যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলমান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে উত্তেজনা এখন চরমে।
সোমবার (৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে রাজ্যটির পুলিশপ্রধান জিম ম্যাকডোনেল জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মেরিন সেনা মোতায়েন করা হবে। যদিও তিনি এখানে মেরিন সেনা মোতায়েন করারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক এবং অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন।
সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মেরিনদের একটি দল পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানান জিম ম্যাকডোনেল। তিনি জানান, এই মোতায়েন শহর রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস এই মোতায়েনের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এখানে আমাদের ন্যাশনাল গার্ডের কি প্রয়োজন? আর তারাই (মেরিন) বা এখানে কী করতে যাচ্ছে?'
এদিকে, শহরের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের বাইরে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদকে পুলিশ ‘অবৈধ জমায়েত’ ঘোষণা করেছে।
এর আগে এই বিক্ষোভ দমনে দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত জার টম হোমান ফক্স নিউজকে জানান, শনিবার বিকেলে আইসিই-বিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করার পর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হবে।
এদিন পৃথক আরেকটি প্রতিবেদনে মার্কিন বার্তাসংস্থা লস এঞ্জেলেস টাইমস জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের সাউথইস্ট অঞ্চলের প্যারামাউন্ট এলাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো শতাধিক বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামেন। এ সময় অনেকে মুখে গ্যাসমাস্ক, আবার কেউ কেউ মেক্সিকোর পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। দিনভর বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ধরপাকড়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ১০১ ফ্রিওয়ে অবরোধ করেন। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে এবং সন্ধ্যা ৫টার মধ্যে মহাসড়ক মুক্ত করে। ততক্ষণে শত শত মানুষ আশপাশের সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন।
এর আগেই, বিকেল ৩টার দিকে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) ঘোষণা করে যে, আলামেদা এলাকার কারাগারের বাইরে থাকা একদল বিক্ষোভকারী ‘অবৈধ জমায়েত’ করেছে। তাদের গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে এলএপিডি জানায়, দ্বিতীয় স্ট্রিট থেকে আলিসো স্ট্রিট পর্যন্ত আলামেদা এলাকার জন্য অবৈধ জমায়েত ঘোষণা করা হয়েছে। ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার চলছে।
সিএনএন জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস (ডেমোক্র্যাট) ট্রাম্পের ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সহিংসতাকারীদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি এক্স-এ লিখেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করব। তবে সহিংসতা, ধ্বংস ও ভাঙচুর লস অ্যাঞ্জেলেসে সহ্য করা হবে না এবং দোষীদের সম্পূর্ণভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
এছাড়া, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোমের কার্যালয় প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে একটি চিঠি পাঠিয়ে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের অনুরোধ করে।
রবিবার (৮ জুন) ক্যাম্প ডেভিডে রওনা হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, তবে কেন সে বৈঠক হচ্ছে তা স্পষ্ট করেননি।
সুলতানা দিনা/