আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদসহ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে এ হামলা চালানো হয়।
একটি সূত্র বলছে, একটি চলন্ত গাড়ি ও একটি ভবন লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় গাড়িতে নূর ওয়ালি মেহসুদ ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। যদিও এখনো তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
টিটিপি এই হামলার প্রতিশোধ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কাবুলের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী শুক্রবার পেশোয়ার কর্পস সদরদপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন। সংবাদ সম্মেলনে এ হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবরণ ও বিস্তারিত জানাতে পারেন।
সম্ভাব্য বিমান হামলার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ভারত সফরে গেছেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেখানে তিনি নয়াদিল্লির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা করবেন। তার সফরের মাঝেই কাবুলে বিমান হামলার ঘটনা ঘটল।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রশাসন টিটিপির সন্ত্রাসীদের সীমান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের কাছে অর্থ চেয়েছিল।
জাতীয় পরিষদে বক্তৃতা দেওয়ার সময় আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টিটিপি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন এবং তাদের দেশে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আমি আইএসআই ডিজির সঙ্গে কাবুল গিয়েছিলাম (২০২৩ সালে) এবং তাদের বলেছিলাম, টিটিপি সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সমর্থন বন্ধ করতে। তাদের আপনার অঞ্চল থেকে সরিয়ে দিতে এবং তাদের আস্তানাগুলো ভেঙে দিতে।
আসিফ দাবি করেন, টিটিপি সদস্যদের সরিয়ে দিয়ে তারা (আফগান তালেবান কর্মকর্তারা) পাকিস্তানের কাছে ১০ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার) চেয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম- অর্থ পাওয়ার পরেও তারা ফিরে আসবে না, তার কি নিয়শ্চয়া আছে? তারা নিশ্চয়তা দিতে অস্বীকার করেছিল। আসিফ বলেন, ইসলামাবাদ দাবি মেনে নেয়নি।
আসিফ উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, যথেষ্ট হয়েছে এবং পাকিস্তান আর এই ধরনের হামলা সহ্য করবে না।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ওরাকজাই ও ডেরা ইসমাইল খান জেলায় গত দুই দিনে তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ১২ জন সেনা নিহত হয়েছেন। পরে অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ২৬ জন জঙ্গিকেও হত্যা করেছে। সেনাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: পাকিস্তান অবজারভার, টিআরটি ওয়ার্ল্ড
এসজি/