ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, ‘অপারেশন সিন্দুর’ এখনো শেষ হয়নি, কেবল সাময়িকভাবে বিরতি দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাজনাথ সিং বলেন, পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল। তার ভাষায়, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—পাকিস্তানের ডিজিএমও বারবার ফোন করে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পরেই অভিযান স্থগিত করি। প্রয়োজন হলে আবারও করব।”
তিনি আরও বলেন, “যদি পাকিস্তান থেকে কোনো জঙ্গি ভারতে হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তারা যদি পাকিস্তানে পালিয়ে যায়, তবে আমরা পাকিস্তানে ঢুকে গিয়েই তাদের শেষ করব।”
রাজনাথ সিং বলেন, ভারত এর আগেও তা প্রমাণ করেছে—“ভারত পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, কোনো বেসামরিক নাগরিককে টার্গেট করা হয়নি।”
রাজনাথ সিং আরও বলেন, ভারত “বসুধৈব কুটুম্বকম”-এর নীতিতে বিশ্বাস করে এবং জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করে না।
সাক্ষাৎকারে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি যুদ্ধবিরতিতে কোনো ভূমিকা রেখেছিলেন কিনা, রাজনাথ সিং দৃঢ়ভাবে তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি কেবল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হয়েছিল। তৃতীয় কোনো পক্ষ এতে যুক্ত ছিল না।”
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হওয়া প্রসঙ্গে রাজনাথ মন্তব্য করেন, “উনি নিজেরাই পদোন্নতি নিয়ে নিয়েছেন”—এবং যোগ করেন, “পাকিস্তানের ওপর কোনোভাবেই ভরসা করা যায় না।”
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে অপারেশন সিন্দুর শুরু হয় ৭ মে, এর আগে ২২ এপ্রিল পাহালগাম হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত এই সামরিক অভিযান শুরু করে।
১০ মে, পাকিস্তানের পাল্টা গোলাবর্ষণ ও সীমান্তজুড়ে হামলার পর তা যুদ্ধে রুপ নেয়। যুদ্ধে ভারত তাদের গর্বের প্রতীক ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ একাধিক হারায়। দুই পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং বলেন, “ভবিষ্যতই বলে দেবে ভারত কী করবে। যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান কী করছে, তা দেখে ভারত কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তারা তাদের মতো করুক, আমরা আমাদের দেশের স্বার্থ অনুযায়ী যা ঠিক মনে করব, ঠিক সময়ে সেটাই করব।”
মাহফুজ/