ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন গতকাল শুক্রবার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা সেবা পুনরায় চালু করেছে। দুই মাস আগে এই সেবা স্থগিত করা হয়েছিল।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
এটি নয়াদিল্লির গুরুত্বকে তুলে ধরছে এবং সম্পর্কের জটিলতা দূর করার প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর এক দিন আগে সিলেটে ভারতের জ্যেষ্ঠ কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস জানান, ভারত শিগগিরই বাংলাদেশে সব ধরনের ভিসা সেবা পুনরায় চালু করবে। গত ডিসেম্বর মাসে দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত হয়। এর পেছনে ছিল ভারতবিরোধী যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে উত্তেজনা। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ঢাকায় ড. ইউনূসের সরকারের বিদায় এবং তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নতির ইতিবাচক বার্তা মিলছে।
সূত্রগুলো জানায়, গতকাল সকাল থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন সব ধরনের কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালু করেছে। ডিসেম্বর মাসে ব্যবসা ও কাজের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে ছিল। কিন্তু এখন চিকিৎসা, পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসা পুনর্বহাল করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিলেটে নিযুক্ত ভারতের জ্যেষ্ঠ কনস্যুলার অনিরুদ্ধ দাস গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই ভ্রমণ ভিসাসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিও চালু হবে।
তিনি বলেন, ‘সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিত ইতোমধ্যে মিলেছে। চলতি সপ্তাহে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধি হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং তার সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি মোদির একটি চিঠিও হস্তান্তর করেন, যেখানে রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবর বলছে, এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ঐতিহ্য অনুসারে প্রথম বিদেশ সফরে দিল্লি যান কি না। গত বছর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই প্রথা ভেঙে প্রথমে চীন সফর করেছিলেন, যা নয়াদিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে