সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর প্রদেশের আরও দুটি এলাকায় তীব্র অপুষ্টি এবং অনাহার ‘দুর্ভিক্ষ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা। দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধের ফলে এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের সংগঠন ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি) আজ বৃহস্পতিবার এক সতর্কবার্তায় জানায়, উত্তর দারফুর রাজ্যের উম বারু এবং কর্নোই এলাকায় তীব্র অপুষ্টির মাত্রা দুর্ভিক্ষের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, তবে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষুধার এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উম বারু এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির হার ৫৩ শতাংশ, যা দুর্ভিক্ষের জন্য নির্ধারিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে কর্নোই এলাকায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছে।
আইপিসি’র এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘‘এই আশঙ্কাজনক হার অতিরিক্ত মৃত্যুঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা যে, পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোও একই ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’’
এর আগে তিন মাস আগে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের এবং দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলিতে দুর্ভিক্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। ১৮ মাসের অবরোধ এবং বোমাবর্ষণের পর গত অক্টোবরে এল-ফাশের শহরটি আরএসএফ-এর দখলে চলে যায়।
উম বারু এবং কর্নোই এলাকা দুটি চাদ সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং এল-ফাশের পতনের পর পালিয়ে আসা হাজার হাজার মানুষ এই এলাকাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে এসব অঞ্চলেও সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আইপিসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দারফুর এবং পার্শ্ববর্তী কর্দোফান অঞ্চলের আরও ২০টি এলাকা বর্তমানে দুর্ভিক্ষের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/