ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
Nagad desktop

যেসব শর্তে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিলে আপত্তি নেই ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৩১ পিএম
যেসব শর্তে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিলে আপত্তি নেই ইসরায়েলের
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করলে ইসরায়েলের তাতে আপত্তি নেই, তবে ইসরায়েল কড়া শর্ত দিয়েছে। 

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল ১২ এবং মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস এর খবর অনুযায়ী, তেল আবিব জোর দিচ্ছে যে এই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান স্থানান্তরের আগে অবশ্যই রিয়াদকে জেরুজালেমের (ইসরায়েলের) সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট দুই ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে যে সৌদি আরবের কাছে এই বিমান বিক্রির বিষয়টিকে ইসরায়েল তুরস্কের মতো অন্যান্য দেশের চেয়ে আলাদাভাবে দেখছে।

সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ

অ্যাক্সিওস’কে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘আমরা ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম যে সৌদি আরবে এফ-৩৫ সরবরাহের বিষয়টি সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।’’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির শর্ত ছাড়া এই বিক্রয় বিপরীত ফলদায়ক হবে।

দ্বিতীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘তুরস্ককে এফ-৩৫ সরবরাহের আমরা তীব্র বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু সৌদি আরবে এই অস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কম চিন্তিত, যদি এটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এর মতো আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হয়, যেমনটা আমাদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে আছে।’’

সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য ইসরায়েল অতীতে কাছাকাছি দেশগুলিতে উন্নত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যার অস্ত্রাগারে এফ-৩৫ রয়েছে। তারা বর্তমানে ৪৫টি বিমান পরিচালনা করছে এবং আরও ৩০টির জন্য অর্ডার দেওয়া আছে।

এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস’কে বলেছেন, সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলে এফ-৩৫ পৌঁছতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। তাই ইসরায়েল দাবি করছে যে সৌদি আরবের কোনো এফ-৩৫ যেন দেশের পশ্চিম অংশে (ইসরায়েলের দিকে মুখ করে) মোতায়েন না করা হয়।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পিত সফরের কয়েক দিন আগে রিয়াদকে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহের চুক্তি নিয়ে বিবেচনা করছেন। আশা করা হচ্ছে এই সফরে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

ট্রাম্প আবারও আশা প্রকাশ করেন যে সৌদি আরব শীঘ্রই আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দেবে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলির সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি রোডম্যাপের চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ এই পদক্ষেপ নিতে বাধা দিচ্ছে। সূত্র: দি টাইমস অব ইসরায়েল, অ্যাক্সিওস

মাহফুজ/

 

 

আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
ছবি: সংগৃহীত

আর্মেনিয়ায় ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটির বর্তমান নির্বাচনই নির্ধারণ করে দেবে এটি পশ্চিমা বিশ্বের দিকে আরও এগিয়ে যাবে, নাকি  ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার দিকে ফিরবে।

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এই ছোট দেশটি মস্কোর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইউরোপীয় একীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনর্নির্বাচন চাইছেন।

এই নির্বাচন আর্মেনিয়ার প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ- দেশটি তার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার রাশিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা সত্ত্বেও ক্রমশ পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

পশ্চিমের সঙ্গে আর্মেনিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন পাশিনিয়ান। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর নিকোল পাশিনিয়ান দেশকে ধীরে ধীরে মস্কোর প্রভাববলয় থেকে সরিয়ে আনেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি আইন পাস করেন। এতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও লাভ করেন।

এসব কূটনৈতিক সাফল্যের পরও পাশিনিয়ানের জনপ্রিয়তা কমেছে। ২০২১ সালে তার সমর্থনের হার ছিল ৫৪ শতাংশ, যা বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে। এবার পাশিনিয়ানের নির্বাচনী স্লোগান হলো- ‘শান্তির পক্ষে দাঁড়ান’।

পাশিনিয়ানের বিরোধীরা এখন বিভিন্ন দল ও জোট গঠন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট কোচারিয়ানের নেতৃত্বাধীন ‘আর্মেনিয়া অ্যালায়েন্স’। আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট সের্ঝ সার্গসিয়ানের রিপাবলিকান পার্টি সরাসরি প্রার্থী না দিলেও তাদের সমর্থকদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশিনিয়ানের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রাশিয়ায় ধনী ব্যবসায়ী সামভেল কারাপেতিয়ান। তিনি বর্তমানে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গৃহবন্দী রয়েছেন। কারাপেতিয়ান তার ভাতিজার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সবশেষ ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, পাশিনিয়ানের ‘সিভিল কনট্রাক্ট’ দল ৩২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক নেতার ওপরই আস্থা রাখেন না। বিরোধী দলগুলো যদি একজোট হতো, তাহলে তারা পাশিনিয়ানের ভোটের সমান সমর্থন পেতে পারতো। কিন্তু বিভক্ত অবস্থায় তারা তাকে পরাজিত করতে পারবে না।

খাদিজা রুমি/

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

মে মাসের শুরুতে আফ্রিকার দেশ ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বুনিয়া অঞ্চলের একটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুতর অসুস্থ হন। এর পর চার স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ডি আর কঙ্গোতে পরীক্ষা করা নমুনাগুলোতে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে পরে পরীক্ষা করা ১৩টি নমুনার মধ্যে আটটিতে ইবোলা শনাক্ত হয়, আর পাঁচটির ফলাফল অস্পষ্ট ছিল।

জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে আক্রান্তরা বুন্ডিবুগিও ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এটি মানুষের মধ্যে ইবোলা রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম চার ধরনের অর্থো-ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন।

বর্তমানে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। আক্রান্তদের সহায়ক চিকিৎসা দেওয়াই প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগীদের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং রক্তবমির মতো উপসর্গ দেখা গেছে।

ডিআর কঙ্গোতে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ রোগীর বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। আক্রান্তদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী।

এর আগে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের দুটি প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটেছিল- একটি ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। ওই দুই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ২৫ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রাদুর্ভাবটিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এটিকে ‘মহাদেশীয় নিরাপত্তার জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। তবে জনবহুল পরিবহনকেন্দ্র গোমা শহরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় রোগটি দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন এই প্রাদুর্ভাব বেশি উদ্বেগজনক?

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে পরিচিত ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলো ছিল ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় এবং ২০১৮-২০২০ সালে ডি আর কঙ্গোর নর্থ কিভু অঞ্চলে। সেসব প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল জায়ার প্রজাতির ইবোলা, যার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত টিকা বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখন মূল ভরসা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনগণের আস্থা অর্জন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া।

এ পর্যন্ত নিশ্চিত মৃত্যুর মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা নিতে অনীহা তৈরি হয়।

নিয়ন্ত্রণে বাধা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব ডিআর কঙ্গোর নাজুক পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য নজরদারি ও প্রাদুর্ভাব প্রস্তুতি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সরঞ্জাম অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হওয়ায় জনগণ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের চলাচলের কারণে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কারণে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা?

পূর্ববর্তী ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জটিল গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অনেক নারী চিকিৎসা পান না এবং পরিবার ভেঙে পড়ায় শিশুরা নির্যাতন ও শোষণের ঝুঁকিতে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর্মীরাও সরাসরি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা এ ঝুঁকিরই প্রমাণ।

এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, যেখানে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে, তারাও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ডি আর কঙ্গো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটি প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ, রোগী বাছাই ও আইসোলেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগণকে রোগ শনাক্তকরণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুল তথ্য প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি নগদ সহায়তা এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

এখন কী প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পিপিইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি ডিআর কঙ্গো, প্রতিবেশী দেশগুলো, ডব্লিউএইচও, আফ্রিকা সিডিসি এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, রোগ নজরদারি ও জরুরি প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জনস্বাস্থ্য তথ্য, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী ও কিশোরীদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি

তামান্না রুপা/

যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি সামাজিক উৎসবের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। 

টলেডো পুলিশের ডেপুটি প্রধান জো হেফারনান জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুজন ব্যক্তি অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছে এবং তারা সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করেই গুলি করছিল।

টলেডো পুলিশ বিভাগ জানায়, শনিবার (৬ জুন) রাতে শহরের ঐতিহাসিক এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’-এর কাছেই এ ঘটনা ঘটে। উৎসবটিতে লাইভ সংগীত, ঐতিহাসিক বাড়ি পরিদর্শন, খাবারের স্টল এবং কেনাকাটার নানা আয়োজন ছিল।

পুলিশ জানায়, হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তল্লাশি চলছে।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেন, আজ রাতে টলেডোর পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। গ্রীষ্মকালীন উৎসবগুলো পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ মিলনস্থল হওয়া উচিত, যেখানে সহিংসতার কোনো ভয় থাকবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শোনার পর মানুষ আতঙ্কে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবাকর্মীদের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কেভিন বেরি জানান, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে একটি বৃক্ষ উদ্যানে বসে লাইভ সংগীত উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে তিনি সবাইকে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলেন।

কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে তাকিয়ে তিনি দেখেন, তার অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি বন্দুক মাটিতে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। উৎসবে আগে থেকেই দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।

মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেরি জানান, তিনি আহতদের খুঁজে বের করতে এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়ান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখেছেন।

দুই দিনব্যাপী ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’ টলেডোর অন্যতম জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন আয়োজন। কেভিন বেরি এটিকে টলেডোর গ্রীষ্মকালীন উৎসব মৌসুমের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

এইচআইভি বা এইডস প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু ‘সুপার হিউম্যান’ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের সন্ধান চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই হিসাবকে নতুন করে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তারা ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে এই ভাইরাসক প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এখন সেই ব্যতিক্রমী মানুষ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে এইচআইভি নিরাময়ের কার্যকর পথ দেখাতে পারবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক বিস্ময়কর নারীর গল্প। লোরিন উইলেনবার্গ নামের ৭১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা গত তিন দশক ধরে এইচআইভি গবেষকদের কাছে ছিলেন এক গভীর রহস্য। ১৯৯২ সালে লোরিনের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। সাধারণত এই ভাইরাস মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, কিন্তু লোরিনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল অলৌকিক ঘটনা। কোনো ধরনের ওষুধ না খেয়েই তিনি আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন পার করেছেন।

২০২৫ সালের আগস্টে লোরিন উইলেনবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ডাক্তাররা আমাকে সবসময় বলতেন, এইচআইভির বিরুদ্ধে আমার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই আলাদা। অনেক বছর ধরে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তবে তারা জানতেন আমি সাধারণ নই।’

চলতি বছরের এপ্রিলে লোরিন মারা যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘এলিট কন্ট্রোলার’। এটি এমন একদল এইচআইভি পজিটিভ মানুষকে বোঝায় যাদের শরীর কোনো ওষুধ ছাড়াই ভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বিশ্বে মোট এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই মানুষগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ রোগীকে বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।

উইলেনবার্গের ঘটনা আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে ২০২২ সালে। সে সময় তার চতুর্থ ধাপের ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসার ফুসফুস থেকে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যায়। অস্ত্রোপচার ও শক্তিশালী ওষুধে তিনি ভালো সাড়া দেন। তবে এসব চিকিৎসায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কথা। ফলে শরীরে লুকিয়ে থাকা এইচআইভি আবার সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু গবেষকরা যখন তার শরীরের কোটি কোটি কোষ পরীক্ষা করেন, তখন তারা এইচআইভির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাননি।

ম্যাস জেনারেল ব্রঘাম, এমআইটি এবং হার্ভার্ডের রাগন ইনস্টিটিউটের মেডিসিনের অধ্যাপক জু ইউ দীর্ঘদিন ধরে লোরিনের শরীর নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটির এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘লোরিন সম্ভবত পুরোপুরি এইচআইভি মুক্ত হয়ে গেছেন।’ তবে এই সুখবর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৬ সালের এপ্রিলে মারা যান উইলেনবার্গ। কিন্তু তার জীবন বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে; তা হলো মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এইচআইভির মতো ভাইরাসকেও পরাজিত করতে পারে।

শুধু লোরিন একাই নন, আর্জেন্টিনার আরেক নারীও বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখা এই নারী ‘এসপেরানজা রোগী’ নামে পরিচিত। স্প্যানিশ ভাষায় এসপেরানজা অর্থ ‘আশা’। গবেষকদের ধারণা, তিনিও হয়তো লোরিনের মতো প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো বিজ্ঞানীদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ‘এলিট কন্ট্রোলারদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার রহস্যভেদ করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এইডসের স্থায়ী নিরাময় আবিষ্কার করা সম্ভব।’

সাধারণত এইচআইভি শরীরে ঢোকার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষের কোষের ডিএনএর সঙ্গে নিজের জিনগত উপাদান যুক্ত করে বংশবিস্তার করে। ধীরে ধীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে। চিকিৎসা না করালে রোগী এইডসে আক্রান্ত হয় এবং সাধারণ কোনো সর্দি-কাশি বা ইনফেকশনেই মারা যেতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল’ নামের ওষুধ আবিষ্কারের পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। এই ওষুধ ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়, যার ফলে আক্রান্তরা কিছুটা সুস্থ জীবন পান। 

তবে সমস্যা হলো, এই ওষুধ সাধারণত ভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। এইচআইভি শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে রক্ত, লিম্ফ নোড, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রে এর গোপন ভান্ডার বা ‘রিজার্ভয়ার’ তৈরি হয়। সুযোগ পেলেই সেখান থেকে ভাইরাস আবার সক্রিয় হতে পারে। এখানেই লোরিন বা এসপেরানজার মতো এলিট কন্ট্রোলারদের শরীর আলাদা।

২০২০ সালে অধ্যাপক শু ইউ ও তার সহকর্মীরা ৬৪ জন এলিট কন্ট্রোলারকে নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখতে পান, এসব মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে ডিএনএর এমন কিছু এলাকায় আটকে রাখে, যেগুলোকে ‘জিন ডেজার্ট’ বলা হয়। আমাদের সবার জিনোমে এমন কিছু এলাকা থাকে যার কোনো কাজ নেই, এগুলো নিষ্ক্রিয়। এলিট কন্ট্রোলারদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসকে তাড়িয়ে ঠিক ওই নিষ্ক্রিয় এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। ফলে ভাইরাসটি সেখানে আটকা পড়ে যায় এবং বংশবৃদ্ধির জন্য শরীরের কোনো অংশ ব্যবহার করতে পারে না।

অধ্যাপক জু ইউ-এর ভাষায়, ভাইরাসগুলো শরীরে ঠিকই থাকে, কিন্তু সেগুলো এমন এক জায়গায় বন্দি থাকে যেখান থেকে আর কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের থাকে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একই ঘটনা ‘পোস্ট-ট্রিটমেন্ট কন্ট্রোলার’ নামে পরিচিত আরেক গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তারা শুরুতে দীর্ঘদিন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ নিলেও পরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর পরও তাদের শরীরে ভাইরাস আর সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু সিডি৮+ টি-সেল নয়, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আরেকটি অংশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’।

গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে ন্যাচারাল কিলার সেলকে সক্রিয় করবে। এতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা সহজ হতে পারে।

গবেষণায় আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। অধ্যাপক জু ইউ জানান, এলিট কন্ট্রোলারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। পুরুষদের চেয়ে নারীদের এলিট কন্ট্রোলার হওয়ার সম্ভাবনা দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এইডসের বেশির ভাগ পরীক্ষামূলক গবেষণা পুরুষদের ওপরই করা হয়েছে। নারীদের ওপর আরও বেশি গবেষণা হলে এই রোগ নিরাময়ের পথ আরও দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে লোরিন উইলেনবার্গ এক আবেগঘন কথা বলেছিলেন, ‘আমি এই মহামারির শেষ দেখে যাওয়ার জন্য আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার অবদান যদি বিজ্ঞানকে একটুও এগিয়ে নিয়ে থাকে, তবে তা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান।’

লোরিন হয়তো পৃথিবী থেকে এইডসের চিরতরে বিদায় দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য তিনি যে আশার আলো জ্বেলে দিয়ে গেছেন তা কোটি কোটি মানুষকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা
ক্যানসারের ভ্যাকসিন নিয়ে ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন গবেষক। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীদের নিত্যনতুন আবিষ্কার এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন–আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (অ্যাসকো) ২০২৬ সালের বার্ষিক অধিবেশন। প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্য পেশায় নিযুক্তরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল–‘অনুবাদমূলক বিজ্ঞান ও অনুশীলন: বিশ্বব্যাপী ক্যানসারের ফলাফলের উন্নয়ন’। সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হচ্ছে– 

স্মার্ট ড্রাগের মাধ্যমে ক্যানসারের ‘অদৃশ্য পর্দা’ দূর

ইমিউনোথেরাপির ওষুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে টিউমার ধ্বংস করে। তবে ক্যানসার কোষ যখন লুকিয়ে থাকে, তখন এই চিকিৎসা কাজ করে না। বিজ্ঞানীরা এখন এমন একটি স্মার্ট ড্রাগ তৈরি করেছেন, যা লুকিয়ে থাকা ক্যানসার কোষ বন্ধ করে দেবে।

‘জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯’ নামের এই পরীক্ষামূলক ট্যাবলেটটি ক্যানসার কোষের ‘অদৃশ্য পর্দা’ সরিয়ে দেয়। ফলে ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘সেমিপ্লিম্যাব’ ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার রোগীদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। যাদের অন্য কোনো চিকিৎসার উপায় ছিল না, তাদের ক্ষেত্রে এটি দারুণ কাজ করেছে। ৮৩ জন রোগীর মধ্যে ২৬ জনের টিউমার সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের টিউমার অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে।

ট্রায়ালের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ফিওনা থিসলথওয়েট বলেন, ‘ট্যাবলেটের জন্য এটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক বলা যায়। যদিও এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও গবেষণার প্রয়োজন, তবে এটি নতুন মেকানিজম, যা ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।’

অন্য একটি ট্রায়ালে ‘আইভোনেসিম্যাব’ নামের স্মার্ট ড্রাগ কেমোথেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করে ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের আয়ু গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ‘ওজেকিব্যার্ট’ নামের আরেকটি স্মার্ট ড্রাগ মলাশয়ের (বয়েল) ক্যানসারের ক্ষেত্রে ভালো ফল দেখিয়েছে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় দৈনিক একটি বড়ি

সম্মেলনে জানানো হয়, একটি নতুন বড়ি বা পিল অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক এই ক্যানসারের চিকিৎসায় একে ‘গেমচেঞ্জার’ ও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

৫০০ জন রোগীর ওপর চালানো ট্রায়ালে দেখা গেছে, ‘ড্যারাক্সনরাসিব’ নামের এই পিলটি কেমোথেরাপির চেয়ে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময় ৬ দশমিক ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ২ মাস করেছে।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা ক্যানসার সেন্টারের অনকোলজি প্রধান ড. রচনা শ্রফ বলেন, ‘এই ফলাফলগুলো ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তনকারী। আমরা নজিরবিহীন বেঁচে থাকার হার দেখতে পাচ্ছি।’

ফলাফল দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন বলেও জানান। এ ছাড়া ‘মেজিগডোমাইড’ নামের আরেকটি নতুন পিল ট্রিপল থেরাপির অংশ হিসেবে রক্তের ক্যানসারে (মাল্টিপল মায়লোমা) আক্রান্ত রোগীদের রোগহীনভাবে বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করেছে।

নিরাপদে কেমোথেরাপি ও সার্জারি এড়ানোর সুযোগ

চিকিৎসায় এখন কোন কোন উপাদান নিরাপদে বাদ দেওয়া যায়, এ নিয়েও চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। একটি যুগান্তকারী জিনোমিক টেস্টের মাধ্যমে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত লাখ লাখ নারী কেমোথেরাপি এড়াতে পারবেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চার হাজার রোগীর ওপর চালানো ‘অপটিমা’ ট্রায়ালে দেখা গেছে, জিনোমিক টেস্টে যাদের স্কোর কম এসেছে, তারা কেমোথেরাপি ছাড়াই শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে নিরাপদে সুস্থ থাকতে পারেন। একইভাবে মূত্রাশয়ের (ব্লাডার) ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সঙ্গে ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘ডারভালুম্যাব’ যোগ করলে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমে। ফলে রোগীদের জীবন পরিবর্তনকারী জটিল সার্জারি এড়ানো সম্ভব হয়।

ক্যানসার বৃদ্ধিতে সতর্কতা ও কর্মীসংকট

সব খবর ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কবার্তা এসেছে। ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যানসার শনাক্তকরণের রক্ত পরীক্ষা ‘গ্যালেরি’ একটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্তকরণের হার বাড়াতে পারেনি। একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘ট্রায়ালটি পরিষ্কারভাবে ফ্লপ করেছে।’

এদিকে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের গড় আয়ু বাড়ার কারণে ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিদিন এক লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন ও বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ দশমিক ৩ মিলিয়নে পৌঁছাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিংয়ের গ্লোবাল ক্যানসার রিসার্চের পরিচালক ড. পিটার কিংহাম বলেন, ‘ক্যানসার মূলত বার্ধক্যজনিত রোগ। 

বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু বাড়ার কারণে আরও বেশি মানুষ ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই ডেমোগ্রাফিক শিফট কোনো ব্যর্থতা নয়, এটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে। তবে এর জন্য ক্যানসার চিকিৎসায় সমান উচ্চাভিলাষী সাড়া প্রয়োজন।’

লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও যোগব্যায়ামের ভূমিকা

সম্মেলনে জানানো হয়, গত তিন দশকে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তের হার প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। দুটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত বা দুর্বল ঘুমের অভ্যাস তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনিদ্রায় আক্রান্ত ৫০ অনূর্ধ্ব ব্যক্তিদের পাঁচ বছরের মধ্যে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কিছু ক্ষেত্রে তিন গুণ বেশি।

তবে ক্যানসার ধরা পড়ার পরও লাইফস্টাইল পরিবর্তন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইয়োগা ও রিল্যাং করা যোগব্যায়াম ক্যানসার রোগীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও অনিদ্রা কমাতে ওষুধ ছাড়াই দারুণ সাহায্য করে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান