ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ লাজ ফার্মায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আজই আবেদন করুন বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প-ইরান; বাতিল মার্কিন হামলা তুমি এলে বসন্তে একটা শুক্রবারের দিবাভাগ তোমাকে দেখার স্বাদ মিটবে না ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ লাবণ্য ধরে রাখো কীভাবে? খুব বেশি কিছু না 'সুবিধা হলে নিয়ম মানবে, না হলে নয়', মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জয়শঙ্করের দায়বদ্ধ রেফারিদের মাথায় কী? হৃদয়ের ভাঙা নীলিমা সময় একটি সাধনাযোগ্য শিল্প জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটি’তে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটি উল্টে প্রাণ গেল চালকের মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা কুষ্টিয়ার সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা সাতচল্লিশের অস্বাভাবিকতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ কিশোর গ্রেপ্তার প্রাচ্য-প্রতিচ্যের দ্বন্দ্ব ও সমকালীন চিন্তার বহুমাত্রিক পাঠ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকারের বাজেট, সোনারগাঁয় আনন্দ মিছিল কারাগারে স্ত্রীকে গাঁজা পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বামী আটক চুয়াডাঙ্গায় অপারেশনের মাঝপথে চলে যান চিকিৎসক সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানার মালিকের কারাদণ্ড মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬
Nagad desktop

লিবিয়ার সঙ্গে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি পাকিস্তানের, থাকছে যুদ্ধবিমান

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৬ পিএম
আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪০ পিএম
লিবিয়ার সঙ্গে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি পাকিস্তানের, থাকছে যুদ্ধবিমান
লিবিয়া সফরে আরব আমিরাত সমর্থিত লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ছবি: সংগৃহীত

আরব আমিরাত সমর্থিত লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে পাকিস্তান—এমন তথ্য জানিয়েছেন চারজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা। জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর আফ্রিকার এই বিভক্ত দেশটির সঙ্গে চুক্তিটি করা হয়েছে বলে তারা জানান।

পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই অস্ত্র রপ্তানি চুক্তিটি চূড়ান্ত হয় গত সপ্তাহে। সে সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে এলএনএর উপপ্রধান সেনাপতি সাদ্দাম খলিফা হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক কাজে যুক্ত ওই চার কর্মকর্তা চুক্তির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা চলছে এবং দেশটি প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভক্ত। এ কারণে এলএনএর সঙ্গে যেকোনো অস্ত্র চুক্তিই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মুখে পড়তে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর একটি কপি রয়টার্সের হাতে যায়। সেখানে দেখা যায়, পাকিস্তান-চীন যৌথভাবে উন্নয়ন করা বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ–১৭-এর ১৬টি এবং প্রাথমিক পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ১২টি সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান কেনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

চার কর্মকর্তার একজন তালিকাটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন। আরেকজন জানান, তালিকাভুক্ত সব অস্ত্রই চুক্তির অংশ, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

আরেক কর্মকর্তা জানান, চুক্তিতে স্থল, নৌ ও আকাশপথে ব্যবহারের সরঞ্জাম বিক্রির বিষয় রয়েছে, যা প্রায় আড়াই বছরের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। তিনি যোগ করেন, এতে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। চার কর্মকর্তার মধ্যে দুজন বলেন, চুক্তির মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি, আর বাকি দুজনের মতে এর পরিমাণ ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

দুবাই এয়ার শো’তে পাকিস্তানের জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

এলএনএর সরকারি গণমাধ্যম গতকাল রবিবার জানায়, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে প্রবেশ করেছে। এতে অস্ত্র বিক্রি, যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রবিবার লিবিয়ার আল-হাদাথ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে খলিফা হাফতার বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সহযোগিতার একটি নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।”

বেনগাজির কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

জাতিসংঘ-স্বীকৃত জাতীয় ঐক্য সরকার (জিএনইউ) প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবার নেতৃত্বে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। 

অপরদিকে হাফতারের এলএনএ পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পশ্চিমা সরকারের কর্তৃত্ব স্বীকার করে না। তাদের সমর্থনে আছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত।

অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা

২০১১ সাল থেকে লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী স্থানান্তরের জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন প্রয়োজন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘে জমা দেওয়া বিশেষজ্ঞ প্যানেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লিবিয়ার ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এখনও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু বিদেশি রাষ্ট্র পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় পক্ষের লিবীয় বাহিনীগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।

পাকিস্তান বা লিবিয়া জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থেকে কোনো ছাড় চেয়েছে কি না—তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানের তিন কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তি কোনো জাতিসংঘ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেনি। তাদের একজন বলেন, লিবিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা একমাত্র পাকিস্তান নয়। আরেকজনের দাবি, হাফতারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তৃতীয়জন বলেন, জ্বালানি রপ্তানি বাড়ার ফলে বেনগাজির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্কও উন্নত হচ্ছে।

নতুন বাজারে চোখ পাকিস্তানের

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশটি তাদের কয়েক দশকের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অভিজ্ঞতা এবং বিমান উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ, সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ ও নৌযান নির্মাণসহ বিস্তৃত দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে কাজে লাগাচ্ছে।

ইসলামাবাদ মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের বিমান বাহিনীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরছে।

লিবিয়া সফরে পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সাম্প্রতিক যুদ্ধ বিশ্বকে আমাদের উন্নত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।”

পাকিস্তান চীন-সহযোগিতায় তৈরি জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানকে তুলনামূলক কম খরচের বহুমুখী যুদ্ধবিমান হিসেবে বাজারজাত করছে এবং পশ্চিমা সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে বিমান, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দিতে সক্ষম সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

এ ছাড়া পাকিস্তান উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে এবং কাতারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা আলোচনা চালায়।

লিবিয়ার সঙ্গে এই চুক্তির মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকায় পাকিস্তানের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে লিবিয়ার বিভক্ত নিরাপত্তা কাঠামো ও তেলনির্ভর অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় যুক্ত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভিড়ে পাকিস্তানও যুক্ত হলো। সূত্র: রয়টার্স

মাহফুজ/

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। শুক্রবার উদ্ধারকর্মীরা ভারী বৃষ্টি ও আফটারশকের মধ্যেও রাস্তা পরিষ্কার করে  ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চালাচ্ছেন।

গত সোমবার দেশটির মিন্দানাও উপকূলের কাছে ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।

শুক্রবার সরকারি এক পরিসংখ্যানে আরও আটজনের মৃত্যুর খবর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য আসতে থাকায় নিখোঁজের সংখ্যা ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি সারাঙ্গানি প্রদেশে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান রেনে পুঞ্জালান এএফপি’কে জানান, অনেক অবরুদ্ধ সড়ক সচল করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন এলাকায় খাবার ও পানি পৌঁছাতে এখনো হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বড় বড় পাথর ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। আফটারশক এখনো আমাদের কাজ ধীর করে দিচ্ছে। পাশাপাশি গত রাতে বৃষ্টিও হয়েছে, তাই আমাদের কিছু সময়ের জন্য অভিযান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত থাকলেও অনেকের জীবিত উদ্ধার হওয়ার আশা কমে যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রেনে পুঞ্জালান বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেছে। তাই জীবিত কাউকে পাওয়া গেলে সেটি হবে অলৌকিক ঘটনা। আমাদের লক্ষ্য এখন মরদেহ উদ্ধার করা।’

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস বুধবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শহরের  অংশগুলো ঘুরে দেখেন। তিনি একটি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল এবং একটি ত্রাণ বিতরণ এলাকাও পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, শহর পুনর্গঠনের জন্য সরকার ১০ কোটি পেসো (প্রায় ১৬ লাখ ডলার) বরাদ্দ দেবে। সূত্র; এএফপি

নাঈম/

যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প-ইরান; বাতিল মার্কিন হামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প-ইরান; বাতিল মার্কিন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাতিলের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড়।

সামরিক অভিযানের পথ থেকে সরে এসে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের পর দুই দেশ এখন একটি সমঝোতা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে।

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল' এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন- "ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা অনুমোদিত হয়েছে। এই বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সমস্ত বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ বাতিল করছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল এবং চূড়ান্ত বিষয়গুলো তাত্ত্বিক ও বিস্তারিত উভয়ভাবেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিশরসহ অন্যান্য দেশ সরাসরি জড়িত রয়েছে।

ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়াতে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই ট্রাম্প প্রশাসন শেষ মুহূর্তে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি থমথমে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তামান্না রুপা/

'সুবিধা হলে নিয়ম মানবে, না হলে নয়', মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জয়শঙ্করের

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
'সুবিধা হলে নিয়ম মানবে, না হলে নয়', মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জয়শঙ্করের
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’র তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতের রুশ তেল কেনার সিদ্ধান্তকে পুনর্বার সমর্থন জানায় তিনি।

ফিনল্যান্ড সফরকালে এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাগালের মধ্যে রাখতেই মূলত আমেরিকার অনুরোধে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে রুশ তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

ফিনল্যান্ডের কুলতারান্তায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে একজন সাংবাদিক ভারতকে "রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল" এবং "রুশ তেল কিনতে অত্যন্ত আগ্রহী" বলে অভিযুক্ত করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান।

জয়শঙ্কর বলেন, "সে সময় তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করে। আমি তেলের দাম এবং সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই তেল কিনি।"

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, "ঐ নির্দিষ্ট সময়ে বাজারের অধিকাংশ তেলই আসছিল রাশিয়া থেকে। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল একচেটিয়াভাবে কিনে নেয়, যা ছিল আমাদের প্রথাগত তেলের উৎস। ফলস্বরূপ উদ্ভূত পরিস্থিতিই আমাদের এই দিকে (রাশিয়ার দিকে) ধাবিত হতে বাধ্য করে।"

রাশিয়াকে একটি ‘নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী নিষেধাজ্ঞা নীতির সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই বিষয়টিকে মাত্রাতিরিক্ত নৈতিকতার মোড়কে না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রথমে রুশ তেল কেনার অপরাধে আমাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাই এখানে কোনো মহান আদর্শ বা নীতি কাজ করছে এমন ভান দয়া করে করবেন না। এই বিষয়টিকে কৃত্রিম সাধুতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।"

রুশ তেল ও মার্কিন 'রেড লাইন'
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর গত বছর আমেরিকা ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। যা এশিয়ার যেকোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ জরিমানা যুক্ত ছিল ভারতের রুশ তেল কেনার ওপর। তবে পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এই শুল্ক ধাপে ধাপে প্রথমে ১৮ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

এদিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করতে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে রাশিয়ার সমুদ্রবাহিত তেল কেনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

তবে ওয়াশিংটনের এই নীতি পরিবর্তনের তোয়াক্কা না করে ভারত স্পষ্ট জানায়, আমেরিকার ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা নির্বিশেষে নিজেদের বাণিজ্যিক লাভ ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। গত মাসে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মাও জোর দিয়ে বলেন, "আমেরিকান ছাড়ের আগেও আমরা রাশিয়ার থেকে তেল কিনতাম, ছাড়ের সময়েও কিনেছি এবং এখনও কিনছি।"

ইউরোপের নৈতিক দ্বিমুখিতা নিয়ে তোপ
ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘নৈতিক দ্বিমুখিতা’ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, "কোনো ইউরোপীয় দেশ আজ পর্যন্ত ভারতের তৈরি অস্ত্র দিয়ে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে আমি ইউরোপীয় অস্ত্রের ব্যাপারে এই কথা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।"

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ইউরোপ এমন সব দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু এখন নয়, বছরের পর বছর ধরে চলছে। অথচ আমরা ভারতীয়রা কখনোই ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে এমন কিছু করিনি। আমার মনে হয় এটি অত্যন্ত যৌক্তিক একটি পয়েন্ট।"

তামান্না রুপা/

জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী জুলাই মাসের পর ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর ওপর নজর রাখছেন এমন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ‘এনডিটিভি প্রফিট’ এই তথ্য জানায়।

আগামী দফায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের এই মুখোমুখি বৈঠকটি ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে পূর্বনির্ধারিত এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকটির সময়সূচি পরিবর্তন করে চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে নির্ধারণ করতে হয়েছে।

তবে মুখোমুখি বৈঠক পিছিয়ে গেলেও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক যোগাযোগ কিন্তু থেমে থাকেনি। ভার্চুয়াল বৈঠক এবং কারিগরি স্তরের পর্যালোচনার মাধ্যমে উভয় দেশই এই আলোচনার গতি সচল রেখেছে। ইসরায়েলে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার এই বৈঠকে মূলত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং বাণিজ্য স্তম্ভগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:

বাজার সুবিধা : দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।

সেবা ও শুল্ক : আন্তঃসীমান্ত পেশাদার সেবা আদান-প্রদান সহজ করা এবং শুল্ক প্রক্রিয়াকে জটিলতামুক্ত করা।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন : উভয় দেশের প্রযুক্তিগত খাতের সক্ষমতাকে যৌথভাবে কাজে লাগানো।

মেধাস্বত্ব : দুই দেশের নতুন নতুন উদ্ভাবন সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী মেধাস্বত্ব কাঠামো তৈরি করা।

এর আগে গত নভেম্বরে তেল আবিব সফরের সময় ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, "এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পণ্য ও সেবা—উভয় খাতেই বৃহত্তর বাজার সুবিধা এবং পুঁজি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত করবে। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করার পাশাপাশি আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে স্পষ্টতা ও নির্ভরযোগ্যতা আনবে।"

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে (২০২৫) ভারত ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রস্তাবিত চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিওকে) নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কাশ্মীরের ঈদগাহ ময়দানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। বিবিসি জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

শরণার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক সংসদীয় আসন সংরক্ষণের বিরুদ্ধে আসন্ন নির্বাচনের আগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী সংগঠনের জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)।

কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও হাজারও মানুষ আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন নিহত হন। 

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিয়ে একটি বিশাল বহর রাওয়ালাকোট শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বিবিসি উর্দুকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী টহল দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বহরকে রাওয়ালাকোট হয়ে মুজাফফরাবাদে যেতে দেওয়া হবে না। বিবিসি উর্দুর প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মসজিদগুলো থেকে লাউড স্পিকারে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও কমিশনার খান দাবি করেছেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালাকোটে নজরদারির জন্য হেলিকপ্টার টহল চালানো হচ্ছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে আটা, চাল, বিদ্যুৎ এবং মৌলিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে তা সহিংস হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবারও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ জন।

 সূত্র: বিবিসি ও এনডিটিভি