ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আগামী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা। ইরানে হামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি সামরিক অভিযানের পর পেন্টাগন অস্ত্রভান্ডার পুনরায় পূরণে কাজ করছে বলে পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত পাঁচজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানায়, লকহিড মার্টিন এবং আরটিএক্স করপোরেশনসহ (রে থিয়নের মূল কোম্পানি) অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইরান অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের পর অস্ত্র মজুত জোরদারের যে তাগিদ ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছে, এই বৈঠক তা-ই নির্দেশ করে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর এবং ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্ত্রভান্ডার থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আর্টিলারি সিস্টেম, গোলাবারুদ ও অ্যান্টি ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। ইরান সংঘাতে ইউক্রেনকে দেওয়া অস্ত্রের তুলনায় বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।
এক সূত্র জানায়, বৈঠকে অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের উৎপাদন বাড়াতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে। লকহিড মার্টিন, পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। আরটিএক্স মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের ‘প্রায় সীমাহীন মজুত’ রয়েছে এবং ‘শুধু এই সরঞ্জাম দিয়েই যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল এবং খুব সফলভাবে চালানো সম্ভব।’
হোয়াইট হাউসের বৈঠকটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফাইনবার্গ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শুক্রবারই তা প্রকাশ হতে পারে বলে এক সূত্র জানিয়েছে। নতুন এই অর্থ মধ্যপ্রাচ্যসহ সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রতিস্থাপনে ব্যয় করা হবে। তবে এ অঙ্ক প্রাথমিক এবং পরিবর্তিত হতে পারে।
ইরানে মার্কিন হামলার পর উৎপাদন বাড়ানোর চাপ আরও বেড়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সেখানে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং কম খরচের একমুখী আক্রমণ ড্রোন ব্যবহার করে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী রে থিয়ন পেন্টাগনের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বছরে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে পেন্টাগন ২০২৬ সালে গড়ে প্রতিটি ১৩ লাখ ডলার দামে ৫৭টি টমাহক কেনার পরিকল্পনা করছে।
প্রশাসন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ওপর উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণের আগে চুক্তির কাজ সম্পন্ন করার জন্য চাপ বাড়িয়ে চলেছে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে এমন ঠিকাদারদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন, যারা চুক্তির কাজে পিছিয়ে থেকেও মুনাফা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করছে।
পেন্টাগন শিগগিরই কম কর্মদক্ষ ঠিকাদারদের একটি তালিকা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত সংশোধন পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হলে পেন্টাগন চুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। সূত্র: রয়টার্স