যুক্তরাজ্য শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যাতে রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদগুলো ব্যবহার করে ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এ বিষয়ে তারা যাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছে।
এমন একটি সময় যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ওই আহ্বান এল, যখন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য লন্ডনে পৌঁছেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের দপ্তর জানিয়েছে, তিনি (স্টারমার) ‘কোয়ালিশন অব উইলিং’-এ থাকা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবেন যেন তারা রুশ তেল ও গ্যাসকে বিশ্ববাজার থেকে সরিয়ে দেয় এবং কিয়েভকে আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আগামী দুই বছরের জন্য ইউক্রেনের ‘জরুরি আর্থিক প্রয়োজন’ মেটাতে সম্মত হয়েছেন। তবে তারা এখনো রুশ সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে বিশাল ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনায় সম্মতি দেননি। বিষয়টি নিয়ে মূলত আপত্তি জানিয়ে রেখেছে বেলজিয়াম।
গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের বৈঠকে জেলেনস্কি ইউক্রেনের জন্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও জব্দ রুশ সম্পদ ব্যবহার করে আরও তাদের যাতে আরও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হয়- সে অনুরোধ জানিয়েছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার দুটি তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। ওই বিষয়কে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি। একে বড় রাজনৈতিক মোড় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ এক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। হাঙ্গেরিতে হওয়ার কথা ছিল বৈঠকটি। তবে আপাতত তা স্থগিত হয়ে গেছে। ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকটি অহেতুক নষ্ট হোক, তা চান না তিনি।
এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার বলেন, পুতিন ‘যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একদমই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বারবার আমরা পুতিনকে তার অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসন বন্ধের সুযোগ দিয়েছি, হত্যাযজ্ঞ থামাতে এবং সৈন্য ফিরিয়ে নিতে বলেছি। কিন্তু তিনি প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং শান্তির সব সম্ভাবনা নষ্ট করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখন রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে এগোতে হবে।’
এদিকে, মস্কো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, রুশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলে তারা আঘাত সৃষ্টি করার মতো প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ ছাড়া পুতিন বলেছেন, তেল কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা একটি ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। তবে এটি রুশ অর্থনীতিকে বড় পরিসরে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
শুক্রবার লন্ডনে যে আলোচনা হয়েছে, সেগুলোর কিছু হয়েছে প্রত্যক্ষভাবে। কিছু হয়েছে ভার্চুয়ালি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ওই আলোচনায় যোগ দেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেডেরিকসেন। সূত্র: রয়টার্স