ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিড ও এহুদ ওলমার্ট ইসরায়েল সরকারের গাজায় ‘মানবিক শহর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এ বিষয়ে এহুদ ওলমার্ট ইসরায়েলের ‘মানবিক শহর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে বলেন, ‘এটি একটি বন্দিশিবির। আমি দুঃখিত।’
অন্যদিকে ইয়ার লাপিড বলেন, ‘আমি মানবিক শহরকে ঘাঁটি বা বন্দিশিবির বলতে চাই না, কিন্তু যদি সেখান থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে সেটি আসলে একটি বন্দিশিবিরই হয়।’
সোমবার (১৪ জুলাই) গার্ডিয়ান ও ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর বরাদ দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওলমার্ট বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের মানবিক শহরে পাঠানোর বিষয়টি জাতিগত নির্মূলকরণের একটি অংশ। এই মানবিক শহর তাদের রক্ষা করার জন্য নয়। এটি ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার, ঠেলে দেওয়ার এবং ফেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা। আমার কাছে এ বিষয়ে এর চেয়ে ভাল কোনো ব্যাখ্যা নেই।’
এ ছাড়া ইয়ার লাপিড ও এহুদ ওলমার্ট রবিবার গাজায় বোমা হামলায় ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহতের তীব্র সমালোচনা করেন।
ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিড ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে বলেন, ‘রাফাহ শহরের ধ্বংসাবশেষের ওপর মানবিক শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা থেকে কোনো ভালো কিছু আসবে না।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ সব দিক থেকে এই পরিকল্পনা একটি খারাপ ধারনা।’
উল্লেখ্য লাপিড ২০২২ সালে ছয় মাসের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ইসরায়েলি সরকারের মতে, প্রাথমিকভাবে মানবিক শহরটিতে গাজা উপত্যকার দক্ষিণ উপকূলের আল-মাওয়াসির এলাকার তাবুতে বসবাসকারী ৬ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিকে রাখা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত গাজার পুরো জনসংখ্যা সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ শহরে ধ্বংসের অভিযান আরও জোরদার করেছে। চার এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে ধ্বংস হওয়া ভবনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫,৮০০টি। চার জুলাইয়ের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮,৬০০টিতে। সূত্র: আল-জাজিরা
সুমন বিশ্বাস/