ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

গাজায় দুধের তীব্র অভাব, শত শত শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৩২ পিএম
গাজায় দুধের তীব্র অভাব, শত শত শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি বোমা হামলায় প্রতিনিয়ত গাজায় মারা যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। হামলায় অনেক শিশুর বাবা-মা মারা গেছেন। আবার আহত অনেক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসব শিশুর অবস্থা খুবই করুণ। একেবারে হাড্ডি  চর্মসার অবস্থা তাদের। এরকম শত শত শিশুকে এখন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, ইসরায়েল গাজায় বেবি ফর্মুলা (নবজাতক ও ছোট শিশুদের খাওয়ানোর জন্য এক ধরনের দুধ) পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। দুধের অভাবে এই হাড্ডিসার শিশুদের বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। গাজার বাসিন্দারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, দুধের তীব্র ঘাটতির মধ্যে শত শত শিশু এখন মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। 

খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ আল-ফাররা বলেন, তার ওয়ার্ডে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় শিশু ফর্মুলা অবশিষ্ট ছিল। ডাক্তারদের কাছে থাকা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ফর্মুলা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তিনি নিয়মিত ফর্মুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুদের মধ্যে এটির ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। 
চিকিৎসক আল-ফাররা ফোনে গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারছি না। এই মুহূর্তে, আমাদের কাছে মাত্র এক সপ্তাহের বেবি ফর্মুলা আছে। কিন্তু আমাদের হাসপাতালের বাইরের শিশুরা কোনো দুধ পাচ্ছে না। এটা খুবই ভয়াবহ।’

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল সব কিছু আটকে দেওয়ায় গাজায় শিশু ফর্মুলার মজুত কমে গেছে। বিতর্কিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমর্থিত বেসরকারি সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের  (জিএইচএফ) মাধ্যমে যে খাদ্য সহায়তা আসছে তাতে শিশুর ফর্মুলা অন্তর্ভুক্ত নয়।

আল-নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী পাঁচ সন্তানের মা ২৭ বছর বয়সী হানা আল-তাওয়েল বলেন, ‘তিনি নিজে পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না। তার ১৩ মাস বয়সী শিশুর জন্য দুধ খুঁজে পেতে তাকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে।’

দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের জন্মের পর থেকেই দুধের সমস্যা শুরু হয়। কারণ অপুষ্টি এবং দুর্বলতার কারণে আমি আমার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারিনি। চিকিৎসকরা তাকে বলেছেন যে, তার ছেলে অপুষ্টির কারণে অন্য শিশুদের তুলনায় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে, যারা ইতোমধ্যেই তার বয়সে কথা বলতে এবং হাঁটতে শুরু করেছে।’

হানা আল-তাওয়েল আরও বলেন, ‘আমি যখন ঘুমাতে যাই তখন আমার পাশে একটা ছোট রুটির টুকরা রাখার চেষ্টা করি। কারণ আমার ছেলে প্রায়ই খাবারের জন্য ঘুম থেকে জেগে ওঠে। সন্তানদের জন্য আমার দুঃখ ও ভয় হয়। আমার আশঙ্কা, তারা ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং রোগে মারা যাবে।’

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই ৬৬ জন ফিলিস্তিনি শিশু অনাহারে মারা গেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েল গাজার বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি আসলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা চালানোর’ একটি কৌশল।

তবে গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ‘কোগ্যাট’ জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকায় ফর্মুলাসহ শিশুখাদ্য প্রবেশে কোনো বাধা দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় ১,৪০০ টনেরও বেশি শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। এই অবস্থায় গাজায় চিকিৎসকরা তাদের ব্যক্তিগত লাগেজে শিশু ফর্মুলার পৃথক ক্যান প্যাক করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার জন্য গাজায় প্রবেশ করা একজন আমেরিকান চিকিৎসকের লাগেজ থেকে ১০টি শিশু ফর্মুলার ক্যান জব্দ করেছে। শেষ পর্যন্ত তারা বেবি ফর্মুলার সব ক্যান বাজেয়াপ্ত করে।

ফিলিস্তিনি-জার্মান চক্ষু সার্জন চিকিৎসক ডায়ানা নাজ্জাল বলছেন, গাজায় অনেক চিকিৎসাকর্মী চিকিৎসা সরবরাহের পরিবর্তে প্রোটিন বার এবং বাদামের মতো ক্যালোরি-ঘন খাবার দিয়ে তাদের ব্যাগ ভর্তি করছেন। তারা সেগুলো শিশুদের সরবরাহ করছেন।

গাজায় খাদ্যসংকট তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেবি ফর্মুলা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ৫ লাখ  মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। বাকিরা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।  

খবরে বলা হয়েছে, যেসব মা নিজেরাই মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগেন তারা বুকের দুধ খাওয়াতে সক্ষম নন। এসব ক্ষেত্রে ফর্মুলার চাহিদা বেড়ে যায়। বাজারে এর সামান্য সরবরাহ থাকায় দামও অত্যধিক। এক ক্যান ফর্মুলার দাম প্রায় ৫০ ডলার, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১০ গুণ বেশি।

খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত তিন সন্তানের জননী ২৫ বছর বয়সী নুরহান বারাকাত গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমি এক মাস আমার সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে বুকের দুধ খাওয়াতে পেরেছিলাম। কিন্তু খাবারের অভাবে আমি আর চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি জানি, বুকের দুধ খাওয়ালে মা এবং শিশুর মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন গড়ে ওঠে। কিন্তু এই অবস্থায় আমি কী করতে পারি?’

গত জুনের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেন, প্রতিদিন গাজার হাসপাতালে প্রায় ১১২ জন শিশুকে অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হচ্ছে। অপুষ্টি এমন একটি সমস্যা, যা তিন বছর বয়সের আগে দেখা দিলে তা শিশুর বিকাশগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেছেন , শিশুদের মৃত্যু গাজার আসন্ন খাদ্যসংকটের একটি উদ্বেগজনক লক্ষণ। কেননা, ছোট্ট শিশুরা অপুষ্টির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। আন্তর্জাতিক গ্রুপ আভাজের মাধ্যমে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা একটি মেডিকেল প্রতিনিধিদলের সদস্য ডা. থায়ের আহমেদ বলেন, ‘যখন আপনি দেখবেন শিশুরা মারা যেতে শুরু করেছে, তখন আতঙ্ক তৈরি হবে। খাদ্যসংকটে শিশুরাই প্রথম মারা যায়।’

চিকিৎসকরা ইসরায়েলি ত্রাণ অবরোধকে খাদ্য ঘাটতির জন্য দায়ী করেছেন। কারণ ইসরায়েল কয়েকটি ত্রাণ ট্রাক ছাড়া বাকি সব ট্রাককে এই অঞ্চলে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। মানবিক সহায়তা প্রদানকারীরা বলছেন, ক্ষুধার্তদের জন্য যে পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন সরবরাহ তার চেয়ে অনেক কম। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, গাজার মৌলিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ ট্রাক খাদ্যের প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে প্রায়শই ৫০টির বেশি ট্রাক ঢুকতে দেয় না ইসরায়েল। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর ইরাক তার আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘ইরাকের সব বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিচ্ছে’ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন’ করা অব্যাহত রাখবে।

৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রথম ঘটনা হিসেবে রবিবার সন্ধ্যায় ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরাক ৭২ ঘণ্টার জন্য তার আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, সোমবার (৮ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তর জানায়, ইরান ইসরায়েলকে ‘বেদনাদায়ক জবাব’ দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ‘সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে’।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তবে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, যদি দক্ষিণ লেবাননসহ অন্য কোথাও আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও বিধ্বংসী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রিফাত/

শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিতে প্রথমদিকে অনিচ্ছুক ছিল তেল আবিব। অনেকের মতে, ইসরায়েল শুধু যুদ্ধ অব্যাহত রাখতেই আগ্রহী ছিল না, বরং এই সংঘাত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।

সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার একটি ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, নেতানিয়াহু অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ধারণা করা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত না করতে এবং বৈরুতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছিলেন। 

এ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর ইসরায়েলের একটি অংশের কাছে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে শুধু একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবেই নয়, বরং ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকেও উপেক্ষা করতে প্রস্তুত একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন।

ফলে যখন তাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, তখন বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তার জন্য খুব ইতিবাচক বার্তা বহন করেনি। 

অনেক ইসরায়েলির মধ্যে এমন প্রত্যাশাও ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা বা আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর হাতে কোনো না কোনো গোপন কৌশল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী অংশের স্বার্থ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই সংঘাত অপরিহার্য। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি প্রতিষ্ঠা।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পেছনে কেবল নিরাপত্তা বা কৌশলগত বিবেচনাই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও কাজ করছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য নির্বাচন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রশ্নে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

থিও/

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু এবং ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) এই দুর্যোগের ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেশ কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করার পর জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও অঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকা, যা ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও পরিবহন কেন্দ্র ‘জেনারেল সান্তোস সিটি’র কাছাকাছি অবস্থিত।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পের ফলে বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়াসহ ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আটকেপড়াদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরবর্তীতে সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক জায়গার সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বা কমিয়ে আনা হয়।

তা সত্ত্বেও, পূর্বসতর্কতা হিসেবে উপকূলীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের ওপরও। নিরাপত্তার স্বার্থে ‘জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়, যার ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পে ডজন খানেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে পুনরায় প্রবেশ না করার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

জনপ্রিয় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের বড় আকারের প্রাকৃতিক বিপর্যয় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি আবারও তা মনে করিয়ে দিল।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

মিন্দানাওজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোকে সব ধরনের সহায়তা দিতে এবং চলমান ঝুঁকিগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ও হেলথ ইনস্যুরেন্স জার্নাল

তামান্না রুপা/

ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা
ছবি: আল জাজিরা থেকে

ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ইসরায়েল ইরানের মাহশাহরের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করার পর এই হামলা চালাল ইরান।

কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি ফ্লেক্সিবল ফোম এবং রিজিড ফোম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উৎপাদন করে। এই রাসায়নিকগুলোর মধ্যে একটি হলো টলুইন ডাইআইসোসায়ানেট (টিডিআই), যা এই অঞ্চলে একমাত্র ইরানই উৎপাদন করে থাকে।

বৈশ্বিক সরবরাহের ক্ষেত্রে, এই রাসায়নিকের ইরানি রপ্তানি মোট বাজারের ২ শতাংশেরও কম, তাই এর প্রভাব ততটা গভীর নয়।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলের হাইফায় একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালিয়েছে।

তারা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলে বেসামরিক ও জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী থাকবে।

থিও/অমিয়/