ইয়েমেনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
আল-আলিমি বলেন, হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)–এর আরও অগ্রযাত্রা হলে তার গুরুতর পরিণতি হবে। সৌদি আরবের সীমান্তঘেঁষা এসব প্রদেশে এসটিসির উপস্থিতি দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ডিসেম্বরে চালানো এক আকস্মিক অভিযানের পর এই সতর্কতা আসে। ওই অভিযানে এসটিসি বাহিনী সম্পদসমৃদ্ধ এসব প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। রিয়াদ অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এসটিসিকে উসকানি দিচ্ছে এবং সৌদি সীমান্তসংলগ্ন ইয়েমেনি প্রদেশগুলোতে এসটিসির উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আরব আমিরাত এসব অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তাকেই সমর্থন করে।
এদিকে আল-আলিমির কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে এসটিসি। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি কর্তৃপক্ষ যেসব প্রদেশ থেকে তাদের সরে যেতে বলছে, সেসব জায়গায় তাদের যোদ্ধারা অবস্থান বজায় রাখবে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এসটিসি ঘোষণা দেয়, হাদরামাউতে তারা যে এলাকাগুলো দখলে নিয়েছে সেখানে আরও বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী মোতায়েনের জন্য একটি নতুন চুক্তি করা হয়েছে। এতে ওই প্রদেশে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হলো। এ ঘোষণার পর ইয়েমেন সরকার বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনের চালান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট
এসটিসির মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-নাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বলেন, দখল করা এলাকাগুলোতে তাদের ইউনিটগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে তিনি যোগ করেন, এসব কার্যক্রম ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘হোমল্যান্ড শিল্ড’ বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হবে।
হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি বলেন, বাহিনী প্রত্যাহারের সরকারি দাবির জবাবে এসটিসির সাড়া ছিল খুবই সীমিত। তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাদরামাউত থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করে আগের অবস্থানে ফেরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনি রক্তপাত এড়াতে চান এবং সতর্ক করে বলেন, অব্যাহত অবাধ্যতা প্রদেশটিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে দুটি জাহাজে করে অস্ত্র ও সামরিক যান ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে পৌঁছানোর পর সেগুলোর ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মুকাল্লা বর্তমানে এসটিসির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সৌদি আরব বলেছে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটি একটি ‘লাল রেখা’। তারা অভিযোগ করেছে, হাদরামাউত ও আল-মাহরায় এসটিসির ভূখণ্ড দখল বাড়ার সময় আরব আমিরাত ওই গোষ্ঠীর কাছে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
আবুধাবি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব দাবিকে ‘অভিযোগ’ বলে আখ্যা দেয়। তবে পরে তারা ইয়েমেনে তাদের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ দলের অবশিষ্ট মিশন শেষ করার ঘোষণাও দেয়।
দক্ষিণ ইয়েমেনকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া এসটিসি ডিসেম্বরের শুরুতে সর্বশেষ সামরিক তৎপরতা শুরু করে এবং বাহিনী প্রত্যাহারের জন্য স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বারবার আহ্বান উপেক্ষা করে চলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বুধবার সতর্ক করে বলেছে, হাদরামাউত ও আল-মাহরার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি উপসাগরজুড়ে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এক মুখপাত্র বলেন, “ইইউ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে,” একই সঙ্গে ইয়েমেনের অখণ্ডতা ও প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/