সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সৌদি আরব-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কোথাও পারমাণবিক শক্তি বা প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে পারমাণবিক শক্তিধর একমাত্র মুসলিম দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির গতি-প্রকৃতি বদলে দেবে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।
এই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি বলেছেন, দুই দেশের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে প্রয়োজনে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি সৌদি আরবের জন্য ‘সহজলভ্য করা হবে’।
ইসলামাবাদ যে রিয়াদকে তার পারমাণবিক সুরক্ষার অধীনে এনেছে—এই বক্তব্যই তার প্রথম কোনো সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতি।
বলা যায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফের এই মন্তব্য পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশকের সামরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকেরা এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের প্রতি একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন। ইসরায়েলকে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তি হিসেবে মনে করা হয়। গত সপ্তাহে কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার পর গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফকে প্রশ্ন করা হয় যে ‘পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র থেকে যে প্রতিরোধক্ষমতা পায়’, তা কি সৌদি আরবের জন্যও সহজলভ্য করা হবে?
জবাবে আসিফ বলেন, ‘পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই: সেই সক্ষমতা অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যখন আমরা পরীক্ষা চালিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমাদের কাছে যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রশিক্ষিত বাহিনী রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের যা আছে এবং যে সক্ষমতা আমাদের আছে, তা এই চুক্তি অনুযায়ী (সৌদি আরবের জন্য) প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার দুই দেশ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে ঘোষণা করা হয়, এক দেশের ওপর হামলা হলে তা অন্য দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) পর্যবেক্ষণ চুক্তিতে দুই দেশই স্বাক্ষর করেছে।
এদিকে, সৌদি আরব জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্য আনা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান আল সৌদ জানান, রিয়াদ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত।
তবে সৌদি আরব বারবার এও স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর পথে হাঁটতে চায় না।
২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘War’ বইয়ে মার্কিন সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড উল্লেখ করেন, এক আলোচনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নাকি মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকে বলেছিলেন—রিয়াদ কেবল জ্বালানি উৎপাদনের জন্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।
গ্রাহাম এ নিয়ে উদ্বেগ জানালে যুবরাজ জবাবে বলেন, ‘বোমা বানাতে আমার ইউরেনিয়ামের দরকার নেই। আমি চাইলে পাকিস্তান থেকেই একটি কিনে নিতে পারি।’
সুলতানা দিনা/