ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ লাজ ফার্মায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আজই আবেদন করুন বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প-ইরান; বাতিল মার্কিন হামলা তুমি এলে বসন্তে একটা শুক্রবারের দিবাভাগ তোমাকে দেখার স্বাদ মিটবে না ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ লাবণ্য ধরে রাখো কীভাবে? খুব বেশি কিছু না 'সুবিধা হলে নিয়ম মানবে, না হলে নয়', মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জয়শঙ্করের দায়বদ্ধ রেফারিদের মাথায় কী? হৃদয়ের ভাঙা নীলিমা সময় একটি সাধনাযোগ্য শিল্প জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটি’তে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটি উল্টে প্রাণ গেল চালকের মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা কুষ্টিয়ার সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা সাতচল্লিশের অস্বাভাবিকতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ কিশোর গ্রেপ্তার প্রাচ্য-প্রতিচ্যের দ্বন্দ্ব ও সমকালীন চিন্তার বহুমাত্রিক পাঠ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকারের বাজেট, সোনারগাঁয় আনন্দ মিছিল কারাগারে স্ত্রীকে গাঁজা পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বামী আটক চুয়াডাঙ্গায় অপারেশনের মাঝপথে চলে যান চিকিৎসক সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানার মালিকের কারাদণ্ড মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬
Nagad desktop

হিটলারের ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এল বিরল জিনগত রোগের ইঙ্গিত

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০৬ পিএম
হিটলারের ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এল বিরল জিনগত রোগের ইঙ্গিত
নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার

নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার সম্ভবত ‘ক্যালম্যান সিনড্রোম’ নামের একটি বিরল জিনগত রোগে ভুগতেন—গতকাল বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন গবেষক ও ডকুমেন্টারি নির্মাতারা। হিটলারের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে এ ধারণা পাওয়া যায়। 

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, এ রোগে বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং এর ফলে অণ্ডকোষ নামতে দেরি হওয়া বা খুব ছোট যৌনাঙ্গের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, এই পরীক্ষায় হিটলারের ইহুদি বংশধর হওয়ার দাবি পুরোপুরি বাতিল হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারকে ব্যঙ্গ করে নানা গান রচিত হয়েছিল, যেখানে তার শারীরিক গঠনের কথা বলা হতো। তবে এসবের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। নতুন গবেষণার ফলাফল এখন প্রথমবারের মতো তার যৌন বিকাশ নিয়ে দীর্ঘদিনের সন্দেহকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে।

পটসডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যালেক্স কাই বলেন, “হিটলার কেন জীবনে মহিলাদের সঙ্গে সবসময় অস্বস্তিতে থাকতেন, অথবা কেন তিনি সম্ভবত কখনও নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যাননি—এর কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা আগে পাওয়া যায়নি। এখন যদি তিনি ক্যালম্যান সিনড্রোমে ভুগে থাকেন, তবে তা হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।”

গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে শনিবার প্রচার হতে যাওয়া নতুন ডকুমেন্টারিতে, যার নাম “Hitler's DNA: Blueprint of a Dictator”।

গবেষকেরা রক্তের নমুনাটি পেয়েছেন সেই সোফা থেকে নেওয়া একটি কাপড়ের টুকরো থেকে—যেখানে হিটলার আত্মহত্যা করেছিলেন।

পরীক্ষায় পাওয়া গেছে, হিটলারের ক্যালম্যান সিনড্রোম থাকার “উচ্চ সম্ভাবনা” রয়েছে। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের সমালোচনামূলক প্রতিবেদনে বলেছে—গবেষণা দলটি হিটলারের জীবিত আত্মীয়দের কাছ থেকে নতুন ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ আত্মীয়রা গণমাধ্যমের নজর এড়াতে চান।

ডিএনএ পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, অটিজম, স্কিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ঝুঁকির ক্ষেত্রে হিটলারের স্কোর ছিল “অত্যন্ত উচ্চ”—শীর্ষ এক শতাংশের মধ্যে। তবে গার্ডিয়ানের মতে, এই ধরনের “পলিজেনিক রিস্ক স্কোর” ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ঝুঁকি নির্ধারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে অস্বস্তি আছে।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইনস্টিটিউটের ডেভিড কার্টিস বলেন, “পলিজেনিক রিস্ক স্কোর আসলে পুরো জনগোষ্ঠী নিয়ে ধারণা দেয়, ব্যক্তিকে নিয়ে নয়। স্কোর বেশি হলেও কোনো ব্যক্তি ওই রোগে আক্রান্ত হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

গবেষণা দল জোর দিয়ে বলেছে—হিটলারের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকলেও তা তার যুদ্ধংদেহী মনোভাব বা নাৎসি নীতির কোনো ব্যাখ্যা বা অজুহাত হতে পারে না।

১৯৩৭ সালে ‘সিগ হেইল’ অভিবাদনকারী জনতার ভিড়ে পরিবেষ্টিত মার্সিডিজে অ্যাডলফ হিটলার। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৫ কোটির বেশি মানুষ মারা যায়, যার মধ্যে ৬ মিলিয়ন (৬০ লাখ) ইহুদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত জেনেটিসিস্ট টুরি কিং বলেন, হিটলারের জিনগত বৈশিষ্ট্য এমন ছিল, যা নাৎসিরাই “অযোগ্য” বলে গণ্য করে গ্যাসচেম্বারে পাঠাত। কারণ হিটলার বা তার নাৎসি পার্টি মূলত একটি আদর্শ, সবল এবং শ্রেষ্ঠ একটি জার্মান জাতি তৈরি করতে চেয়েছিল, ফলে সেখানে এরকম সিনড্রোম বা রোগ তারা গ্রহণ করতো কি না সন্দেহ থেকে যায়।

তিনি বলেন, “হিটলার নিজেই যদি নিজের ডিএনএ দেখতে পারতেন, হয়তো নিজেকেই গ্যাসচেম্বারে পাঠাতেন।”

ইহুদি বংশধর হওয়ার দাবি বাতিল

ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হিটলারের দাদির মাধ্যমে তার ইহুদি বংশধর হওয়ার যে গুঞ্জন ছিল, তা ভিত্তিহীন।
নির্মাতারা জানান, “ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ওয়াই ক্রোমোজোম হিটলারের পিতৃপরিচয়ের সঙ্গেই মিলে গেছে। যদি ইহুদি বংশধর হওয়ার ঘটনা সত্য হতো, তবে এই মিল পাওয়া যেত না।”

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা ন্যায্যতা প্রমাণ করতে এই ভিত্তিহীন দাবি করেছিলেন যে—হিটলারের নাকি ইহুদি বংশ ছিল। ক্রেমলিন তখন ইউক্রেনকে “ডিনাৎসিফাই” বা নাৎসিমুক্ত করার অজুহাত তুলে আক্রমণ চালায়, যদিও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একজন ইহুদি।

এই গবেষণা এখন সেই দাবিকেও সম্পূর্ণ অবাস্তব প্রমাণ করেছে। সূত্র: এএফপি, সিবিএস নিউজ

মাহফুজ/

 

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। শুক্রবার উদ্ধারকর্মীরা ভারী বৃষ্টি ও আফটারশকের মধ্যেও রাস্তা পরিষ্কার করে  ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চালাচ্ছেন।

গত সোমবার দেশটির মিন্দানাও উপকূলের কাছে ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।

শুক্রবার সরকারি এক পরিসংখ্যানে আরও আটজনের মৃত্যুর খবর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য আসতে থাকায় নিখোঁজের সংখ্যা ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি সারাঙ্গানি প্রদেশে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান রেনে পুঞ্জালান এএফপি’কে জানান, অনেক অবরুদ্ধ সড়ক সচল করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন এলাকায় খাবার ও পানি পৌঁছাতে এখনো হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বড় বড় পাথর ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। আফটারশক এখনো আমাদের কাজ ধীর করে দিচ্ছে। পাশাপাশি গত রাতে বৃষ্টিও হয়েছে, তাই আমাদের কিছু সময়ের জন্য অভিযান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত থাকলেও অনেকের জীবিত উদ্ধার হওয়ার আশা কমে যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রেনে পুঞ্জালান বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেছে। তাই জীবিত কাউকে পাওয়া গেলে সেটি হবে অলৌকিক ঘটনা। আমাদের লক্ষ্য এখন মরদেহ উদ্ধার করা।’

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস বুধবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শহরের  অংশগুলো ঘুরে দেখেন। তিনি একটি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল এবং একটি ত্রাণ বিতরণ এলাকাও পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, শহর পুনর্গঠনের জন্য সরকার ১০ কোটি পেসো (প্রায় ১৬ লাখ ডলার) বরাদ্দ দেবে। সূত্র; এএফপি

নাঈম/

যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প-ইরান; বাতিল মার্কিন হামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প-ইরান; বাতিল মার্কিন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাতিলের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড়।

সামরিক অভিযানের পথ থেকে সরে এসে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের পর দুই দেশ এখন একটি সমঝোতা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে।

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল' এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন- "ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা অনুমোদিত হয়েছে। এই বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সমস্ত বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ বাতিল করছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল এবং চূড়ান্ত বিষয়গুলো তাত্ত্বিক ও বিস্তারিত উভয়ভাবেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিশরসহ অন্যান্য দেশ সরাসরি জড়িত রয়েছে।

ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়াতে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই ট্রাম্প প্রশাসন শেষ মুহূর্তে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি থমথমে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তামান্না রুপা/

'সুবিধা হলে নিয়ম মানবে, না হলে নয়', মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জয়শঙ্করের

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
'সুবিধা হলে নিয়ম মানবে, না হলে নয়', মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জয়শঙ্করের
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’র তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতের রুশ তেল কেনার সিদ্ধান্তকে পুনর্বার সমর্থন জানায় তিনি।

ফিনল্যান্ড সফরকালে এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাগালের মধ্যে রাখতেই মূলত আমেরিকার অনুরোধে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে রুশ তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

ফিনল্যান্ডের কুলতারান্তায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে একজন সাংবাদিক ভারতকে "রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল" এবং "রুশ তেল কিনতে অত্যন্ত আগ্রহী" বলে অভিযুক্ত করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান।

জয়শঙ্কর বলেন, "সে সময় তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করে। আমি তেলের দাম এবং সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই তেল কিনি।"

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, "ঐ নির্দিষ্ট সময়ে বাজারের অধিকাংশ তেলই আসছিল রাশিয়া থেকে। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল একচেটিয়াভাবে কিনে নেয়, যা ছিল আমাদের প্রথাগত তেলের উৎস। ফলস্বরূপ উদ্ভূত পরিস্থিতিই আমাদের এই দিকে (রাশিয়ার দিকে) ধাবিত হতে বাধ্য করে।"

রাশিয়াকে একটি ‘নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী নিষেধাজ্ঞা নীতির সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই বিষয়টিকে মাত্রাতিরিক্ত নৈতিকতার মোড়কে না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রথমে রুশ তেল কেনার অপরাধে আমাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাই এখানে কোনো মহান আদর্শ বা নীতি কাজ করছে এমন ভান দয়া করে করবেন না। এই বিষয়টিকে কৃত্রিম সাধুতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।"

রুশ তেল ও মার্কিন 'রেড লাইন'
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর গত বছর আমেরিকা ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। যা এশিয়ার যেকোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ জরিমানা যুক্ত ছিল ভারতের রুশ তেল কেনার ওপর। তবে পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এই শুল্ক ধাপে ধাপে প্রথমে ১৮ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

এদিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করতে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে রাশিয়ার সমুদ্রবাহিত তেল কেনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

তবে ওয়াশিংটনের এই নীতি পরিবর্তনের তোয়াক্কা না করে ভারত স্পষ্ট জানায়, আমেরিকার ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা নির্বিশেষে নিজেদের বাণিজ্যিক লাভ ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। গত মাসে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মাও জোর দিয়ে বলেন, "আমেরিকান ছাড়ের আগেও আমরা রাশিয়ার থেকে তেল কিনতাম, ছাড়ের সময়েও কিনেছি এবং এখনও কিনছি।"

ইউরোপের নৈতিক দ্বিমুখিতা নিয়ে তোপ
ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘নৈতিক দ্বিমুখিতা’ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, "কোনো ইউরোপীয় দেশ আজ পর্যন্ত ভারতের তৈরি অস্ত্র দিয়ে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে আমি ইউরোপীয় অস্ত্রের ব্যাপারে এই কথা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।"

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ইউরোপ এমন সব দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু এখন নয়, বছরের পর বছর ধরে চলছে। অথচ আমরা ভারতীয়রা কখনোই ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে এমন কিছু করিনি। আমার মনে হয় এটি অত্যন্ত যৌক্তিক একটি পয়েন্ট।"

তামান্না রুপা/

জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী জুলাই মাসের পর ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর ওপর নজর রাখছেন এমন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ‘এনডিটিভি প্রফিট’ এই তথ্য জানায়।

আগামী দফায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের এই মুখোমুখি বৈঠকটি ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে পূর্বনির্ধারিত এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকটির সময়সূচি পরিবর্তন করে চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে নির্ধারণ করতে হয়েছে।

তবে মুখোমুখি বৈঠক পিছিয়ে গেলেও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক যোগাযোগ কিন্তু থেমে থাকেনি। ভার্চুয়াল বৈঠক এবং কারিগরি স্তরের পর্যালোচনার মাধ্যমে উভয় দেশই এই আলোচনার গতি সচল রেখেছে। ইসরায়েলে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার এই বৈঠকে মূলত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং বাণিজ্য স্তম্ভগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:

বাজার সুবিধা : দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।

সেবা ও শুল্ক : আন্তঃসীমান্ত পেশাদার সেবা আদান-প্রদান সহজ করা এবং শুল্ক প্রক্রিয়াকে জটিলতামুক্ত করা।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন : উভয় দেশের প্রযুক্তিগত খাতের সক্ষমতাকে যৌথভাবে কাজে লাগানো।

মেধাস্বত্ব : দুই দেশের নতুন নতুন উদ্ভাবন সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী মেধাস্বত্ব কাঠামো তৈরি করা।

এর আগে গত নভেম্বরে তেল আবিব সফরের সময় ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, "এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পণ্য ও সেবা—উভয় খাতেই বৃহত্তর বাজার সুবিধা এবং পুঁজি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত করবে। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করার পাশাপাশি আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে স্পষ্টতা ও নির্ভরযোগ্যতা আনবে।"

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে (২০২৫) ভারত ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রস্তাবিত চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিওকে) নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কাশ্মীরের ঈদগাহ ময়দানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। বিবিসি জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

শরণার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক সংসদীয় আসন সংরক্ষণের বিরুদ্ধে আসন্ন নির্বাচনের আগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী সংগঠনের জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)।

কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও হাজারও মানুষ আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন নিহত হন। 

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিয়ে একটি বিশাল বহর রাওয়ালাকোট শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বিবিসি উর্দুকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী টহল দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বহরকে রাওয়ালাকোট হয়ে মুজাফফরাবাদে যেতে দেওয়া হবে না। বিবিসি উর্দুর প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মসজিদগুলো থেকে লাউড স্পিকারে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও কমিশনার খান দাবি করেছেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালাকোটে নজরদারির জন্য হেলিকপ্টার টহল চালানো হচ্ছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে আটা, চাল, বিদ্যুৎ এবং মৌলিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে তা সহিংস হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবারও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ জন।

 সূত্র: বিবিসি ও এনডিটিভি