ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে ইরান যেন আমেরিকান ঘাঁটি বা স্বার্থকে লক্ষ্য না করে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাতে ইরানকে এই হুশিয়ারি দেন রুবিও।
রুবিও বলেন, ‘আমরা ইরানে হামলায় জড়িত নই এবং আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে এই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইরান যেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা কর্মীদের লক্ষ্য না করে।’
এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ইসরাইলের এখনই এমন কিছু করা উচিত নয়।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুব কাছাকাছি এসেছে। ইসরায়েলের হামলা সেই সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সপ্তম দফার আলোচনা আগামী রবিবার ওমানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
রুবিও বলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের জানিয়েছে, তারা মনে করছে এই পদক্ষেপটি তাদের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।’
তবে তিনি ইসরায়েলের হামলার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান জানাননি।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন আমাদের বাহিনীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং আমরা আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছি।’
এই হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি কাতারে।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলায়মানি নিহত হওয়ার পর ইরান ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস উপসাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হচ্ছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ‘মূল’ এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের বহু গুণ বেশি। তবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কম।
অমিয়/