পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিমান শাখায় যুক্ত হয়েছে চীনের তৈরী জেড-১০এমই (Z-10ME) অ্যাটাক হেলিকপ্টার। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম শনিবার (২ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হবে জেড-১০ সিরিজের প্রথম রপ্তানি চুক্তি, যা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে, উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর মুলতান সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বহরে যুক্ত করেন। ‘দ্য নিউজ’ নামের একটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তরের (আইএসপিআর) বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পাক সেনাপ্রধান এ হেলিকপ্টার আনুষ্ঠানিকভাবে বহরে যুক্ত করেন। ছবি: সংগৃহীত
জেড-১০এমই একটি সর্বাধুনিক, যে কোনো আবহাওয়ায় কার্যকর, দিন-রাত সব সময় পরিচালনাযোগ্য একটি হেলিকপ্টার। এতে রয়েছে উন্নত রাডার প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট, যা সেনাবাহিনীর স্থল ও আকাশভিত্তিক বিভিন্ন হুমকির মোকাবিলায় সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
মুলতান সফরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান মুজাফফরগড় ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে এই নতুন হেলিকপ্টারের ফায়ার পাওয়ার প্রদর্শনও প্রত্যক্ষ করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (AVIC) ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে প্রথমবারের মতো এই মডেলের হেলিকপ্টার প্রদর্শন করে। তবে সে সময় কোনো রপ্তানি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানই এখন পর্যন্ত একমাত্র রপ্তানি গ্রাহক হিসেবে চিহ্নিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের পক্ষ থেকে চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
জেড-১০এমই হেলিকপ্টার
চীনা সামরিক বিশ্লেষক ফু ছিয়ানশাও ‘গ্লোবাল টাইমস’কে বলেন, জেড-১০এমই-র এটি প্রথম রপ্তানি এবং এটি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কার্যকর অবদান রাখবে। তিনি জানান, এই হেলিকপ্টার ভার্টিক্যাল টেকঅফ ও ল্যান্ডিং করতে পারে এবং স্থির ভঙ্গিতে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে, যা মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা এনে দেয়। এর জন্য আলাদা রানওয়ে বা এয়ারবেইসের প্রয়োজন পড়ে না।
তিনি আরও বলেন, হেলিকপ্টারটি রকেট, অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম, যা প্রচলিত ও সন্ত্রাসবিরোধী উভয় ধরনের অভিযানে কার্যকর হবে।
আরেক চীনা বিশ্লেষক ঝ্যাং শুয়েফেং বলেন, পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় জেড-১০এমই-তে অতিরিক্ত বর্ম, ওয়ার্নিং সেন্সর ও জ্যামিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে, যা এর বেঁচে থাকার সক্ষমতা ও যুদ্ধ-নির্ভরতা বাড়ায়।
বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী অ্যাটাক হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে। ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গ্রাউন্ড ফাইটিং ক্যাপাসিটি আরও বাড়বে। পাকিস্তানের চিরবৈরী প্রতিবেশি ভারতও বড় সংখ্যক অ্যাটাক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী অত্যাধুনিক এপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো হেলিকপ্টার নেই। সূত্র: ডন
মাহফুজ/