ভেনেজুয়েলা ঘোষণা করেছে যে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তারা কলম্বিয়ার সীমান্তে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করবে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রও দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান এলাকায় লাতিন আমেরিকার মাদক ‘কার্টেল’ বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নতুন করে দু’টি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার এনার্জি বিষয়ক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ আগস্ট) জানিয়েছেন, তার দেশ কলম্বিয়ার জুলিয়া ও টাচিরা রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করতে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করবে। এই দুই রাজ্যের সঙ্গে কলম্বিয়ার সীমান্ত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এখানে আমরা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করি; এখানে আমরা সব ফ্রন্টে কার্টেলবিরোধী অভিযান চালাই। তিনি আরও জানান, এই বছর এখন পর্যন্ত ৫৩ টন মাদক জব্দ করা হয়েছে।
ক্যাবেলো বলেছেন, কলম্বিয়ার সীমান্তে ‘অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই’ করার জন্য নিরাপত্তা জোরদারকরণে বিমান, ড্রোন এবং নদীপথেও নিরাপত্তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষকেও সীমান্তে শান্তি নিশ্চিত করতে একইরকম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভেনেজুয়েলার সীমান্তে সেনা শক্তি বৃদ্ধি এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, যেখানে তারা দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কোকেন পাচারে এবং মাদক কার্টেলের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগ এনেছিল।
ওয়াশিংটন ডিসির কর্মকর্তারা মাদুরো ও ক্যাবেলোকে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ বা (সূর্য কার্টেল) নামের মাদক পাচার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে নাম নিয়েছেন। এ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে মাদুরোর গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কার দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। এ বছরের শুরুতে ক্যাবেলোর গ্রেপ্তার বা বিচারের জন্য পুরস্কার ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলারে বাড়ানো হয়েছিল।
মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলায় শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালানোর চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন এবং দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করতে লাখ লাখ মিলিশিয়া সদস্যের নাম লিখিয়ে নেওয়ার জাতীয় অভিযান চালিয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে মাদুরো বলেছেন, “আমি নিশ্চিত, আমরা জীবনের এই পরীক্ষা, এই মহাদেশের শান্তির প্রতি এই সাম্রাজ্যবাদী হুমকি, এবং আমাদের দেশের জন্য এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারব।”
রয়টার্স নিউজ এজেন্সি সোমবার আরও জানিয়েছে, USS লেক এরি (একটি গাইডেড মিসাইল ক্রুজার) এবং USS নিউপোর্ট নিউজ (একটি নিউক্লিয়ার শক্তি চালিত দ্রুত আক্রমণকারী সাবমেরিন) আগামী সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ ক্যারিবিয়ানে পৌঁছাবে।
রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইলবাহী ক্রুজার ও সাবমেরিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই অ্যামফিবিয়াস স্কোয়াড্রনের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা আগামী রবিবার ভেনেজুয়েলার উপকূলে পৌঁছানোর কথা। এই স্কোয়াড্রনে তিনটি অ্যামফিবিয়াস শিপ বা স্থলবাহিনী বহন করার জাহাজ রয়েছে। এগুলো হলো USS সান অ্যান্টোনিও USS iwo Jima এবং USS ফোর্ট লরডারডেল রয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে এতে ৪ হাজার ৫০০ জন মার্কিন সেবক, যার মধ্যে ২,২০০ জন ম্যারিন সেনা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলবিরোধী অভিযানকে অগ্রাধিকারভিত্তিক কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে নিয়েছেন এবং মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলসহ অন্যান্য মাদক গোষ্ঠী, ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া ক্রিমিনাল গ্রুপকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/