যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংশোধিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে একটি চুক্তি প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পরে জানান, তিনি ৫০ বছর পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চান।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, শান্তি পরিকল্পনায় এখনো যেসব বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভূখণ্ডসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে ইউক্রেনের বিতর্কিত ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে।
রাশিয়া এর আগে শান্তি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ প্রত্যাখ্যান করলেও সোমবার ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, শান্তি এখন আগের চেয়ে কাছাকাছি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্লোরিডায় রবিবার ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি আবারও বলেন, একটি সামগ্রিক শান্তি চুক্তি প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন—যা তিনি সফরের আগেও উল্লেখ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অচলাবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে, সেটি হলো ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জেলেনস্কি আশা করছেন শান্তি চুক্তিতে সই হওয়ার মুহূর্ত থেকেই এসব নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কার্যকর হবে।
জেলেনস্কি বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া এই যুদ্ধকে সত্যিকার অর্থে শেষ বলা যায় না। এমন প্রতিবেশীর সঙ্গে পুনরায় আগ্রাসনের ঝুঁকি থেকেই যায়।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ৩০, ৪০ বা এমনকি ৫০ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার সম্ভাবনা বিবেচনা করা।
যুক্তরাষ্ট্র এ সময়সীমা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্প বলেন, চুক্তি প্রায় সম্পন্ন এবং তিনি আশা করছেন ইউরোপীয় মিত্ররা এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অংশের দায়িত্ব নেবে, যুক্তরাষ্ট্র থাকবে সহায়কের ভূমিকায়।
জেলেনস্কির মতে, শান্তি পরিকল্পনায় এখনো দুটি মূল বিষয় অমীমাংসিত, সেগুলো হলো: ভূখণ্ড প্রশ্ন এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ।
বর্তমানে রাশিয়া দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দুই অঞ্চল মিলেই ডনবাস নামে পরিচিত।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ডনবাস নিয়ে সমঝোতা এখনো হয়নি, তবে সমাধানের দিকে অনেকটাই এগিয়েছে।
ডনবাসের ভবিষ্যৎ শুরু থেকেই আলোচনার বড় বাধা হয়ে আছে। রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে পুরো ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
সোমবার ক্রেমলিন আবারও বলে, ইউক্রেনকে ওই অঞ্চলের যেসব অংশ এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে ইউক্রেন বলছে, অঞ্চলটি তাদের বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল হতে পারে।
রয়টার্সের বরাতে বলা হয়, জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন—এ বিষয়ে যেকোনো আলোচনা ইউক্রেনের জনগণকে সম্পৃক্ত করেই করতে হবে।
ইউক্রেনের হারানো ভূখণ্ড নিয়ে ট্রাম্প নিজেও বারবার অবস্থান বদলেছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি বলেন, ইউক্রেন হয়তো তার ভূখণ্ড ফিরিয়ে নিতে পারবে—যা পর্যবেক্ষকদের বিস্মিত করেছিল। পরে তিনি সে অবস্থান থেকে সরে আসেন। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/