ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার একটি স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ডজনখানেক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা আজ মঙ্গলবার জানান, এই ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ৯৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কর্মকর্তারা আরও জানান, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
পূর্ব জাভার সিডোয়ার্জো শহরের আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের ধ্বংসস্তূপের নিচে কমপক্ষে আরও ৩৮ জন আটকা পড়ে আছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর। গতকার সোমবার প্রার্থনার জন্য জড়ো হওয়ার সময় ভবনটি ধসে পড়ে।
দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, দোতলা ভবনটির ভিত্তি দুর্বল ছিল এবং এটি আরও দুটি তলার নির্মাণকাজের ভার বহন করতে পারেনি।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রীরা ভবনের অন্য অংশে প্রার্থনা করায় তারা পালাতে সক্ষম হয়েছিল। এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, ধসে পড়া অংশটি সম্পূর্ণ মাটির নিচে দেবে গেছে এবং কংক্রিটের বড় বড় স্ল্যাব বেরিয়ে আছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কান্নার এবং চিৎকার করার শব্দ শোনা যাচ্ছে। এদিকে, উদ্বিগ্ন আত্মীয়-স্বজনরা প্রিয়জনদের খবর জানার অপেক্ষায় রাতভর স্কুলের বাইরে অপেক্ষা করছেন।
ডজনখানেক উদ্ধারকর্মী রাতভর জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েছেন, কিন্তু মঙ্গলবার উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি আরও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাস (Basarnas)-এর প্রধান মোহাম্মদ সাইয়াই বলেন, ধসে পড়া ভবনটি প্যানকেকের মতো কাঠামোতে পরিণত হয়েছে, যেখানে কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো স্তরে স্তরে জমে যাওয়ায় কেবল সরু ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে, পরিস্থিতিও অস্থির এবং এর নিচে এখনো জীবিতরা আটকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, তার সংস্থা একটি ‘বিশেষায়িত অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই অঞ্চলে কর্মরত ইউনিটগুলোকে বিশেষ উদ্ধারের সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা হবে।
রসিদা, যার ছেলে কাফা আহমেদ মাওলানা নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে, তিনি সোমবার সন্ধ্যা থেকে খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানান। ৪৭ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ঘটনার আগের দিন আমি তার সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলাম, এবং সেই কথোপকথনে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। তার অন্য এক সন্তান, যেও ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
এই ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে তাদের ভয়াবহভাবে বেঁচে ফেরার কথা বর্ণনা করেছে।
সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মুহাম্মদ রিজালুল কোয়াইব (Muhammad Rijalul Qoib) জানায়, শত শত লোক প্রার্থনা করার জন্য জড়ো হয়েছিল যখন তারা পাথর পড়ার শব্দ শুনতে পায়।
এই মাসের শুরুর দিকে, পশ্চিম জাভায় প্রার্থনা সভার জন্য জড়ো হওয়া একটি ভবন হঠাৎ ধসে পড়লে কমপক্ষে চারজন নিহত এবং ডজনখানেক আহত হয়। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/