ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কিয়েভে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি তিনি সাহস করেন।”
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি জানান, বৈঠকের ধরন বা ফরম্যাট নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মস্কো বা বেলারুশে গিয়ে তিনি পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। ক্রেমলিন থেকে এমন প্রস্তাব এলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউক্রেনের সংবাদ সংস্থা আরবিসি-ইউক্রেনকে জেলেনস্কি বলেন, মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক করা “অসম্ভব”। তিনি বলেন, “মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করা আর কিয়েভে তার সঙ্গে বৈঠক করা একই কথা। চাইলে আমি তাকে কিয়েভে আমন্ত্রণ জানাতে পারি। প্রকাশ্যেই আমি তাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি—যদি তিনি সাহস করেন।”
জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং বেলারুশ এই কর্মকাণ্ডে রাশিয়ার ‘অংশীদার’ হিসেবে কাজ করছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্রেমলিন জানায়, শান্তি আলোচনার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আবারও মস্কোয় আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাশিয়া, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো জবাব পায়নি তারা।
এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। গত সপ্তাহে আবু ধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামী রবিবার হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরিস্থিতির কারণে বৈঠকের সময় ও স্থান পরিবর্তিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, “যাদের সঙ্গে আমরা বৈঠকে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছি, তাদের সবাই সেখানে উপস্থিত থাকা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানান, তীব্র শীতের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর অনুরোধে পুতিন সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে “খুবই ভালো” বলে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার ক্রেমলিনও বিষয়টি নিশ্চিত করে। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্কাই নিউজকে বলেন, পুতিন ওই অনুরোধ পেয়েছেন এবং তিনি “অবশ্যই” এতে সম্মতি দিয়েছেন।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, আলোচনায় জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে এবং তিনি আশা করছেন, এ সংক্রান্ত সমঝোতাগুলো বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, “উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ যুদ্ধ অবসানের পথে বাস্তব অগ্রগতিতে সহায়তা করে।”
তবে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রত্যাহারের জন্য রাশিয়ার দাবি এবং যুদ্ধ শেষে ইউক্রেনে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েনের সম্ভাবনা। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/