ইসরায়েলি হামলায় গত শুক্রবার গাজা উপত্যকায় অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৪ জন এমন ছিলেন যারা সহায়তা নিতে গিয়ে মারা গেছেন। মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় সহায়তা প্রত্যাশীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
গত ২৭ মে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে সহায়তা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি আক্রমণে সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রগুলোর কাছে শত শত ফিলিস্তিনি মারা গেছে। জিএইচএফ নিরাপদে মানুষের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে এরই মধ্যে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। নতুন এ সহায়তা সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত। এটির আড়ালে সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত গাজা অবরুদ্ধ করে রাখে ইসরায়েল। এর জেরে সেখানে সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যাপক অভাব দেখা দেয়। মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। পরে জিএইচএফকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হয়। গাজায় এখনো অন্য কোনো সংস্থা বাইরে থেকে ত্রাণ প্রবেশ করাতে পারছে না।
সহায়তা বিতরণ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৩ হাজার ২০৩ জন।
এদিকে, জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজা মানবসৃষ্ট খরার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, ‘শিশুরা তৃষ্ণায় মারা যেতে শুরু করবে। সেখানে মাত্র ৪০ শতাংশ সুপেয় পানির উৎপাদন চালু রয়েছে।’
জাতিসংঘের সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জিএইচএফের বিতরণ ব্যবস্থা আগে থেকেই মরিয়া একটি পরিবেশকে আরও প্রতিকূল করে তুলছে। গত বুধবার জিএইচএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তিনটি বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই ৩০ লাখ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা