ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজশাহীতে মাহিন্দ্রা-ট্রাক সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা নড়াইলে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু ভোলায় স্ত্রী-সন্তানদের ফিরে পেতে ‘জ্বিনের বাদশা’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে নেই পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক বিজিবি পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগে বদলে যাচ্ছে মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের চিত্র ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছেন না রোনালদো মাধবপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২ বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা ইংল্যান্ড ফেবারিট না হলেও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে: টুখেল যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত! হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ১০ জুন, ২০২৬ বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ? আবারও কমল সোনার দাম, নতুন দর কত? ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে আত্মহত্যা প্রেমিকার শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক
Nagad desktop

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে কিয়েভে গেলেন ইইউ প্রধান

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে কিয়েভে গেলেন ইইউ প্রধান
ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে দশম বারের মতো কিয়েভে গেলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইইউ প্রধান ইউক্রেনে গিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ইউরোপ অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে অবিচলভাবে ইউক্রেনের পাশে থাকবে এবং তীব্র শীতকালে দেশটিকে সমর্থন করবে।

রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে এটি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভন ডার লিয়েনের দশম সফর। তিনি এক্স-এ এক বার্তায় লিখেছেন, তিনি এখানে এসেছেন ‘ইউক্রেনের ন্যায্য লড়াইয়ের প্রতি আমাদের অবিচল প্রতিশ্রুতি জোরদার করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের জনগণ এবং আক্রমণকারী রাশিয়ার কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাতে এসেছি, আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত থামব না। শান্তি হবে ইউক্রেনের শর্তে।’ সূত্র: এএফপি

নাঈম/

আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য চার নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। ২০২৭ সালের শেষ দিকে মিশন উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও মহাকাশযান পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে এই অভিযানে।

দলটিতে যারা রয়েছেন, তারা হলেন- নাসার নভোচারী আন্দ্রে ডগলাস, ফ্রাঙ্ক রুবিও ও র‌্যান্ডি ব্রেসনিক। তাদের সঙ্গে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইতালীয় নভোচারী লুকা পারমিতানো।

নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৩ সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবে না। বরং পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করে নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান কীভাবে একটি চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে সংযুক্ত বা ডকিং করতে পারে, তা পরীক্ষা করা হবে।

ভবিষ্যতে চাঁদে নিরাপদে অবতরণের ঝুঁকি কমানোই এ মিশনের প্রধান লক্ষ্য।

নাসা জানায়, পরীক্ষামূলক এই মিশনে স্পেসএক্সের স্টারশিপ এবং ব্লু অরিজিনের ব্লু মুন ল্যান্ডারের এক বা উভয়টির সঙ্গে ওরিয়নের ডকিং হতে পারে। তবে কোন যানটি সময়মতো প্রস্তুত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের ল্যান্ডার উন্নয়ন কার্যক্রমে নানা বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

নাসার প্রশাসক জানিয়েছেন, ওরিয়ন প্রথমে ব্লু মুনের সঙ্গে এবং পরে স্টারশিপের সঙ্গে ডকিং করতে পারে। ব্লু মুনের সঙ্গে প্রায় দুই দিন অবস্থান করে নভোচারীরা জীবনরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করবেন। এরপর স্টারশিপের সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য সংযুক্ত হবে ওরিয়ন।

তবে এই মিশনে নভোচারীরা স্টারশিপের ভেতরে প্রবেশ করবেন না। কারণ যানটির পূর্ণাঙ্গ ক্রু কেবিন ও জীবনরক্ষা ব্যবস্থা এখনো উন্নয়নাধীন রয়েছে।

মিশন শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে যাত্রা শেষ হবে।

নাসার ঘোষিত চার নভোচারীর মধ্যে র‌্যান্ডি ব্রেসনিক মিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অভিজ্ঞ এই নভোচারী এর আগে স্পেস শাটল ও রাশিয়ার সয়ুজ মহাকাশযানে উড়েছেন।

আন্দ্রে ডগলাসের জন্য এটি হবে প্রথম মহাকাশযাত্রা। ফ্রাঙ্ক রুবিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ৩৭০ দিনের বেশি সময় অবস্থান করে মার্কিন নভোচারীদের মধ্যে দীর্ঘতম একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন।

অন্যদিকে লুকা পারমিতানো দুই বার মহাকাশ ভ্রমণ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রথম ইতালীয় কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশেষভাবে আলোচিত বিষয় হলো, আর্টেমিস-৩ দলের চার সদস্যই পুরুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাসার কোনো বড় মিশনে এমন পুরুষ দল খুব কমই দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ব্রেসনিক বলেন, নারী নভোচারীদের বাদ দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। মিশনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ক্রু নির্বাচন করা হয়েছে। 

নাসা আশা করছে, আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের ভিত্তি তৈরি করবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষের চাঁদে অবতরণের পথ সুগম করবে।

খাদিজা রুমি/অমিয়/

বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগে বদলে যাচ্ছে মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের চিত্র

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগে বদলে যাচ্ছে মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের চিত্র
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের পাহাড়ি এলাকায় বিদ্রোহী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া চার তরুণ কখনোই দেশের গৃহযুদ্ধে অংশ নিতে চাননি। তারা কেউই বিদ্রোহী হতে চাননি, আবার সামরিক বাহিনীর সৈনিক হওয়ারও ইচ্ছা ছিল না।

সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তাদের একজন ছিলেন রাঁধুনি, যাকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে আটক করে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। আরেকজন গভীর রাতে কারাওকে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় গ্রেপ্তার হন। তৃতীয় ব্যক্তি বন বিভাগে কর্মরত ছিলেন; তাকেও আটক করে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়। চতুর্থ তরুণের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তার জুতার মধ্যে মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ফাঁসানো হয় এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।

১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই চার তরুণ বিবিসিকে বলেন, ‘কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই আমাদের সরাসরি যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়েছিল।’

তাদের একজন বলেন, ‘আমাদের দিয়ে এমন সব কাজ করানো হয়েছে, যা আমরা করতে চাইনি। সকাল, দুপুর কিংবা রাত- কোনো সময়ই বিশ্রাম পাইনি। বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের দিয়েই সব কাজ করানো হতো। অথচ নিয়মিত সৈন্যদের কাজ তুলনামূলকভাবে কম এবং সহজ ছিল।’

চার মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কারেন অঙ্গরাজ্যে পাঠানো হয়। সেখানে এক রাতে গোসল করতে যাওয়ার পথে তারা পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে পালানোর পর তারা নিকটবর্তী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) একটি টহল দলের হাতে আটক হন। বর্তমানে তারা বিদ্রোহীদের সঙ্গেই অবস্থান করছেন।

পিডিএফের ভাষ্য, সেখানে তাদের অপরিচিত হিসেবে নয়, বরং ভাইয়ের মতো আচরণ করা হচ্ছে।

চার তরুণ আপাতত পিডিএফের সঙ্গেই থাকবেন। পরে তাদের থাইল্যান্ড সীমান্তে পাঠানো হবে। কারণ, তাদের আশঙ্কা- এখন ফিরে গেলে সেনাবাহিনী তাদের খুঁজে বের করতে পারে।

বাধ্যতামূলক নিয়োগে শক্তিশালী হচ্ছে জান্তা বাহিনী

চার তরুণের অনিচ্ছাকৃত সেনাজীবন মায়ানমারের সাম্প্রতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর বাধ্যতামূলক নিয়োগনীতি গৃহযুদ্ধে জান্তা সরকারের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

২০২১ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। এরপর আটক করা হয় দেশটির সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দুই বছরেরও বেশি সময় আগে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদ্রোহী জোট দেশজুড়ে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক এলাকায় বিদ্রোহীরা রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে গেছেন।

যদিও সামরিক বাহিনী এখনো দেশের অর্ধেকেরও কম এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে, তবু তারা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টাউনশিপ পুনর্দখল করেছে। উত্তরে মান্দালয় থেকে মিতকিনাগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পুনরুদ্ধার করেছে। পাশাপাশি কাচিন, চিন ও কারেন অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো পুনর্নিয়ন্ত্রণে আনতে হাজারো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৫২ এএম
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের নতুন করে বিমান হামলায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'গত রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত ও পক্তিকা প্রদেশে বেসামরিক বাড়িঘরে বোমা হামলা চালিয়েছে'।

খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, স্পেরা জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

পাশের পক্তিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেকটি হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশুও ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে ইসলামাবাদ বরাবরই দাবি করে আসছে, আফগানিস্তানে তাদের হামলার লক্ষ্য সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। সে সময় সীমান্তজুড়ে ভয়াবহ লড়াই এবং পাকিস্তানের নজিরবিহীন বিমান হামলা চালানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল আফগান রাজধানী কাবুল এবং দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার শহর।

থিও/অমিয়/

বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা
যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট শহরে ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট শহরে এক সুদানি নাগরিকের ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিবাসনবিরোধী উগ্র বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে।

উত্তর বেলফাস্টে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগে ওই সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করার পর এই অশান্তির সূত্রপাত হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) শহরজুড়ে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন, যাদের অনেকে মুখোশ পরিহিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা একটি বাস এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি একটি ভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডাস্টবিনে আগুন ধরায় এবং পরে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। বেলফাস্ট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যানট্রিম এলাকাতেও বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুখোশধারী একদল মানুষের এভাবে সাধারণ পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর থেকে আগুনে পুড়িয়ে উচ্ছেদ করা চরম কাপুরুষতা ও ঘৃণ্য অপরাধ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বর্ণবাদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতা যেখানেই ঘটুক না কেন, তা সম্পূর্ণ ভুল। আজ রাতের এই হামলার কোনো অজুহাত বা যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আমাদের রাস্তায় কেউ এই দৃশ্য দেখতে চায় না এবং আমি আবারও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/অমিয়/

হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি বাহিনীর হামলায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও যুদ্ধের পরিবর্তে একটি সমঝোতামূলক সমাধানের পক্ষে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হামলায় হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে অবস্থিত ইরানের একাধিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। 

এর পরপরই তেহরান ঘোষণা দেয় যে, তারা কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জাস্ক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হামলা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের তাসনিম সংবাদসংস্থা জানায়, কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের সিরিকসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, মার্কিন বাহিনী তিন দফায় হামলা চালিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা।

অন্যদিকে, ইরানের ফার্স সংবাদসংস্থা জানায়, সিরিকের বেমানি জেলায় দুটি পানির ট্যাঙ্কও হামলায় ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে, কুয়েতে অবস্থিত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতেও ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের

সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সংকল্প’ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং মার্কিন ‘আগ্রাসন’ চলতে থাকলে আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইআরজিসি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিকের বেমানি জেলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর জানিয়েছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসির যৌথ অভিযানে অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ইরান দাবি করে, তারা জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও জর্ডান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসির দাবি, তারা জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। 

সংস্থাটির ভাষ্য, হামলায় ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে, বাহরাইন হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আগের দিন একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ করেছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে একটি ইরানি ড্রোন অ্যাপাচি গানশিপটিকে আঘাত করেছিল, যার ফলে এটি হরমুজ প্রণালীর কাছে বিধ্বস্ত হয়। তবে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, এই হামলাগুলো ছিল আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ‘আনুপাতিক জবাব’।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।’ সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/