ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলায় জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্য লজিস্টিক ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে বলে দাবি করেছে একটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েলি দৈনিক ‘ইসরায়েল হায়োম’ আজ রবিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইরানের ওপর একটি ‘শক্তিশালী হামলার’ জন্য চাপ দিচ্ছেন। তারা বিষয়টিকে একটি ‘মৌলিক কৌশলগত পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনায় আবু ধাবি (আরব আমিরাত) এবং যুক্তরাজ্যের মতো বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশের সমর্থন রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটেন এবং জর্ডান ওয়াশিংটনকে গোয়েন্দা তথ্য ও অপারেশনাল ডাটা সরবরাহ করবে। এ ছাড়া, হামলার জবাবে ইরান যদি পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নিক্ষেপ করে, তবে তা রুখে দিতেও এই দেশগুলো ভূমিকা পালন করতে পারে। এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হবে ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে রক্ষা করা।
ব্রিটেনের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নেতিবাচক মন্তব্যের পর লন্ডনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এই আলোচনার মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গতকাল শনিবার ইসরায়েল সফরে এসেছেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ইসরায়েলি একটি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, দুই দেশের সামরিক বাহিনী বর্তমানে একে অপরের সঙ্গে সবচেয়ে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তারা গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শেয়ার করার পরিকল্পনা করছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ
এদিকে, সম্ভাব্য এই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরব কূটনীতিক ও উপসাগরীয় কর্মকর্তারা। সৌদি আরব, ওমান এবং কাতার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো হামলা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের ভয়, হামলা শুরু হলে তারা যুদ্ধের মাঝে পড়ে যেতে পারে। তবে আরব আমিরাতের অবস্থান নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ দেশটির কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র আরব আমিরাতের সঙ্গেই ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আরব আমিরাত সর্বপ্রথম ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘আব্রাহাম একর্ড’-এ স্বাক্ষর করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের কাছে থেকে ২.৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার জন্য ইসেরায়েলি কোম্পানি ইলবিট সিস্টেমের সঙ্গে আলোচনা বা চুক্তির কথা উল্লেখ করেছে জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, জর্ডান ইসরায়েলের প্রতিবেশি দেশ এবং সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে খুবই দুর্বল। কৃষিজমির পানি ও অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে জর্ডান ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আছে। এসব ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ সহ আরও অনেক ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র মোতোয়েন করে রেখেছে। ফলে দেশটি মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হাত-পা বাঁধা। যেকোনো সংঘাতে ইসরায়েল জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের স্বেচ্ছাচারিতা উপভোগ করে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মাহফুজ/