্কায়
সাইরেন বাজানো হয়।
এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের বারামুলা, বদগামেও গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। পাশাপাশি রাজস্থানেও সাইরেন বাজিয়ে ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হয়।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীর-সহ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন পরিস্থিতি আবার আগের মতো স্বাভাবিক হবে। কিন্তু তা হয়নি। এখন এই যুদ্ধবিরতি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী্র সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতির মধ্যেই দক্ষিণ কাশ্মীরে একাধিক জায়গায় অভিযানে নেমেছে ভারতের স্টেট ইনটেলিজেন্স এজেন্সি (SIA)। সুত্র: দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য ইকোনমিক টাইমস
সুলতানা দিনা/