ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫
Nagad desktop

ট্রাম্পের অধিকাংশ বৈশ্বিক শুল্কারোপ অবৈধ: মার্কিন ফেডারেল আদালত

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩১ এএম
ট্রাম্পের অধিকাংশ বৈশ্বিক শুল্কারোপ অবৈধ: মার্কিন ফেডারেল আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত। বিবিসির খবর।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঘোষিত এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত বলছে, বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইপিএ) আইনের অপব্যবহার করেছেন। রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহারের আদেশও দিয়েছেন আদালত।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা এই রায় এবং এর মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া সম্ভাব্য আইনি লড়াই দেশটির পররাষ্ট্র নীতির এজেন্ডাকে উলটে দিতে পারে।

এই রায় ট্রাম্পের চীন, মেক্সিকো এবং কানাডা সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর আরোপিত "পারস্পরিক" শুল্কের উপরও প্রভাব ফেলবে।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেখিয়েছে যে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে  তাদের শুল্ক আরোপের অনুমতি ছিল। তবে,  ৭-৪ ভোটে, ফেডারেল আপিল আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া, এগুলোকে আদালত "আইনের পরিপন্থী এবং অবৈধ" বলেও অভিহিত করেছে।

অবশ্য এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করতে পারবেন ট্রাম্প। ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পকে সেই সময় দিয়েছেন। 
শনিবারের (৩০ আগস্ট) রায়ে আপিল আদালত বলেছে, আগামী ১৪ অক্টোবরের পর এই রায় কার্যকর হবে।

গত শুক্রবার রায় ঘোষণার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন ফেডারেল আদালতের ১১ জন বিচারক। তাদের মধ্যে ৭ জন ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন।

১২৭ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপে আদালত বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী শুল্ক বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আরোপের এক্তিয়ার কংগ্রেসের (মার্কিন আইন পরিষদ); প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এক্ষেত্রে সীমিত। আইইপিএ আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ কিংবা প্রত্যাহার করতে পারেন, কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে বা পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট এ আইন প্রয়োগ করবেন— আইনে সেই নির্দেশনা দেওয়া আছে।’ 

আদালত বলেছে, ‘সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর  অতিরিক্ত যে শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইইপিএ আইন মানা হয়নি।’

এছাড়া, আদালত আরো বলেছে, ‘কোনো দেশের ওপর আইইপিএ আইন প্রয়োগের জন্য কংগ্রেসের সুপারিশ থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আইইপিএ আইনের আওতায় যেসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন— অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের সুপারিশ অনুযায়ী তা হয়নি।’

সুলতানা দিনা/

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন
ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজায় গত ৪৮ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫ জন।

গুরুতর আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ।

 খবরটি নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনার ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছে মাত্র ৭ মাস বয়সী এক শিশু। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার বাবা ও মা।

 অবশ্য ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, সৈন্যদের দিকে একটি গাড়ি এগিয়ে আসতে দেখেই নিরাপত্তার স্বার্থে গুলি ছোড়ে তারা।

গেলো বছরের অক্টোবর থেকে কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলে অব্যাহত হামলায় প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ১ হাজার মানুষের।

গুরুতর আহত হয়েছে প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি।

এসএন/

কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি মার্কিন ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝআকাশেই ভূপাতিত করে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিকল হয়ে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা সদস্যের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বাহিনী আরও জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সত্য নয়।

এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শনিবার ভোরে বাহরাইনজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে করে তুলতে পারে আরও জটিল। সূত্র: বাসস

আমান/

অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশিসহ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৫ জুন) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের ১০টি পৃথক চেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।

এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, ভারত একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জাতীয়তার সত্যতা নিশ্চিত হতে হয়। তিনি বলেন, ‘এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। আমরা যখন এই ধরনের মামলাগুলো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে পাঠাই, তখন তারা ওই ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করে। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাই।’

মুখপাত্র আরও জানান, ‘আমাদের এই ধরনের অনেক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে ঝুলে রয়েছে। আমরা আশা করি, এই অনুরোধগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন। দীর্ঘ সাত বছর পর পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ‘কিম জং উনের আমন্ত্রণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং ৮ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফরে যাচ্ছেন শি।

চীন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটি কোণঠাসা অবস্থায় আছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তারা একে অপরকে সহায়তা প্রদান করবে। এই বছর সেই চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হবে।

কিমের কাছে শির সফরের প্রচারণাগত গুরুত্ব সুস্পষ্ট। মহামারি মোকাবিলা করে এবং রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর পিয়ংইয়ং বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান উন্নত করেছিল।

পিয়ংইয়ং ও মস্কো উভয়ের সঙ্গেই বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিম ও পুতিনের মধ্যে গড়ে ওঠা জোট নিয়ে শি সন্দিহান। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বেইজিংই কিমের জন্য প্রধান জীবনরেখা হয়ে আছে। আশা করা হচ্ছে, কিম স্থল সীমান্ত দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্য এবং তার নবনির্মিত সমুদ্রসৈকত ও স্কি রিসোর্টগুলো প্রাণবন্ত করতে আরও বেশি চীনা পর্যটক চাইবেন।

কিম গর্বের সঙ্গে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগার প্রদর্শন করে আসছেন। তিনি সফররত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজধানী পিয়ংইয়ংও প্রদর্শন করছেন। তিনি বিশ্বকে জানাতে চান, এই সবকিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতজানু না হয়ে বা দক্ষিণের সঙ্গে কোনো সম্পর্কে না জড়িয়েই অর্জন করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করেছে যে তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই একটি নতুন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম বলেছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার ‘অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে’। সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রচেষ্টা চলছে। ইসরায়েলেও এই সমঝোতার সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

একটি চুক্তি হতে পারবে কি না এটা আসল প্রশ্ন নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি একটি সমঝোতায় পৌঁছায় তাহলে ইসরায়েল কী করবে?

ইসরায়েলি গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং নিরাপত্তা মহলে বিতর্কটি এখন চুক্তিটি পুরোপুরি ঠেকানোর চেষ্টার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। পরিবর্তে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তি মোকাবিলার উপায় নিয়ে বেশি মনোযোগী ইসরায়েল। শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই নয়, বরং এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।ইসরায়েলের উদ্বেগের একটি প্রধান দিক হলো, সম্ভাব্য যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির একটি সংশোধিত সংস্করণের অনুরূপ হবে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। কিন্তু তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক, ড্রোন এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি যুদ্ধের শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারবে না, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা, তেহরানের সামরিক কাঠামো দুর্বল করা এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা।

সংবাদমাধ্যমটির মতে, এই পর্যায়ে ইসরায়েলের লক্ষ্য হয়তো ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহর সৃষ্ট হুমকি বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা আদায় করা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলে কোনো ঐকমত্য নেই। ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ডিরেক্টরেটের ইরান বিভাগের সাবেক প্রধান ড্যানি সেট্রিনোভিচ তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গড়ে ওঠা চুক্তিটি ‘অনেক দিক থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি ভীতিকর পরিস্থিতি’ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি চূড়ান্ত আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকে এবং ট্রাম্প প্রশাসন এতে ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে নেতানিয়াহু এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন, যা তার মতে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির চেয়েও খারাপ।

এমন একটি পরিস্থিতি, যা ড্যানি সেট্রিনোভিচ নিম্নরূপভাবে বর্ণনা করেছেন: ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো প্রকৃত নিষেধাজ্ঞা নেই, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় গ্রহণের কোনো আশা নেই এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ছে।’ দানি চেত্রিনোভিচ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ‘অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ’ চুক্তিও কোনো চুক্তি না থাকার চেয়ে ভালো হতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের সবাই এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, যদি এই যুদ্ধ ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে যেকোনো চুক্তিই একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

 এই মতবিরোধটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও বিশ্লেষণমূলক পরিমণ্ডলের একটি শূন্যতাকে প্রতিফলিত করে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, একটি সম্ভাব্য চুক্তি ইসরায়েলের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। কিন্তু আলোচনার সম্পূর্ণ ব্যর্থতা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামনে একাধিক বিকল্পও রয়েছে।

প্রথম বিকল্প: চুক্তিটি কঠিন করার চেষ্টা করা

ইসরায়েলের কাছে থাকা প্রাথমিক বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো যেকোনো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা। গত ৬ মে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জেরুজালেম ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ আমিদ্রোরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইরানের সাথে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং একটি কঠোর প্রয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

দ্বিতীয় বিকল্প: সামরিক কার্যকলাপের স্বাধীনতা বজায় রাখা

কিন্তু আরেকটি বিকল্পও রয়েছে, যা ইসরায়েল যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি সত্ত্বেও বজায় রাখতে চাইতে পারে। যাকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘কর্মের স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করেন। যার অর্থ হলো ইরান ও এই অঞ্চলে থাকা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলা বা সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা বজায় রাখা।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেছেন, ‘যদি ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ না হয়, তবুও তার কাছে সমস্ত বিকল্প খোলা থাকবে।’তিনি মনে করেন ইসরায়েল কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু যে চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করেনি, তার দ্বারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের আবদ্ধ বলে বিবেচনা করার সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিশ্লেষণে লিখেছে, সরাসরি মার্কিন সমর্থন ছাড়া ইরানের সঙ্গে একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা সীমিত থাকবে। বিশেষ করে যদি ওয়াশিংটন কূটনীতির পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তৃতীয় বিকল্প: গোপন যুদ্ধে প্রত্যাবর্তন

নতুন চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে যদি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়, তবে তারা একটি নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। আর তা হলো ‘যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধ’। এর মধ্যে সাইবার অভিযান, অন্তর্ঘাত এবং অতীতের মতোই লক্ষ্যবস্তুকে গুপ্তহত্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। 

ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মহলে এমন কথাও চলছে, বিষয়টি শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম গোষ্ঠী ওয়াইনেট-এর ওয়েবসাইট গত মার্চে জানিয়েছে, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী একটি মূল্যায়ন দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা উস্কে দিতে সাহায্য করতে পারে। সূত্র: বিবিসি