গাজার জন্য সহায়তা নিয়ে যাওয়া গ্লোবাল সুমুড ফ্লোটিলাকে (জিএসএফ) রক্ষায় ভূমধ্যসাগরে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠিয়েছে স্পেন ও ইতালি। বৃহস্পতিবার ( ২৫ সেপ্টেম্বর) ইতালি জানিয়েছে, তারা দ্বিতীয় জাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্লোটিলাকে রক্ষায়। অন্যদিকে স্পেনও নিশ্চিত করেছে তাদের নৌবাহিনীও এ লক্ষ্যে কাজ করবে।
ফ্লোটিলায় করে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গেছেন অধিকারকর্মীরা। বুধবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি বাহিনী সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি হিসেবে অভিহিত করেছেন অধিকারকর্মীরা। মূলত ফ্লোটিলাকে লক্ষ্য করে যাতে ইসরায়েল ড্রোন হামলা আর চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যেই রওনা হয়েছে ওই জাহাজ দুটি।
গাজায় হত্যাযজ্ঞ চলছে
এদিকে ইসরায়েলি হামলায় মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় গতকাল অন্তত ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের ১১ জন শিশু। গাজার আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় একটি পারিবারিক নিবাসকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলাতেই মারা যায় ওই ১৫ জন।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা আরও বেড়েছে। তারা গাজা সিটির দখল নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে অভিযান চালাচ্ছে। বাদবাকি গাজা এরই মধ্যে ইসরায়েলের দখলে চলে গেছে। শুধু গাজা সিটিই বাকি। ফলে ওই শহরটির ওপর বোমাবর্ষণ থেকে শুরু করে স্থলভাগে অভিযান- সবই চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলের এসব কর্মকাণ্ডে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ইসরায়েল অভিযান শুরু করার আগে গাজা সিটিতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েক লাখ বের হতে পারলেও বাকিরা এখনো রয়ে গেছেন ভেতরে। যারা ওই শহরের অভ্যন্তরে রয়েছেন এবং যারা বের হয়ে এসেছেন- দুই দলেরই যাওয়ার মতো নিরাপদ কোনো স্থান নেই। পুরো গাজাই ইসরায়েলি আক্রমণে ধ্বংসস্তূপ প্রায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলছে গাজার যুদ্ধ। এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের আক্রমণে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬০ জন। সূত্র: আল-জাজিরা