আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা। তিনি ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী ধর্মভিত্তিক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিকভাবে উত্থান লাভ করেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) হন এবং ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
সাদা দাড়ি, ধর্মীয় পোশাক এবং কালো পাগড়ির জন্য সহজেই পরিচিত খামেনি নিজেকে কঠোর ও সংযমী অভিভাবকসুলভ নেতার ভাবমূর্তিতে উপস্থাপন করেছিলেন। গভীর আদর্শনিষ্ঠ এই নেতা দায়িত্ব গ্রহণের পর আর কখনও ইরানের বাইরে যাননি; বরং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা কাঠামোর ভেতর থেকেই তিনি শাসন পরিচালনা করেন।
তার শাসনামলে নেতৃত্ব ও ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন বিক্ষোভ দমন করতে তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করেন। নারীর অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা বিষয়ে তার কঠোর অবস্থান এবং ভিন্নমত দমনে আপসহীন নীতি তাকে এমন এক নেতা হিসেবে পরিচিত করে তোলে, যিনি যেকোনো মূল্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
সহিংস দমন-পীড়ন ও দেশজুড়ে অস্থিরতার সময়েও তার অবস্থান প্রায়ই অস্পষ্ট থাকত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হতো যে, তিনি অনুগতদের ঘিরে কোনো বাঙ্কার বা গোপন স্থানে অবস্থান করছিলেন, যদিও এসব তথ্যের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ খুব কমই পাওয়া গেছে।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় খামেনিসহ খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন।
সুমন/