বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ সামাল দিতে অভিনব এক কৌশল বেছে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক উদ্যোক্তা যুগল। তাদের বিয়েতে অতিথিদের ঢুকতে হয়েছে টিকিট কেটে! শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপল’-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্লি জ্যাক্স এবং স্টিভ জে লারসেন সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। আর পাঁচটা সাধারণ বিয়ের মতো করেই বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু অনুষ্ঠানের জন্য হলের ভাড়া শুনে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে যান তারা।
এসময় তারা বুঝতে পারেন, স্বাভাবিক নিয়মে বিয়ে করতে গেলে জীবনের বড় একটি সময় পর্যন্ত মোটা অঙ্কের ঋণের বোঝা বইতে হবে তাদের। তখনই তাদের মনে এই অভিনব চিন্তা আসে। এরপর সিদ্ধান্ত নেন নিজেদের বিয়েতে তারা টিকিটের ব্যবস্থা করবেন!
দুই ধরনের টিকিটের ব্যবস্থা ছিল তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে—সাধারণ আর ভিআইপি। সাধারণ টিকিটের দাম ধরা হয় ৫৭ মার্কিন ডলার। আর ভিআইপি টিকিটের দাম ছিল ৯৯৭ ডলার। যারা সাধারণ টিকিট কেটেছেন তারা শুধু বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরেছেন। আর ৯৯৭ ডলারের টিকিটে মূল অনুষ্ঠান ছাড়াও ‘রিহার্সাল ডিনার’ এবং ‘বায়োহ্যাকিং ব্রাঞ্চ ও রিকভারি লাউঞ্জ’-এর প্রবেশাধিকা পান।
জ্যাক্স বলেন, ‘বিয়ে একটি বহু-বিলিয়ন ডলারের শিল্প, যেখানে দম্পতিরা মাত্র একদিনের বিলাসিতার জন্য ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আমি এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চেয়েছিলাম। আমি জানি, এই ভাবনাটা নতুন এবং প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে। কিছু মানুষ একে দৃষ্টিকটু বলতে পারে। আমাদের লোভী ভাবতে পারে। কিন্তু ব্যাপারটা এমন ছিল না। যারা আমাদের বিশেষ দিনটির উদ্যাপনের অংশ হতে চেয়েছেন তারা এসেছেন। আর তাদের অবদান আমাদের ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে।’
জ্যাক্স নিজের সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ সম্পর্কে একটা জরিপ করেন। সেখানে তার অনুসারী ও বন্ধু-বান্ধবেরা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান এখন অনেক বেশি লোক দেখানো হয়ে গিয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত খরচ সামলাতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
এরপর জ্যাক্স বিয়ের অনুষ্ঠানে টিকিট বিক্রি করা উচিত কি না, টিকিটের বিক্রি করা উচিত হলে কত দাম রাখা যেতে পারে এ নিয়েও একটি জরিপ করেন। অনেকে সমালোচনা করলেও অনেকেই টিকিট কিনে বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে রাজি হন।
অবশেষে তারা নিজেদের বিয়ের টিকিট বিক্রি করতে রাজি হন। তাদের বলেন, ‘আমরা সবাইকে বলেছিলাম আমাদের জন্য কোনো উপহার কিনতে হবে না। শুধু নিজেদের খাবার খরচটা দাও। আর আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনটায় আমাদের সঙ্গে থাকো। এতে তাদের ওপরও উপহার কেনার চাপ ছিল না। আর আমরাও কোনো ঋণ ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠান করতে পেরেছি।’
অনেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিলেও কিছু মানুষ অসন্তুষ্ট ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের টিকিট কেনার প্রয়োজন ছিল না; তাদের শুধু আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে অনলাইনে দেখার পর তারা টিকিট কিনবেন কি না।
তবে, জ্যাক্স তার এই উদ্যোগ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কও মেনে নেন। তিনি জানান, বিয়ে নিয়ে এখন যুগলদের ওপর যে চাপ তৈরি হয় তা কমানোর যে পথ থাকতে পারে তা বোঝানোই এমন আয়োজনের কারণ ছিল। আর্থিক সমস্যা দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা। জীবন শুরুর আগেই হাজার হাজার ডলার ঋণ নেওয়া একটি বড় ভুল।
জ্যাক্স ও লার্সেনের এই অভিনব বিয়ের টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় দেড়শটি। ১০০টি সাধারণ ও ৩০টি ভিআইপি টিকিট বিক্রি করেছেন তারা। ফলে,বিয়েতে যা খরচ হয়েছে তার চেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছেন তারা। বাকি টাকা ‘ভিলেজ ইম্প্যাক্ট’ নামে একটি দাতব্য সংস্থাকে দান করে দিয়েছেন তারা।
সুলতানা দিনা/