হাইতির রাজধানীর পোর্ট-অব-প্রিন্সের কাছে একটি এতিমখানা থেকে সোমবার (৪ আগস্ট) ভোরে একজন আইরিশ ধর্মপ্রচারক এবং তিন বছরের একটি শিশুসহ নয়জনকে অপহরণ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটিতে ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতা বাড়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও এখন পর্যন্ত অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে কোনও মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি। খবর এএফপি।
রাজধানী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কেনস্কফ কমিউনের সেন্ট-হেলেন এতিমখানা থেকে ভুক্তভোগীদের অপহরণ করা হয়।
অপহৃতদের মধ্যে আইরিশ ধর্মপ্রচারক জেনা হেরাটি এতিমখানার তত্ত্বাবধান করেন। 'নোস পেটিটস ফ্রেরেস এট সোয়ার্স (আমাদের ছোট ভাই ও বোনেরা)' নামের একটি মানবিক সংস্থার সহায়তায় এটি পরিচালিত হয়।
হামলাকারীরা ভোরের দিকে এতিমখানার একটি প্রাচীর ভেঙে কোনো গুলি না করে একদম নি:শব্দে প্রবেশ করে হুংকার দিয়ে জানায়, ‘এটি একটি পরিকল্পিত কাজ।’
হেরাটি ১৯৯৩ সাল থেকে হাইতিতে বসবাস করছেন । তিনি এই এতিমখানাটিতে ২৭০ জন শিশু লালন-পালন করার কাজ পরিচালনা করেন। হাইতিতে অপহরণের শিকার হওয়া তিনি সর্বশেষ বিদেশী মিশনারি।
২০২১ সালের এপ্রিলে, ক্রোয়েস ডেস বুকেটসে অপহৃত দশজনের মধ্যে দুজন ফরাসি পুরোহিত ছিলেন, প্রায় তিন সপ্তাহ পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সেই অপহরণের পেছনেও একই দল জড়িত ছিল। ‘৪০০ মাওয়াজো’ নামের এই গ্যাং ছয় মাস আগেই ১৭ সদস্যের আমেরিকান এবং কানাডিয়ান মিশনারির একটি দলকে জিম্মি করে।
এই বছরের শুরু থেকেই ‘ভিভ আনসানম (একসাথে বসবাস)’ নামের আরেকটি গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। তারা ইতোমধ্যেই আরও বেশ কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জানায়, এবছরের প্রথমার্ধে হাইতিতে কমপক্ষে ৩,১৪১ জন নিহত হয়েছেন। গ্যাং সহিংসতার ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেশটিকে আরও অস্থিতিশীল করে ফেলেছে।
সুলতানা দিনা/