শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহেকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার হলেন। তিনি ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দ্বীপ রাষ্ট্রটির ক্ষমতায় ছিলেন। বিবিসির প্রতিবেদন।
রনিল বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদেশ সফরে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাজধানী কলম্বোর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রনিল বিক্রমাসিংহকে হাজির করা হয়। যদিও এর আগেই তিনি অভিযোগের বিষয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তার ভাষ্য জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ২০২২ সালে বিক্রমাসিংহে ক্ষমতায় আসেন। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির বেহাল পরিস্থিতি তিনি বেশ খানিকটা চাঙ্গা করেন।
এর আগে, বিক্রমাসিংহে ১৯৯০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আলাদা আলাদাভাবে মোট ছয়বার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
১৯৭৭ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দ্বীপ রাষ্ট্রটির রাজনীতিতে তিনি প্রভাবশালী হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। পেশায় আইনজীবী বিক্রমাসিংহে বেশ অবস্থাপন্ন পরিবার থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। তার পরিবারে রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক।
৭৬ বছর বয়সী এ রাজনীতিক প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মোট ২৩টি দেশ সফর করেছিলেন, তাতে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছিল। এর মধ্যে কিউবায় ২০২৩ সালে জি৭৭ সম্মেলনও রয়েছে। ওই সম্মেলন শেষে ফেরার পথে বিক্রমাসিংহে যুক্তরাজ্যে যাত্রা বিরতি নিয়েছিলেন।
এরপর তিনি ও তার স্ত্রী ওলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এ সফরকে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে ব্যক্তিগত ভ্রমণ বলে অভিযোগ করেছে শ্রীলঙ্কার সিআইডি। এই অভিযোগেই সাবেক প্রেসিডেন্টকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, বিক্রমাসিংহে তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিআইডি প্রাথমিকভাবে জুন মাসেই তাদের তদন্তের বিষয়টি আদালতকে জানিয়েছিল।
সুলতানা দিনা/