দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী জর্ডানকে যে পরিমাণ পানি দেওয়ার কথা, তা আর সরবরাহ করবে না বলে ইসরায়েল আম্মানকে জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলি পত্রিকা মারিভ এমনটাই জানিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংকটের মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কে এটি নতুন চাপ তৈরি করেছে।
মারিভের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল জর্ডানকে জানিয়ে দিয়েছে যে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়া বার্ষিক পানি কোটা আর দেওয়া হবে না।
এর অর্থ, ১৯৯৪ সালের শান্তিচুক্তিতে যে ৫ কোটি ঘনমিটার পানি জর্ডানকে দেওয়ার কথা বলা আছে, তাও আর দেবে না তেল আবিব।
পত্রিকাটি বলছে, ইসরায়েলের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং পানির দামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করছেন। তবে জর্ডানের পানি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, এটি কোনো প্রকৌশলগত সমস্যা নয়।
জর্ডান আগেই পানির মূল্য নিয়ে আলোচনায় রাজি থাকার কথা জানিয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েল এখনও সে বিষয়ে সাড়া দেয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জর্ডানের দীর্ঘস্থায়ী পানি সংকট
অনেক বছর ধরে ইসরায়েলের সরবরাহ করা পানি জর্ডানের পানীয় জল, কৃষি এবং গৃহস্থালির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশটিতে পানির অভাব অত্যন্ত গুরুতর। কারণ দেশটির কোনো সমুদ্রসীমা নেই। নিজস্ব জলসম্পদ কম হওয়ায় জর্ডানকে প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করতে হয়। দেশটির কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সেচের পানি ইসরায়েল হয়ে ভূমধ্যসাগর সাগর থেকে আনতে হয়।
১৯৯৪ সালের ওয়াদি আরাবা শান্তিচুক্তির অধীনে ইসরায়েল প্রতিবছর লেক তিবেরিয়াস থেকে ৫ কোটি ঘনমিটার পানি জর্ডানকে দেয়, যা কিং আব্দুল্লাহ খালের মাধ্যমে প্রতি ঘনমিটারে ১ সেন্ট মূল্যে সরবরাহ করা হয়।
২০২১ সালে দুই দেশ আরেকটি চুক্তিতে পৌঁছে, যাতে জর্ডান অতিরিক্ত আরও ৫ কোটি ঘনমিটার পানি কিনবে—এটি ১৯৯৪ সালের ওই চুক্তি থেকে উদ্ভূত ২০১০ সালের সমঝোতার ভিত্তিতে হয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জর্ডান তেল আবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে জর্ডানে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়।
মাহফুজ/