বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় এই দরপতন হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের মনোনীত সদস্য কেভিন ওয়ার্শ-এর সিনেট অনুমোদন শুনানির দিকেও বাজারের নজর ছিল।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৮৪ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে গতকাল সোমবার স্বর্ণের দাম ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির ইউএস গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮০৩ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়ায়।
মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের দর বাড়ায় ডলারে লেনদেন হওয়া পণ্য অন্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি দামে কিনতে হয়। ফলে স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়ে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা এবং অবরোধ বহাল থাকায় বাজারে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
অ্যাক্টিভট্রেডস-এর বিশ্লেষক রিকাডো ইভানজেলিস্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তা মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জিইয়ে রাখছে, যা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করছে এবং স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদবিহীন এই ধাতুর প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।
এছাড়া অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ৮১ ডলার, প্লাটিনাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬৬ দশমিক ৮৫ ডলার হয়েছে। তবে প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। সূত্র: রয়টার্স
অমিয়/