ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে নেই পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক বিজিবি পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছেন না রোনালদো মাধবপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২ বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা ইংল্যান্ড ফেবারিট না হলেও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে: টুখেল যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত! হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ১০ জুন, ২০২৬ বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ? আবারও কমল সোনার দাম, নতুন দর কত? ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে আত্মহত্যা প্রেমিকার শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য
Nagad desktop

৩৫০০ মেরিন সেনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম
৩৫০০ মেরিন সেনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ট্রিপলি’ (USS Tripoli) গতকাল ২৭ মার্চ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় পৌঁছেছে।

জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই যুদ্ধজাহাজে প্রায় ৩,৫০০ জন নাবিক ও মেরিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। 

ইউএসএস ট্রিপলি’কে একটি ‘লাইট এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এতে রয়েছে F-35B Lightning II স্টিলথ ফাইটার জেট, যা খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি এতে রয়েছে MV-22B Osprey পরিবহন বিমান এবং বিভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জাহাজ মূলত সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলভাগ বা দ্বীপে সেনা নামিয়ে দ্রুত দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপগুলোকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতায় এই জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: মার্কিন সেন্টকম

মাহফুজ/

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৫২ এএম
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের নতুন করে বিমান হামলায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'গত রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত ও পক্তিকা প্রদেশে বেসামরিক বাড়িঘরে বোমা হামলা চালিয়েছে'।

খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, স্পেরা জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

পাশের পক্তিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেকটি হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশুও ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে ইসলামাবাদ বরাবরই দাবি করে আসছে, আফগানিস্তানে তাদের হামলার লক্ষ্য সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। সে সময় সীমান্তজুড়ে ভয়াবহ লড়াই এবং পাকিস্তানের নজিরবিহীন বিমান হামলা চালানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল আফগান রাজধানী কাবুল এবং দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার শহর।

থিও/অমিয়/

বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা
যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট শহরে ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট শহরে এক সুদানি নাগরিকের ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিবাসনবিরোধী উগ্র বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে।

উত্তর বেলফাস্টে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগে ওই সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করার পর এই অশান্তির সূত্রপাত হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) শহরজুড়ে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন, যাদের অনেকে মুখোশ পরিহিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা একটি বাস এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি একটি ভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডাস্টবিনে আগুন ধরায় এবং পরে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। বেলফাস্ট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যানট্রিম এলাকাতেও বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুখোশধারী একদল মানুষের এভাবে সাধারণ পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর থেকে আগুনে পুড়িয়ে উচ্ছেদ করা চরম কাপুরুষতা ও ঘৃণ্য অপরাধ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বর্ণবাদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতা যেখানেই ঘটুক না কেন, তা সম্পূর্ণ ভুল। আজ রাতের এই হামলার কোনো অজুহাত বা যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আমাদের রাস্তায় কেউ এই দৃশ্য দেখতে চায় না এবং আমি আবারও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:২৮ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম
ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

বুধবার (১০ জুন) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়। 

বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, সবশেষ হামলার ফলে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আবারও যুদ্ধঝুঁকি এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের দিকে ফিরে গেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে নতুন করে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব যুক্ত হয়েছে।

এদিকে, তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও সংঘাতে জড়াবে। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ না হওয়ায় বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আইএনজির পণ্য কৌশলবিদরা বলছেন, দ্রুত কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা না থাকায় এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার প্রতিদিন আরও সংকুচিত হওয়ায় দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে এই বিঘ্ন যদি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যখন তেলের চাহিদা সাধারণত বেশি থাকে।

উল্লেখ্য, ইরান এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল সীমিত রেখেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স

থিও/অমিয়/

ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত
ছবি:সগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলের সর্বশেষ সামরিক অভিযান শুরুর ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। ১০০তম দিনেও গতকাল ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টায়ারে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত আটজন নিহত হন। টায়ার শহরের বাসিন্দাদের নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে শহরের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত বন্দরসংলগ্ন এলাকাও রয়েছে, যা আগে এমন নির্দেশনার বাইরে ছিল।

এই ১০০ দিনে দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত ২৪৫ জন শিশু। এ ছাড়া ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় শিশু ৯০০ জন।

নিহতদের বড় একটি অংশ বেসামরিক নাগরিক। কমপক্ষে ১৩১ জন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ একই স্থানে পরপর দুই বা তিন দফা হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ১৭টি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১০০ দিনে সাংবাদিকদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে সংঘাত বন্ধে নানা পর্যায়ে চেষ্টা চলছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবানন সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে তারা লেবাননের সংঘাতের বিষয়টিকেও যুক্ত করবে।

কিন্তু হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধী। সম্প্রতি সংগঠনটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে, যা সংঘর্ষের ধরন বদলে দিয়েছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক ও হিজবুল্লাহবিষয়ক বইয়ের লেখক নিকোলাস ব্লানফোর্ড বলেন, ‘তারা আবার গেরিলা যুদ্ধের শিকড়ে ফিরে গেছে। নব্বইয়ের দশকের মতো এখন তাদের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি বাহিনীকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দেওয়া। ইসরায়েল যেসব নতুন প্রতিরক্ষা বা আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেগুলো অতিক্রম করে তারা ইসরায়েলি সেনাদের হতাহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান শুরু হয় ২ মার্চ। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে টার্গেট করে ছয়টি রকেট নিক্ষেপ করলে এই সংঘাত শুরু হয়। এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া।

হিজবুল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনাও তাদের প্রতিক্রিয়ার কারণ ছিল।

অন্যদিকে লেবানন সরকার দেশজুড়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চাপও বাড়ছে।

গত ২ মার্চ লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতার ওপর এর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানও লেবাননের পরিস্থিতিকে নিজেদের যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ করার চেষ্টা করছে। লেবানন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার ওপর আস্থা রেখে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।  সূত্র: আল-জাজিরা

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মদ আল-বাকরি তার ধর্ষণের তারিখটি স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল। পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের ছুটি চলছিল। গাজার সরকারি এই কর্মচারীকে এর এক মাস আগে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি সেনারা। তাকে মারধর, নির্যাতন, বেঁধে রাখা এবং অপমানজনক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সেদিন তার চারপাশে ঘিরে ছিল ইসরায়েলি সেনারা এবং তাদের প্রশিক্ষিত কুকুর। তিনি বলেন, ‘ডান পাশে ছয়জন সৈন্য, বাম পাশে ছয়জন সৈন্য ছিল। তারা নাম জিজ্ঞেস করত। যদি বলতাম ‘মুহাম্মদ’, তারা বলত, ‘না, বল তোমার নাম হারামজাদা।’

আল-বাকরি জানান, তার সঙ্গে আরও সাতজন বন্দি ছিলেন। সবাইকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের পোশাক খুলে নেওয়ার পর ধর্ষণ করা হয়। আমরা চিৎকার করে বলছিলাম, ‘হে আল্লাহ, হে সৃষ্টিকর্তা’, কিন্তু তারা শুধু হাসছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।”

আল-বাকরি আরও বলেন, কারারক্ষীরা যৌন নির্যাতনের সময় কুকুরও ব্যবহার করত। তিনি বলেন, ‘কুকুরগুলো কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে আমাদের ওপর হামলা করে। কোনো দয়া ছিল না। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট আমরা এই যৌন নির্যাতন ও মারধরের শিকার হয়েছিলাম। পরে তারা আমাদের কাপড় পরতে বলে আবার কারাগারে নিয়ে যায়।’

আল-বাকরি সেই সব বন্দির মধ্যে একজন, যারা ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইসরায়েলস ডার্কেস্ট ওয়েপন’ অনুষ্ঠানের জন্য আল-জাজিরাকে বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা, জাতিসংঘ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানেজে বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ব্যবহার ব্যাপক এবং সুসংগঠিত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন প্যালেসটাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (পিসিএইচআপর) এবং ইউরো-মেড মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাও এমন বহু সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছে, যেখানে বন্দিরা ইসরায়েলি সেনাদের কুকুর দিয়ে যৌন নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়; এর ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। আল-জাজিরার অনুসন্ধান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ধর্ষণকে উল্লেখযোগ্যভাবে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। 

২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে যৌন, প্রজননসংক্রান্ত এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ব করেছে।

মে মাসে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের ‘সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার কালো তালিকা’য় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বিৎসেলেম এবং ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র—সবাই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যৌন সহিংসতার বিস্তৃত সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বেশি।

এদের অনেককে ইসরায়েলের প্রশাসনিক আটকব্যবস্থার আওতায় কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো ইসরায়েলি সৈন্য বা কারারক্ষীকে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নেগেভ মরুভূমির স্দে তেইমান আটক শিবিরে এক বন্দিকে ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর ইসরায়েল ১০ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আটক করেছিল। কিন্তু ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্যও ছিলেন, অভিযুক্তদের মুক্ত করার জন্য আটক কেন্দ্রটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েল ওই রক্ষীদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। ভিডিওটি ফাঁস করার অভিযোগে নারী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকেও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সৈন্যদের ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ করাকে দেশের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘সবচেয়ে গুরুতর জনসংযোগ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেন।

জাতিসংঘের রিপোর্টার ফ্রানচেস্কা আলবানেজ বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক কষ্ট দেওয়া নয়, বরং তাদের ব্যক্তিসত্তা ও আত্মমর্যাদাবোধকে ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের মধ্যে, বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন মানুষের মানসিক জগৎকে ধ্বংস করে দেয়। এতে একজন মানুষের নিজের জীবন পুনর্গঠন করা এবং স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

গণহত্যা ও ধর্ষণের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকা
মজুর হিসেবে কাজ করা আইয়ুব (ছদ্মনাম) আল-জাজিরা বলেন, কখনো ভাবেননি যে তার জীবন অন্যদের কাছে বিশেষ কিছু। আল-বাকরির মতো তিনিও ছিলেন গাজার এক সাধারণ মধ্যবয়সী পারিবারিক মানুষ। নিজের চেয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পরিবারের নিরাপত্তাই ছিল তার প্রধান চিন্তা।

কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের জীবন বদলে যায়। আল-বাকরির মতো আইয়ুবও স্পষ্টভাবে নিজের ধর্ষণের স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘নারী সৈন্যরা আমার কক্ষে প্রবেশ করে আমার দুই হাত পেছনে নিয়ে লোহার হাতকড়া পরাল। তারপর পায়ের হাতকড়া খুলে অন্য হাতকড়া পরাল। এরপর আমার সব কাপড় খুলে নেয়। সৈন্যরা তার ঘাড় ও পিঠের ওপর বুট চেপে ধরে রেখেছিল। এরপর নারী সৈন্যরা বিভিন্ন কৃত্রিম বস্তু ব্যবহার করে তাকে ধর্ষণ করে। চারপাশে থাকা সৈন্যরা হাততালি দিচ্ছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।

প্রতিশোধের উন্মত্ততা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার ঘটনা ইসরায়েলি সমাজকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। আইয়ুব বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তাকে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল, মারধর করা হয়েছিল এবং পদদলিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাকে ৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

মানবিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়া
পর্যবেক্ষকদের মতে, যেসব ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই এমন একটি সামাজিক পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সমমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি দুর্বল।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের একটি সুস্পষ্ট ধারা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে কার্যকর আইনি শাস্তি কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়নি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতে চাইলে ইসরায়েল তাতে বাধা দেয়। জাতিসংঘের মতে, জোরপূর্বক নগ্ন করা, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া এবং যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা চালানো- এসব কর্মকাণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রায় নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা