মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরান। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এই হামলার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে এই উত্তেজনার ফলে তেলের বাজার পুনরায় অস্থির হয়ে উঠেছে।
সোমবার (৪ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩.৬৪ ডলার বা ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১১১.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৩.৪০ ডলার বা ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৩৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত শুক্রবার তেলের দামে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেলেও সপ্তাহের শুরুতেই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা চিত্র বদলে দিয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস সোমবার স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টাকালে তারা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার মুখে জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দ্রুত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, গতকাল তাদের কোনো জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আটকে পড়া জাহাজগুলোকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবে। তবে বাজারে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি। ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো মনে করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক না হবে, ততক্ষণ তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার প্রবণতাই বেশি।
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর নতুন হুমকিতে। তেহরান গতকাল স্পষ্ট করে বলেছে, মার্কিন বাহিনী যেন এই জলসীমায় প্রবেশের দুঃসাহস না দেখায়। যেকোনো উস্কানির বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যদিও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির চেষ্টা করছেন, কিন্তু তেহরান জানিয়েছে যুদ্ধ শেষ না হওয়া এবং সমুদ্রপথের অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
সাগরের এই অস্থিরতার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে 'ওপেক প্লাস' জোট আগামী জুন থেকে দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল অতিরিক্ত উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি টানা তৃতীয় মাসের মতো উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই বাড়তি উৎপাদন বাজারে তেমন স্বস্তি দিতে পারবে না। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে। সূত্র: রয়টার্স