ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা
Nagad desktop

স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন যারা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন যারা
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে। গত সপ্তাহে স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর তার দল লেবার পার্টির ভেতরেই শুরু হয়েছে নেতৃত্ব বদলের চাপ। একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ, এমপিদের প্রকাশ্য সমালোচনা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, স্টারমার সরে দাঁড়ালে কে আসবেন তার জায়গায়। এই আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকজনের নাম।

মার্কিন সাময়িকী টাইমের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখন নিজেকে টিকিয়ে রাখার লড়াই করছেন। তার দল লেবার পার্টিরই অন্তত ৮০ জন এমপি তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সরকারের চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তাদের দাবি–স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তারা আর আস্থা রাখতে পারছেন না।

সেফগার্ডিং মন্ত্রী জেস ফিলিপস পদত্যাগপত্রে স্টারমারকে ‘ভালো মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, ‘শুধু ভালো মানুষ হওয়াই যথেষ্ট নয়।’

যুক্তরাজ্যের আবাসন ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিয়াত্তা ফাহনবুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ও লেবার পার্টির স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়সূচি নির্ধারণ করার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য উদ্ভাবন ও নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী জুবির আহমেদ এবং নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা ও ভুক্তভোগীবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্সও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে পদত্যাগ করেন।

তবে মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, ‘দেশ চায় আমরা সরকার পরিচালনার কাজে মনোযোগ দেই। আমি সেটাই করছি। মন্ত্রিসভা হিসেবে আমাদেরও সেটাই করতে হবে।’ স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের দায় স্বীকার করার এক দিন পর তিনি এ কথা বলেন।

গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনের খারাপ ফল অনেক এমপির জন্য শেষ ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও বিতর্কিত পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে স্টারমারের সমালোচনা করে কেউ কেউ তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।

স্টারমার নতুন করে দল গোছানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তাতে উদ্বেগ কমেনি। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জন লেবার পার্টির এমপি তাকে সরে যাওয়ার সময়সীমা ঘোষণা করতে বলেছেন। তবে স্টারমার মন্ত্রিসভাকে মনে করিয়ে দেন, ‘তাকে সরানোর দাবি বাড়লেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ তোলা হয়নি।’

ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্টের হিসাব অনুযায়ী, কেউ যদি স্টারমারকে সরানোর জন্য নতুন করে দলীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চান, তবে সেই প্রার্থীকে লেবার পার্টির অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন পেতে হবে। বর্তমান সংসদের আসন সংখ্যা অনুযায়ী এর অর্থ হলো, অন্তত ৮১ জন এমপির সরাসরি সমর্থন লাগবে।

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক টিম বেল টাইমকে বলেন, ‘একবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গেলে মূল লড়াইটি চলে যায় লেবার পার্টির সাধারণ কর্মী-সমর্থক, সহযোগী সংগঠন এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের হাতে। তারাই ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত নেতা বেছে নেন।’

নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াও স্টারমারকে সরানোর আরেকটি পথ রয়েছে বলে মনে করেন টিম বেল। তিনি বলেন, ‘যদি মন্ত্রীরা ‘দলবেঁধে পদত্যাগ শুরু করেন এবং তাদের জায়গায় নতুন কাউকে বসানো কঠিন কিংবা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।’

এমন ঘটনা ২০২২ সালেও ঘটেছিল। তখন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একের পর এক নৈতিকতাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সরকারের ৫০ জনের বেশি সদস্য পদত্যাগ করায় শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান।

স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব সংকটে পড়ায় ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি পদত্যাগ করলে বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হলে তার জায়গায় কে আসতে পারেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইউগভের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রিটিশ জনগণের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেবার রাজনীতিক তিনি। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ মানুষ তার সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। সেখানে স্টারমারের জনপ্রিয়তার হার ১৯ শতাংশ। তবে কার্যকর প্রার্থী হতে হলে বার্নহ্যামকে আগে উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবার হাউস অব কমন্সে ফিরতে হবে। এজন্য লেবার পার্টির কোনো এক এমপিকে আসন ছাড়তে হবে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক টনি ট্রাভার্স বলেন, ‘বার্নহ্যামের দলের সদস্যদের মধ্যে শক্ত সমর্থনভিত্তি রয়েছে। উত্তর ইংল্যান্ডে ভোটারদের সমর্থন টানার বিশেষ ক্ষমতাও তার আছে।’ 

ওয়েস স্ট্রিটিং

সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম বর্তমান স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং। খবর অনুযায়ী, স্টারমার সরে দাঁড়ালে নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে তিনিও আগ্রহী।

টনি ট্রাভার্স বলেন, ‘স্ট্রিটিংয়ের এমন একটি দক্ষতা আছে, যা কিয়ার স্টারমারের নেই। আর সেটি হলো নিজের কাজকে মানুষের কাছে দৃশ্যমান ও সহজবোধ্য করে তোলা।

গত দুই বছরে তিনি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (এনএইচএস) আরও ডিজিটাল করার পক্ষে জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৯ সালের মধ্যে এনএইচএসের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

ট্রাভার্সের মতে, স্ট্রিটিংকে লেবার পার্টির মধ্যপন্থি বা মধ্য ডানপন্থি অংশের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়।

অ্যাঞ্জেলা রেইনার

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন লেবার পার্টির সাবেক ডেপুটি নেতা অ্যাঞ্জেলা রেইনারও। ইউগভের জরিপে তার ইতিবাচক জনপ্রিয়তার হার ২৪ শতাংশ।

অধ্যাপক টনি ট্রাভার্স বলেন, দলের ভেতরে, বিশেষ করে ব্যাকবেঞ্চ এমপি ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে রেইনার বেশ জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি অনেক রাজনীতিকের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।

তবে নিজের বাড়ির কর কম পরিশোধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে স্টারমারের নৈতিকতাবিষয়ক উপদেষ্টা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, তিনি মন্ত্রীদের আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।

পদত্যাগপত্রে রেইনার বলেন, ‘অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ কর পরামর্শ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এই ভুলের সব দায় আমি নিচ্ছি।’

তবে তার করসংক্রান্ত সরকারি তদন্তের ফল শিগগিরই প্রকাশ হতে পারে। এতে হয়তো তাকে সব ধরনের অভিযোগ থেকে মুক্ত ঘোষণা করা হবে।

রেইনারও বার্নহ্যামকে সম্ভাব্য উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সময়ের দাবি অনুযায়ী পরিবর্তনের গুরুত্ব আমরা বুঝি, এটি দেখাতে হলে আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের পার্লামেন্টে আনতে হবে।’

এড মিলিব্যান্ড

আলোচনায় রয়েছে লেবার পার্টির সাবেক নেতা এড মিলিব্যান্ডের নামও। বর্তমানে তিনি স্টারমারের মন্ত্রিসভায় জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরোবিষয়ক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক টনি ট্রাভার্স বলেন, ‘দলের সদস্যদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়। তবে সমস্যা হলো, তিনি আগে দলীয় নেতা ছিলেন এবং সাধারণ নির্বাচনে জিততে পারেননি।’

তবে বার্নহ্যাম যদি নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে এমপি হতে ব্যর্থ হন, তাহলে মিলিব্যান্ডকে অন্তর্বর্তী বা সাময়িক নেতা হিসেবে দেখা হতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর ইরাক তার আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘ইরাকের সব বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিচ্ছে’ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন’ করা অব্যাহত রাখবে।

৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রথম ঘটনা হিসেবে রবিবার সন্ধ্যায় ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরাক ৭২ ঘণ্টার জন্য তার আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, সোমবার (৮ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তর জানায়, ইরান ইসরায়েলকে ‘বেদনাদায়ক জবাব’ দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ‘সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে’।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তবে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, যদি দক্ষিণ লেবাননসহ অন্য কোথাও আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও বিধ্বংসী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রিফাত/

শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিতে প্রথমদিকে অনিচ্ছুক ছিল তেল আবিব। অনেকের মতে, ইসরায়েল শুধু যুদ্ধ অব্যাহত রাখতেই আগ্রহী ছিল না, বরং এই সংঘাত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।

সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার একটি ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, নেতানিয়াহু অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ধারণা করা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত না করতে এবং বৈরুতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছিলেন। 

এ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর ইসরায়েলের একটি অংশের কাছে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে শুধু একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবেই নয়, বরং ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকেও উপেক্ষা করতে প্রস্তুত একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন।

ফলে যখন তাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, তখন বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তার জন্য খুব ইতিবাচক বার্তা বহন করেনি। 

অনেক ইসরায়েলির মধ্যে এমন প্রত্যাশাও ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা বা আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর হাতে কোনো না কোনো গোপন কৌশল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী অংশের স্বার্থ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই সংঘাত অপরিহার্য। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি প্রতিষ্ঠা।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পেছনে কেবল নিরাপত্তা বা কৌশলগত বিবেচনাই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও কাজ করছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য নির্বাচন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রশ্নে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

থিও/

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু এবং ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) এই দুর্যোগের ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেশ কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করার পর জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও অঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকা, যা ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও পরিবহন কেন্দ্র ‘জেনারেল সান্তোস সিটি’র কাছাকাছি অবস্থিত।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পের ফলে বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়াসহ ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আটকেপড়াদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরবর্তীতে সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক জায়গার সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বা কমিয়ে আনা হয়।

তা সত্ত্বেও, পূর্বসতর্কতা হিসেবে উপকূলীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের ওপরও। নিরাপত্তার স্বার্থে ‘জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়, যার ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পে ডজন খানেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে পুনরায় প্রবেশ না করার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

জনপ্রিয় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের বড় আকারের প্রাকৃতিক বিপর্যয় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি আবারও তা মনে করিয়ে দিল।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

মিন্দানাওজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোকে সব ধরনের সহায়তা দিতে এবং চলমান ঝুঁকিগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ও হেলথ ইনস্যুরেন্স জার্নাল

তামান্না রুপা/

ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা
ছবি: আল জাজিরা থেকে

ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ইসরায়েল ইরানের মাহশাহরের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করার পর এই হামলা চালাল ইরান।

কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি ফ্লেক্সিবল ফোম এবং রিজিড ফোম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উৎপাদন করে। এই রাসায়নিকগুলোর মধ্যে একটি হলো টলুইন ডাইআইসোসায়ানেট (টিডিআই), যা এই অঞ্চলে একমাত্র ইরানই উৎপাদন করে থাকে।

বৈশ্বিক সরবরাহের ক্ষেত্রে, এই রাসায়নিকের ইরানি রপ্তানি মোট বাজারের ২ শতাংশেরও কম, তাই এর প্রভাব ততটা গভীর নয়।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলের হাইফায় একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালিয়েছে।

তারা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলে বেসামরিক ও জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী থাকবে।

থিও/অমিয়/