সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুজ অধ্যুষিত সুইদা শহরে বেদুইন গোষ্ঠী ও স্থানীয় দ্রুজ সম্প্রদায়ের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
সোমবার (১৪ জুলাই) এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
এপ্রিল ও মে মাসে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ডজনখানেক মানুষের মৃত্যুর পর এটি ওই এলাকায় প্রাণঘাতী সহিংসতার প্রথম ঘটনা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৭ জন দ্রুজ, যাদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। বাকি ১০ জন বেদুইন।
এর আগে রবিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইদা ২৪ এক প্রতিবেদনে জানায়, সহিংসতার কারণে দামেস্ক-সুইদা মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় ।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষে ৩০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ওই এলাকায় সেনা মোতায়েন করবে।
সুইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর তার অঞ্চলের জনগণকে আত্মসংযম প্রদর্শন করতে এবং জাতীয় সংস্কারের ডাকের প্রতি সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া, বেশ কয়েকজন দ্রুজ ধর্মীয় নেতাও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সঙ্গে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য দামেস্কের প্রতিও অনুরোধ জানান।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সানার প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দারা ও সুইদা প্রদেশের প্রশাসনিক সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
গৃহযুদ্ধ শুরুর আগে সিরিয়ায় বসবাসকারী দ্রুজ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ। এর মধ্যে সুইদা প্রদেশেই সবচেয়ে বড় দ্রুজ জনগোষ্ঠী বাস করে। বেদুইন ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছে এলাকাটিতে। প্রায়ই ছোটখাটো সংঘর্ষ লেগেই থাকে।
বাশার আল আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর নতুন সরকারের অধীনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও হিমশিম খাচ্ছে তারা।
উল্লেখ্য সুইদা প্রদেশে বেদুইন ও দ্রুজ গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মাঝে মধ্যেই এই দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, এএফপি
সুমন/